জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নিয়োগ নিয়ে শুরু হয়েছে নানামুখী বিতর্ক। অভিযোগ করা হচ্ছে যার নিয়োগ নিয়েই ঝামেলা রয়েছে তাকেই দেয়া হয়েছে ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শকের কাজ। তাই এ নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

অভিযোগ রয়েছে, কলেজ পরিদর্শক হিসাবে নতুন নিযোগ পাওয়া নাজিম উদ্দিন আহমেদ ভুয়া তথ্য ও জাল একাডেমিক সনদ জমা দিয়ে ২০০৩ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে (এনইউ) নিয়োগ পেয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তার নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব দিয়েছে। যার একটি ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক এবং আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোর সমন্বয় দফতরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত)। এনইউ সূত্র অনুযায়ী, নাজিম উদ্দিনকে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। তার নথিপত্র দ্রুত পরীক্ষা করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সূত্রে জানা যায়, নাজিম উদ্দিন আহমেদ ২০০৩ সালের ২২ ডিসেম্বর ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে স্নাতকোত্তর সনদ জমা দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকশন অফিসার হিসেবে যোগ দেন। পরে তিনি পদত্যাগ করেন এবং ২২ ফেব্রুয়ারি ২০০৪ সালে স্থায়ী সিনিয়র প্রোগ্রামার হিসেবে আবার নিয়োগ পান। তবে ৪ জানুয়ারি ২০০৪ তারিখে জারি করা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সার্কুলারে স্পষ্টভাবে বলা ছিল যে, সিনিয়র প্রোগ্রামার পদের জন্য পদার্থবিজ্ঞান, ইলেকট্রনিক্স বা কম্পিউটার বিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে, অন্তত তিনটি প্রথম বিভাগ/শ্রেণী থাকতে হবে, এবং ওয়েব ডেভেলপমেন্টে ন্যূনতম দুই বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ঈ/ঈ++, ঔধাধ ও ঐঞগখ-এর মতো প্রোগ্রামিং ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে। সূত্রের দাবি, নাজিম উদ্দিন নিয়োগের সময় এসব একাডেমিক ও কারিগরি যোগ্যতা পূরণ করেননি।

তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত তথ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলেও জানা যায়। এনইউ সূত্র জানায়, তার দু’টি নিয়োগ নথিতে স্থায়ী ঠিকানা ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেকশন অফিসার পদে নিয়োগের সময় কাশিমপুর, নোয়াখালী এবং সিনিয়র প্রোগ্রামার পদে নিয়োগের সময় নিজেকে ঢাকার বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করেন। একটি তদন্তে এসব অসঙ্গতি ধরা পড়লে তদন্ত সংস্থার সুপারিশে তাকে বরখাস্ত করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে নাজিম উদ্দিন আহমেদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন।