সৌদি উপমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক
কনসুলার সেবার পরও অনেক কর্মী সমস্যায়
Printed Edition
সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রতিনিয়ত প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিভিন্ন ধরনের কনসুলার সেবা দেয়ার পরও অনেক শ্রমিক এখনো দেশটির বিভিন্ন জায়গায় নানা সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। তাদের মধ্যে আবার কেউ কেউ দেশটিতে মানবেতর জীবন কাটিয়ে উপায় না পেয়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে সৌদি আরবের উপমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ আলখারিজির সাথে দুই দেশের আগ্রহের বিষয়গুলো নিয়ে দেশটিতে থাকা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দেলোয়ার হোসেন সাক্ষাৎ করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার রিয়াদে তাদের মধ্যে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে জানানো হয়। বলা হয়, সাক্ষাতের সময় রাষ্ট্রদূত দেলোয়ার হোসেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছ থেকে সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ, ক্রাউন প্রিন্স ও সৌদি আরবের প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত বার্তা হস্তান্তর করেন। সৌদি উপমন্ত্রীর সাথে রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে পারস্পরিক আগ্রহের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে দেশটিতে অবস্থান করা নানা পেশার প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য কনসুলার, কল্যাণ ও ব্যাংকিং সেবা প্রতিনিয়ত দিয়ে যাচ্ছেন।
সর্বশেষ বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান মো: রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বার্তায় বলা হয়েছে, আগামী ১৬ থেকে ১৭ মে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এন্তেহারা সাদিম ও বুরাইদা এলাকায় কনসুলার টিম তাদের বিভিন্ন সেবা প্রদান করবে। এর মধ্যে ই-পাসপোর্ট, শ্রম কল্যাণ সংক্রান্ত সেবা, সোনালী ব্যাংকের সেবা, ট্রাভেল পারমিট প্রদান, সকল প্রকার কনসুলার ডকুমেন্টস সত্যায়ন, আমমোক্তারনামা প্রদান ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য পত্র দেয়া হবে বলেও ওই বার্তায় বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বৃহত্তম শ্রমবাজার সৌদি আরবে বর্তমানে ২৫ লাখেরও বেশি বৈধ বাংলাদেশী অবস্থান করছেন। তবে এদের মধ্যে কতজন শ্রমিক প্রতারিত হয়ে দেশটির কারাগারে আটক আছেন, আবার কতজন শ্রমিক চুক্তি মোতাবেক কাজ না পেয়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরেছেন সে ব্যাপারে অদ্যাবধি দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সঠিক তথ্য গণমাধ্যমে দেয়া হয়নি। যদিও ঢাকার রিক্রুটিং এজেন্সির মনোনীত মধ্যস্বত্বভোগীদের খপ্পরে পড়ে ফ্রি ভিসার নামে (৩ মাসের আকামা) সৌদি আরব পাড়ি জমিয়ে হাজার হাজার শ্রমিক চুক্তি মোতাবেক কাজ পাননি। করাতে পারেননি আকামা। আর আকামা না থাকায় অনেক শ্রমিককে পালিয়ে থেকে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে।
এমন শত শত অভিযোগ বিএমইটির অভিযোগ সেলে জমা পড়ার পর থেকেই জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক সালেহ আহমদ মোজাফফর সৌদি আরবগামী কর্মীদের বহির্গমন ছাড়পত্র দেয়ার আগে দূতাবাস থেকে কর্মী সত্যায়ন আনার উপর বাধ্যতামূলক করে দেন। এরপরই প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয় থেকে এই সংক্রান্ত একটি সার্কুলার বায়রার সকল সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়। এতে রিক্রুটিং এজেন্সির কিছু মালিক একক ভিসায় সকল দেশের জন্য দূতাবাসের সত্যায়ন বাধ্যতামূলক পদ্ধতি তুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে বিএমইটি অফিসের পরিচালক (বহির্গমন) মামুন মিয়ার অফিস ঘেরাও করে দিনভার বিক্ষোভ করেন। পরে কর্তৃপক্ষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যেসব কর্মীর নামে সৌদি আরবের ভিসার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে শুধুমাত্র সেই সব কর্মীর বহির্গমন ছাড়পত্র সত্যায়ন ছাড়াই বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়। যদিও এর পরের মাসগুলোতে যত ভিসা ইস্যু হয়েছে সেগুলোর বহির্গমন ছাড়পত্র বিএমইটি থেকে দেয়া হচ্ছে না বলে রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা জানিয়েছেন। আটকে থাকা এই সংখ্যাও অনেক বলে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর সূত্র জানিয়েছে।