ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ শুরু

মধ্যস্থতায় পাকিস্তান, শান্তির সন্ধিক্ষণে মধ্যপ্রাচ্য

Printed Edition
first-1
ইসলামাবাদে বিমান থেকে নামার পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (বাঁয়ে) ও ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির : এএফপি

মনির আহমেদ, পাকিস্তান থেকে

আলোচনার মূল এজেন্ডা: জটিলতা ও মতপার্থক্য

ইসলামাবাদ সংলাপ মূলত দুটি প্রস্তাবনার ওপর ভিত্তি করে এগোচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা পরিকল্পনা এবং ইরানের ১০ দফা কাঠামো। তবে এই দুই প্রস্তাবের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

প্রধান ইস্যুগুলো হলো-

  • পারমাণবিক কর্মসূচি
  • নিষেধাজ্ঞা
  • হরমুজ প্রণালী
  • আঞ্চলিক প্রভাব
  • সামরিক উপস্থিতি
  • ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও নিরাপত্তা

দীর্ঘ উত্তেজনা, তুমুল সঙ্ঘাত এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থার পর অবশেষে ইসলামাবাদে মুখোমুখি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ‘ইসলামাবাদ টকস’ নামের বহুল প্রতীক্ষিত এই সংলাপ শুধু একটি কূটনৈতিক বৈঠক নয়; বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো নির্ধারণের সম্ভাব্য সূচনাবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে পাকিস্তান।

সঙ্ঘাতের ত্রিশুলের উপর দাঁড়িয়ে থাকে ঘটনার দিকনির্দেশনা। তাই তো যখন বাদাবাদির মাত্রা তুঙ্গে উঠল ইরান আর আমেরিকার মনোজগতে, সেই সাথে অস্ত্রের ঝনঝনানি বিশ্বকে ভাবিয়ে তুলল, তখন পাকিস্তানের মাটিতে টেনে আনা হলো অবস্থানে অনড় দুই শক্তিধরকে। দু’পক্ষকেই না জানি কোন জাদুর ছড়ি মেরে ঘায়েল করা হলো! তাই তো বিস্ময়করভাবে আলোচনার টেবিলে বসল ওরা। পাকিস্তান এতে বিশেষ ভূমিকা নিলো। বিদেশী রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে ভূয়সী প্রশংসার বার্তা এলো। সমগ্র বিশ্ব তাকিয়ে এখন আলোচনার ফলাফলের দিকে।

গতকাল শনিবার পাকিস্তানের রাজধানীতে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের সাথে আলাদা বৈঠক করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, এই সংলাপ ‘টেকসই শান্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ’Ñ একটি ‘স্টেপিং স্টোন’ হতে পারে। তার ভাষায়, ‘সঙ্ঘাত নয়, সংলাপই এখন একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ।’ এরপর পাকিস্তানি নেতারাসহ বিবদমান দুই দেশের প্রতিনিধিরা ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় বসেন।

প্রসঙ্গত, এটি শুধু একটি যুদ্ধবিরতির বিষয় নয়, প্রায় ৪৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে যে শত্রুতা বিরাজ করছে সেটিরও বিষয়।

ইতিবাচক পরিবেশে আলোচনা : ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। ইসলামাবাদে শুরু হওয়া সরাসরি আলোচনা প্রায় দুই ঘণ্টা চলার পর নৈশভোজের বিরতি দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার প্রথম দফার শেষে দুই প্রতিনিধিদল লিখিত বার্তাবিনিময় করেছে। প্রতিনিধিদলের প্রাথমিক আলোচনার পর বৈঠকে বসেন বিশেষজ্ঞরা।

শুরুতে বলা হচ্ছিল, দুই দেশের প্রতিনিধিরা পরোক্ষভাবে আলোচনায় অংশ নেবেন। তবে পরে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সরাসরি আলোচনা শুরু হয়Ñ এটাকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এরইমধ্যে অনেকগুলো বিষয় আলোচনায় এসেছে। আলজাজিরা বলছে, লেবাননে যা ঘটছে তার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। কিছু সূত্র ইঙ্গিত দেয়, (ইসরাইলের) অভিযান এখন লেবাননের দক্ষিণে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং বৈরুতে আর কোনো হামলা হবে না।

