ইরান যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হবে : তুরস্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
Printed Edition
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
ইরান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বে অর্থনৈতিক চাপ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, এটি ইতোমধ্যে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। জ্বালানিতে ভর্তুকি দেয়া এবং উন্নয়ন বাজেট কাঁটছাটের ধাক্কা শোষণের ক্ষমতা আমাদের নেই। এর অর্থ বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তুরস্কে আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরাম সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সংহতির চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। আলোচনায় পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ও আফগানিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী নূরউদ্দিন আজিজি অংশ নেন।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈদেশিক নীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
আলোচনায় বক্তারা একমত হন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘ দিনের বাধা দূর করে আঞ্চলিক সংহতি বাড়াতে টেকসই সংলাপ এবং কূটনীতিই একমাত্র কার্যকর পথ।
রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত : আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে ‘গ্লোবাল রিফিউজি প্রোটেকশন সিস্টেম ইন দ্য ফেস অব ডিসপ্লেসমেন্ট ক্রাইসিস’ বিষয়ক অধিবেশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটের টেকসই সমাধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেই নিহিত রয়েছে। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টা আরো জোরদার করতে হবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবিক সহায়তার গণ্ডি পেরিয়ে সক্রিয় ও ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক দাতা দেশগুলোর সহায়তা কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি তহবিলের জোগান বাড়ানো, রাখাইনের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।
খলিলুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানযোগ্য, তবে এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ এবং টেকসই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
দায়িত্ব গ্রহণের পর মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মি- উভয় পক্ষই তাকে স্বাগত জানিয়েছে বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ইতিবাচক সম্পর্ক অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা পাকিস্তানের : সম্মেলনের সাইডলাইনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বৈঠক হয়। বৈঠকের পর দেয়া এক এক্স (টুইট) বার্তায় ইসহাক দার লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করে আমি আনন্দিত। আমরা পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদার করা নিয়ে আলোচনা করেছি। মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট নিরসনে সংলাপ সহজতর করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভূমিকাসহ আঞ্চলিক ঘটনাবলি নিয়ে মতবিনিময় করেছি। আমি আমাদের এই ইতিবাচক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করছি।’
বৈঠক সম্পর্কে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, উভয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সঙ্ঘাত নিরসনে আলোচনার সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. রহমান আলোচনার মাধ্যমে সঙ্ঘাত নিরসনে পাকিস্তানের প্রশংসনীয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানান। দুই মন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপায় নিয়েও আলোচনা করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সেনেগাল গেছেন : বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীলতা রক্ষা, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘ডাকার ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম অন পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি’তে যোগ দিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সেনেগাল গেছেন।
গতকাল সেনেগালের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন শামা ওবায়েদ। আজ রোববার থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশটির ডাকারে এই উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা ‘ডাকার ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম’ আফ্রিকা মহাদেশসহ বিশ্বজুড়ে শান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। এতে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতা, বিশ্বের নীতিনির্ধারক, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদাররা নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো নিয়ে মতবিনিময় করেন।
ফোরামের মূল আলোচনার পাশাপাশি শামা ওবায়েদ বেশ কিছু দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও পার্শ্ব-আলোচনায় অংশ নেবেন। আগামী ২৪ এপ্রিল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।