জঙ্গল সলিমপুরে অস্ত্র কারখানা ও ওয়াচ টাওয়ার ধ্বংসের দাবি

যৌথবাহিনীর অভিযানে আটক ২২

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে সন্ত্রাসীদের আস্তানা, অস্ত্র তৈরির কারখানা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সাথে আলীনগর এলাকার বিভিন্ন প্রবেশপথ ও পাহাড়ের চূড়ায় স্থাপিত একাধিক ওয়াচ টাওয়ারও গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো: আহসান হাবীব পলাশ এসব তথ্য জানান।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, অভিযান চলাকালে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে মোট ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় যৌথবাহিনী তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র (একটি বিদেশী পিস্তল, একটি দেশীয় পিস্তল ও একটি এলজি), ২৭টি পাইপগান, ৩০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৫৭টি অস্ত্র তৈরির পাইপ, ৬১টি কার্তুজ এবং বিভিন্ন ধরনের এক হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। এ ছাড়া ১১টি ককটেল (বিস্ফোরক), পাইপগান তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। অভিযানে আরো উদ্ধার করা হয়েছে ১৯টি সিসি ক্যামেরা, তিনটি ডিভিআর, একটি পাওয়ার বক্স এবং দুইটি বাইনোকুলার। এগুলো অপরাধীদের নজরদারি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ জানান, আলীনগর এলাকার বিভিন্ন পাহাড়ে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও অস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। একই সাথে বিভিন্ন প্রবেশপথ এবং পাহাড়ের চূড়ায় স্থাপিত ওয়াচ টাওয়ারগুলোর কার্যক্রমও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এসব টাওয়ার ব্যবহার করে অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলাচল পর্যবেক্ষণ করত।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম, অবৈধ অস্ত্র মজুদ, পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি এবং অপরাধীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত সোমবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে যৌথবাহিনীর বৃহৎ আকারের বিশেষ অভিযান শুরু হয়।

অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), এপিবিএন, আরআরএফসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তিন হাজার ১৮৩ জন সদস্য অংশ নেন। পাশাপাশি সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযানে দায়িত্ব পালন করেন।

অভিযান পরিচালনায় তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি, র‌্যাব ও সিএমপির তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ কৌশল প্রয়োগ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় একযোগে চিরুনি অভিযান চালানো হয়।

অভিযান শেষে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধীদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ বন্ধ করা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দু’টি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ক্যাম্পে জেলা পুলিশ ও এপিবিএনের ১৩০ জন সদস্য এবং আলীনগর উচ্চবিদ্যালয় ক্যাম্পে আরআরএফ, এপিবিএন ও র‌্যাব-৭ এর ২৩০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া পুরো এলাকায় চেকপোস্ট ও পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

এ দিকে অভিযানে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় আটক ২২ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে দু’টি মামলার বাদি পুলিশ এবং একটি মামলার বাদি র‌্যাব। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো: রাসেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।