এটি খুব প্রাথমিক পর্যায় বলে এখনো বিষয়গুলো নিশ্চিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আলজাজিরা বলছে, রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলছে। ধীরে ধীরে তথ্য আসছে কিন্তু তা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা খুব কঠিন।

ইরানের সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে রাজি যুক্তরাষ্ট্র : ইরানের প্রতিনিধিদলের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, ইরানের স্থগিত সম্পদ ছাড় দিতে রাজি হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর ইরান আলোচনায় অংশ নিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়ে সম্মত হয়েছে কি না তা জানায়নি।

ইসলামাবাদ আলোচনা শুরু হওয়ার আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইরানের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, কাতার এবং অন্যান্য বিদেশী ব্যাংকে জব্দ ইরানের সম্পদ ছাড় করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে। তবে বিষয়টি নজরে আসার পর তখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের দফতর হোয়াইট হাউজ বিষয়টি অস্বীকার করে।

আলোচনা আজও চালিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা : ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা আজ রোববারও চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান। একটি সূত্রের বরাত দিয়ে আলজাজিরা বলছে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একটি প্রচেষ্টা চলছে যাতে, এই আলোচনা আরো এক দিন চালিয়ে যায় দুই পক্ষ। এতে এমন কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে যা দুই পক্ষকে চুক্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে। প্রথম দফার আলোচনায় দুই পক্ষ সেই পর্যায়ে পৌঁছেনি।

কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ইসলামাবাদ : বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদকে একটি কার্যকর কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্মে রূপ দিতে চায় পাকিস্তান। দীর্ঘদিন ধরে নিজেদেরকে মুসলিম বিশ্ব ও পশ্চিমা শক্তির মধ্যে একটি ‘ব্রিজ স্টেট’ হিসেবে উপস্থাপন করে আসছে দেশটি। ‘ইসলামাবাদ টকস’ সেই প্রচেষ্টারই বাস্তব প্রতিফলন।

এই সংলাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সাথে ছিলেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জারেদ কুশনার। অন্য দিকে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তার সাথে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতার কৌশল : দুই পক্ষের সাথে পৃথক বৈঠকে শাহবাজ শরিফ জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তান কেবল আলোচনার আয়োজক নয়; বরং একটি সক্রিয় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আস্থা গড়ে তোলার কাজ করবে।

তার সাথে বৈঠকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন রেজা নকভি।

পাকিস্তানের কূটনৈতিক কৌশলের মূল লক্ষ্য হলোÑ উভয় পক্ষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করা; সংলাপকে ধারাবাহিক ও ফলপ্রসূ করা; যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপান্তর করা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান ‘ফ্যাসিলিটেটর’ থেকে ধীরে ধীরে ‘মিডিয়েটর’-এর ভূমিকায় উন্নীত হওয়ার চেষ্টা করছে।

যুদ্ধ থেকে সংলাপ : এই সংলাপের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী সঙ্ঘাত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সমন্বিত হামলায় ইরানের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় আঘাত হানার মাধ্যমে সঙ্ঘাতের সূচনা হয়। কয়েক সপ্তাহের লড়াইয়ে দুই হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।

পাল্টা জবাবে ইরান গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল ব্যাহত করে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়। অবশেষে ৮ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, যেখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে পাকিস্তান। সেই যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিকতায় শুরু হয়েছে এই সংলাপ।

উত্তেজনার কেন্দ্র হরমুজ প্রণালী ও লেবানন : যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে বিরোধ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল।

একই সাথে লেবাননে হিজবুল্লাহকে ঘিরে সঙ্ঘাতও আলোচনার ওপর ছায়া ফেলছে। ইরান মনে করে, লেবানন পরিস্থিতি এই সংলাপের অবিচ্ছেদ্য অংশ; অন্য দিকে যুক্তরাষ্ট্র এটিকে আলাদা ইস্যু হিসেবে দেখছে।

ইরানের শর্ত ও ‘রেড লাইন’ : সংলাপ শুরুর আগেই ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে তাদের অবস্থান। মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, আলোচনায় অগ্রগতি চাইলে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু পূর্বশর্ত পূরণ করতে হবেÑ বিদেশে অবরুদ্ধ ইরানি সম্পদ মুক্ত করা; লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। ইরান এই বিষয়গুলোকে তাদের ‘রেড লাইন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এমনকি এক ইরানি কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, এসব শর্ত পূরণ না হলে সংলাপ ভেঙে পড়তে পারে।

