এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময় পুনর্বিন্যাস করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী শিক্ষাবর্ষে (২০২৭ সালে) জানুয়ারিতে এসএসসি, জুনে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৪তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কক্সবাজার-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য লুৎফুর রহমানের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাবর্ষকে সময়োপযোগী ও আন্তর্জাতিকমানের সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা জুন মাসে অনুষ্ঠিত হবে।
মন্ত্রী জানান, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ধাপে ধাপে শিক্ষাবর্ষের শুরু ও পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচির মধ্যে সামঞ্জস্য আনা এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সময়ের অপচয় কমানো সম্ভব হবে। সরকার পর্যায়ক্রমে পাবলিক পরীক্ষা আরো আগাম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করছে বলেও জানান মন্ত্রী।
পাবলিক পরীক্ষার জন্য আলাদা ও স্থায়ী কেন্দ্র করার পরিকল্পনা:
দেশে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘসময় বন্ধ রাখতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয়ে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবং শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘেœ চালু রাখতে পৃথক ও স্থায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার।
গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিন প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাবলিক পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদরাসা, কারিগরি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার জন্য পৃথক ও স্থায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণের উদ্দেশে একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বা ফিজিবিলিটি স্টাডি প্রস্তাব বর্তমানে অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে সমীক্ষার সুপারিশের ভিত্তিতে সারা দেশে পর্যায়ক্রমে স্থায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
শিগগিরই প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি : প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে শিগগিরই পদোন্নতি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রম সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিন ধরে খালি থাকা পদগুলো পূরণ হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৪তম দিনে সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী। লিখিত প্রশ্নে খায়রুল কবির খোকন জানতে চান, বর্তমানে ৩৪ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদ কবে পূরণ করা হবে এবং শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী ৮০ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের নিয়ম বাস্তবে কার্যকর করা হচ্ছে কি না।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি সংক্রান্ত রিট পিটিশনের বিষয়টি সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন শিগগিরই প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলোতে পদোন্নতি দেয়া হবে।
মন্ত্রী আরো জানান, আগের শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক পদের ৬৫ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হতো। তবে নতুন বিধিমালায় এই হার বাড়িয়ে ৮০ শতাংশ করা হয়েছে। নতুন বিধিমালা প্রণয়নের পর মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত ছিল। মামলা নিষ্পত্তি হওয়ায় এখন নতুন নীতিমালা অনুযায়ী ৮০ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে।