এবার ২ দিনে টেস্ট জিতল ইংল্যান্ড
Printed Edition
ক্রীড়া ডেস্ক
পেসারদের স্বর্গরাজ্য এমসিজি, এটা আবার প্রমাণ হলো অ্যাশেজ সিরিজের চতুর্থ টেস্টে। প্রথম দিনে পতন হয়েছিল ২০ উইকেট। আর দ্বিতীয় দিনেই ম্যাচ শেষ। সিরিজের প্রথম টেস্টের মতো চতুর্থটিও শেষ হলো দুই দিনেই। তবে পার্থক্যটা হলো প্রথম টেস্ট জিতে সিরিজ এগিয়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। আর চতুর্থ টেস্টে জয়ের মধ্য দিয়ে ৫৪৬৮ দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটাল ইংল্যান্ড। পাঁচ ম্যাচ অ্যাশেজ সিরিজ ৩-০তে আগেই জয় নিশ্চিত করেছিল অসিরা। স্বাগতিকদের বিপক্ষে হেরে যাওয়া সিরিজের চতুর্থটিতে তাদেরই মাটিতে চার উইকেটে হারিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর পর টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বেন স্টোকসরা। এর আগে সবশেষ ২০১১ সালের জানুয়ারিতে সিডনিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে স্মরণীয় এক টেস্ট সিরিজ জিতেছিল ইংল্যান্ড। এরপর অসিদের মাটিতে ১৮ টেস্ট খেলে ১৬টি হার ও দু’টি ড্র ইংলিশদের।
দুই দিনে শেষ হওয়া অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে খেলা হয়েছিল ৮৫২ বল। আর পাঁট বল বেশি খেলে টেস্টের রেজাল্ট হয়েছে মেলবোর্নে। অ্যাশেজে একই সিরিজে একাধিক টেস্ট দুই দিনে শেষ হলো ১৩৭ বছর পর।
মেলবোর্নে বক্সিং ডে টেস্টে ইংল্যান্ডের এই জয়ের মূল কারিগর ছিলেন পেসাররা। টস জিতে ফিল্ডিংয়ে নেমে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৫২ রানেই গুটিয়ে দিয়েছিলের জশ টং, গাস অ্যাটকিনসনরা। এত অল্প রানে স্বাগতিকদের থামিয়ে আনন্দটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি সফরকারীদেরও। এক সেশনে ১১০ রানেই অলআউট হয় ইংল্যান্ড। ৪২ রানে এগিয়ে থেকে প্রথম দিন এক ওভারে চার রান নিয়ে শেষ করেছিল স্টিভেন স্মিথের দল। দ্বিতীয় ইনিংসে দ্বিতীয় দিন আর ১২৮ রান যোগ করতেই অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। ব্রাইডন কার্স চারটি, বেন স্টোকস তিনটি ও দু’টি উইকেট নেন জশ টং। এতে টেস্ট জিততে ১৭৫ রানের লক্ষ্য পায় ইংল্যান্ড।
এমসিজির পেস-স্বর্গে ১৭৫ রানের লক্ষ্যটা ছিল অনেক কঠিন। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই টেস্টের প্রথম তিন ইনিংস উইকেট থেকে পেস বোলাররা যেভাবে সুবিধা পেয়েছেন, চতুর্থ ইনিংসে সেভাবে পেসারদের জন্য সহায়ক ছিল না। ফলে ম্যাচ জিততে অনেকটা সহায় হয়ে যায় সফরকারীদের। রান তাড়ায় শুরুটা অবশ্য আগ্রাসী ছিল ইংল্যান্ডের। ওপেনিং জুটিতে জ্যাক ক্রাউলি ও বেন ডাকেটের ৫১ রানের জুটি। এরপর স্টার্কের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে ফেরেন ৩৪ রান করা ডাকেট। দলীয় স্কোরে ১৪ রান যোগ হতেই ছয় রান নিয়ে সাজঘরে ফেরেন ব্রাইডন কার্স। এবার জ্যাকব বেথেলকে নিয়ে ৪৭ রানের জুটির পর বোলান্ডের বলে এলবি হন ৩৭ রান করা ক্রাউলি। এরপর কয়েক দফায় হোঁচট খেলেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড। দলের জয়ে পথে সর্বোচ্চ ৪০ রানের ইনিংস খেলে বোলান্ডের বলে খাজার ক্যাচে পরিণত হন বেথেল। দু’টি করে উইকেট নেন স্টার্ক, বোলান্ড ও রিচার্ডসন। দুই ইনিংসে সাত উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন ইংলিশ পেসার জশ টং। এতে ১৯৯৮ সালের পর প্রথম ইংলিশ পেস বোলার হিসেবে অ্যাশেজ টেস্টে ম্যাচসেরা হন তিনি।