আলোচনার মূল এজেন্ডা : জটিলতা ও মতপার্থক্য

ইসলামাবাদ সংলাপ মূলত দু’টি প্রস্তাবনার ওপর ভিত্তি করে এগোচ্ছেÑ যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা পরিকল্পনা এবং ইরানের ১০ দফা কাঠামো। তবে এই দুই প্রস্তাবের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

প্রধান ইস্যুগুলো হলোÑ

১. পারমাণবিক কর্মসূচি : যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তার পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করুক এবং আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় থাকুক। ইরান বলছে, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি তাদের সার্বভৌম অধিকার। ২. নিষেধাজ্ঞা : ইরান তাৎক্ষণিকভাবে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায়। যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে শিথিল করার পক্ষে। ৩. হরমুজ প্রণালী : ইরান প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি চায়, যুক্তরাষ্ট্র চায় অবাধ নৌচলাচল। ৪. আঞ্চলিক প্রভাব : যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে বলছে। ইরান পাল্টা দাবি করছে, এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে। ৫. সামরিক উপস্থিতি : ইরান মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার চায়। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে অনড়। ৬. ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও নিরাপত্তা : যুক্তরাষ্ট্র সীমাবদ্ধতা চায়, ইরান এটিকে আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে দেখে।

মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের অতীত সাফল্য : ইতঃপূর্বে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সেতুবন্ধে পাকিস্তানের ভূমিকা ছিল। আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ক্ষণে পাকিস্তানকেই মধ্যস্থতা করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। এবারো সেই পাকিস্তানকেই এগিয়ে আসতে হলো। হয়তো এর মধ্য দিয়েই পাকিস্তান তার ভবিষ্যতের চলার পথকে সুগম করে নিতে পারবে।

অনেকের মুখে প্রশ্ন, পাকিস্তানের হাতে কোন জাদুর কাঠি বিদ্যমান যার ছোঁয়ায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এক টেবিলে বসতে সম্মত হলো। ঘটনাদৃষ্টে মনে হয়, শান্তির খোঁজে হয়তো নয়, বরং উভয় দেশই সময় খুঁজছে ভবিষ্যতের জন্য জোরালোভাবে নিজের অবস্থা নিশ্চিত করতে। জানা গেছে, চীনের কাছ থেকে উন্নতমানের সমরাস্ত্র আসছে ইরানের গুদামে যত শিগগির সম্ভব। আবার যুক্তরাষ্ট্রও নতুনভাবে নিজেকে ঢেলে সাজাতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেছে। ফলে বর্তমান আলোচনার আড়ে ভবিষ্যতের জন্য উভয় দেশই নতুন সঙ্ঘাতের দিকে কদম বাড়াচ্ছে বলে ধারণা অনেকের।

আলোচনার টেবিলে এমন সব জটিল বিষয় উত্থাপিত হবে যার সমাধান এক কলমের খোঁচায় সম্ভব নয়। আবার সময় দিলে যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তি যে নতুন কৌশল নেবে না তা-ও সঠিক করে বলা কঠিন। কেননা ভিয়েতনাম বা আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র কিছুই শিখতে চায়নি। এবারো যে নিজের পরাজয় মেনে নেবে এত সহজে তাতেও সন্দেহ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও কূটনৈতিক সমর্থন : এই সংলাপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।

পাশাপাশি পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফসহ পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলোও এই সংলাপের সফলতা কামনা করেছে। দলটির নেতা ইমরান খান বলেছেন, এই সংলাপ আঞ্চলিক শান্তি ও মুসলিম বিশ্বের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

মাঠপর্যায়ের সহিংসতা থামেনি : কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সহিংসতা এখনো থামেনি। দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় বেসামরিক ও জরুরি সেবাকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনা সংলাপের পরিবেশকে জটিল করে তুলছে। একই সময়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিপুল সংখ্যক খালি তেলবাহী জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছেÑ যা সম্ভাব্য জ্বালানি পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত বহন করে।