ময়মনসিংহে ইকবাল হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
দুই মহিলার ৭ বছরের কারাদণ্ড
Printed Edition
ময়মনসিংহ অফিস
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ময়মনসিংহের তারাকান্দায় কলেজছাত্র ইকবাল হত্যা মামলায় সাতজনের মৃত্যুদণ্ড ও দুই মহিলাকে সাত বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জেলা দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো: জাকির হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্তরা হলেন- আসিফ রানা নাঈম ওরফে রানা, তার পিতা মো: গোলাম হোসেন ওরফে গুলু মোহাম্মদ আলী, ফরিদ আহম্মেদ ওরফে বাবু, ইউনুছ আলী ওরফে ইন্নাছ আলী, শামছুল হক ও মান্নানের ছেলে আব্দুল হেলিম। এ ছাড়া গোলাম হোসেনর স্ত্রী মোছা: খালেদা আক্তার ও মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী মোছা: রেহেনা খাতুনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে একই পরিবারের আটজন রয়েছেন। এদের মধ্যে হেলিম ছাড়া সবাই একে অপরের চাচা-ভাতিজা ও স্ত্রী।
মামলার বিবরণে জানা যায়, শাহীনুর আলম ওরফে ইকবাল ময়মনসিংহ নগরীর রুমডো পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ছাত্র ছিল। সে ২০২১ সালের ৩১ মে রাতে তারাকান্দা উপজেলার পলাশকান্দা টানপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশের সাজ্জাদ মিয়ার চায়ের দোকানে যায়। এরপর রাতে আর বাড়ী ফিরেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তার কোনো হদিস না পেয়ে ইকবালের পিতা আব্দুর রউফ তারাকান্দা থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর তারাকান্দা থানার পলাশকান্দা গ্রামের বাঁশঝারে পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক থেকে গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২০২১ সালের ৬ জুন শাহীনুর আলম ওরফে ইকবালের ভাই সেলিম মিয়া বাদি হয়ে সন্দেহভাজন একই গ্রামের গোলাম হোসেনের ছেলে আসিফ রানা নাঈম ওরফে রানাসহ সঙ্গীয়দের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করে।
সেলিম মিয়া মামলায় উল্লেখ করেন, তাদের পরিবারের সাথে একই গ্রামের গোলাম হোসেন ওরফে গুলুর পরিবারের জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। তারাকান্দা উপজেলার পলাশকান্দা টানপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে রাতের খাবার খেয়ে বের হয়ে বাড়ির পাশে সাজ্জাদ মিয়ার চায়ের দোকানে যায় শাহীনুর আলম ওরফে ইকবাল। এরপর রাত ১১টার দিকে ওই দোকান থেকে ড্রিংকস ও সিগারেট কিনে একই গ্রামের গোলাম হোসেনের ছেলে আসিফ রানা নাঈম ওরফে রানা ও রহিম উদ্দিন বাবুলের সাথে ঈদগাহ মাঠের দিকে যায়। এ সময় একই গ্রামের রুবেল মিয়া ক্ষেতের পানিতে মাছ ধরার সময় ইকবাল ও আসিফ রানাকে মাঠের এক কোণে সিগারেট খেতে দেখেন। এরপর আর বাড়ি ফিরেনি ইকবাল। এ ঘটনায় তারাকান্দা পুলিশ সন্দেহভাজন আসামি আসিফ রানা নাঈম ওরফে রানাকে আটক করে। গ্রেফতারকৃত রানা ৬৪ ধারায় হত্যার ঘটনার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ একই গ্রামের আব্দুল হেলিমকে গ্রেফতার করে। তার দেয়া স্বীকারোক্তিতে অপর সাত আসামিকে গ্রেফতার করে।
এরপর পুলিশ তদন্ত শেষে ৯ জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা মামলার চার্জশিট প্রদান করেন এবং দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে মঙ্গলবার বিকেলে জেলা দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো: জাকির হোসেন আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাতজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং দুই মহিলাকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান মামলার বাদি সেলিম মিয়া ও তার পরিবার। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আজিজ টুটুল সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আমরা আশা করি দ্রুত এই রায় কার্যকর হবে।’ অন্য দিকে আসামিপক্ষের অ্যাডভোকেট এ এইচ এম খালেকুজ্জামান এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।