ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর দারুণ সুযোগ তৈরি করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেছে স্বাগতিকরা। এতো বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে এর আগে ঘরের মাঠে কখনো জেতেনি অস্ট্রেলিয়া।

নিজেদের মাটিতে প্রথম ইনিংসে সবচেয়ে বড় ঘাটতি কাটিয়ে জয়ের রেকর্ড ২০৬ রানের। ২০১০ সালে সিডনিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই ঘাটতি পেরিয়ে জয় পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ডারউইনে বাংলাদেশের ২২৮ রানের লিড সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।

টেস্ট ইতিহাসে অবশ্য এমন পরিস্থিতি থেকে অস্ট্রেলিয়া একবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ১৯৯২ সালে কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২৯১ রানে পিছিয়েও ১৬ রানে জিতেছিল অ্যালান বোর্ডারের দল। তবে সেটি ছিল দেশের বাইরে।

পরিসংখ্যানও বাংলাদেশের পক্ষেই কথা বলছে। কোনো দল প্রথম ইনিংসে ২০০ বা তার বেশি রানের লিড নিলে ৮০.৬ শতাংশ ক্ষেত্রে ম্যাচ জিতেছে। ড্র হয়েছে ১৮.৩ শতাংশ ম্যাচ, আর পিছিয়ে থাকা দল জিতেছে মাত্র ১.১ শতাংশ ক্ষেত্রে।

অস্ট্রেলিয়ার জন্য কাজটা আরো কঠিন। ২০০ বা তার বেশি রানে পিছিয়ে থেকেও তাদের জয়ের হার মাত্র ৩.৬৫ শতাংশ। এমন ৮২ ম্যাচে জয় এসেছে মাত্র তিনটিতে। ফলে স্বপ্ন দেখতেই পারে বাংলাদেশ।

এরই মাঝে বাংলাদেশের বোলাররা অস্ট্রেলিয়ার দুই বড় ভরসা ট্রাভিস হেড ও স্টিভ স্মিথকেও সাজঘরে পাঠিয়ে দিয়েছেন। ৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে অজিরা। ফলে ম্যাচে টিকে থাকাই এখন স্বাগতিকদের বড় চ্যালেঞ্জ।

ম্যাচ বাঁচাতে অস্ট্রেলিয়াকে দীর্ঘ সময় ব্যাট করতে হবে। সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারের হিসাব, অন্তত ১২৫ থেকে ১৫০ ওভার ব্যাট করে ৫০০ থেকে ৫৫০ রান তুলতে পারলেই কেবল ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কিন্তু প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেয়া বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ এখন আরো আত্মবিশ্বাসী। দ্বিতীয় ইনিংসেও দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের খুব কাছাকাছি চলে যাবে বাংলাদেশ।

ম্যাচের সমীকরণ তাই পরিষ্কার—অস্ট্রেলিয়ার সামনে ইতিহাস বদলানোর চ্যালেঞ্জ, আর বাংলাদেশের সামনে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। তবে সবকিছু হতে হবে হিসেব কঁষে। কেননা ক্রিকেট বরাবরই চির অনিশ্চয়তার খেলা।