রিমান্ড শেষে দুই আসামি কারাগারে

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাইযোদ্ধা, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা মামলার দুই আসামি সিবিয়ন দিউ ও সঞ্জয় চিসিমকে দুই দফায় রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার আট দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের আদালতে হাজির করে ডিবি পুলিশের মতিঝিল আঞ্চলিক টিমের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তবে কী সেই চাঞ্চল্যকর তথ্য, সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কিছু বলেননি তিনি।

আদালতে দেয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ২১ ডিসেম্বর থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিমান্ডে থাকাবস্থায় আসামিরা ঘটনার নেপথ্যে থাকা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। জানা গেছে, সিবিয়ন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় একটি মানবপাচার ও চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের সদস্য। তারা এই সিন্ডিকেটের হোতা ফিলিপের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।

গোয়েন্দা সূত্র ও তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই মামলার প্রধান পলাতক আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা ভারতে পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারে। সিবিয়ন ও সঞ্জয় এই পলায়ন প্রক্রিয়ায় সরাসরি জড়িত থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আসামিরা কৌশলে নিজেদের সম্পৃক্ততা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

সিবিয়ন দিউ ও সঞ্জয় চিসিমকে ১৫ ডিসেম্বর সীমান্ত এলাকা থেকে বিজিবি আটক করার পর ১৮ ডিসেম্বর এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। প্রথম দফায় তিন দিন এবং দ্বিতীয় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল তাদের কারাগারে পাঠানো হলো।

তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে আসামিদের আবারো রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় চলন্ত রিকশায় গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেয়া হলে সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর মামলা দায়ের করা হয়, যা পরে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। মামলায় এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।