ক্র্যাবের মানববন্ধনে বক্তারা
প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে হামলা গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার ওপর আঘাত
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকায় হামলার মধ্য দিয়ে মতপ্রকাশ, বাকস্বাধীনতা ও সমালোচনামূলক কণ্ঠস্বরকে দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই আক্রমণ সরাসরি গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার ওপর আঘাত। গতকাল শনিবার সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
মানবন্ধনে প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাত শরিফ বলেন, এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন দেশ একটি গণতান্ত্রিক উত্তরণের দিকে এগোচ্ছে। এটি সেই উত্তরণকে বাধাগ্রস্ত করার একটি প্রচেষ্টা। যদিও ঘটনার নেপথ্য কারণ এখনো অজানা এবং অনেক অভিযুক্ত গ্রেফকার হননি, তবুও এটি যে গণমাধ্যমের ওপর আঘাত তা স্পষ্ট। গণমাধ্যমের অন্যতম কাজই হলো তর্ক ও মতপার্থক্য প্রকাশ করা; আর গণতন্ত্র মানেই ভিন্নমতকে সম্মান করা।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় দু’টি দৈনিকের কার্যালয়ে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ শুধু দু’টি গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ নয়; এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত। ২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে দেড় হাজারের বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন, হাজার হাজার আহত হয়েছেন। সেই রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পরিবর্তনের পরও আজ সাংবাদিকদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে হচ্ছে। পুলিশকে জানানো হলেও তারা কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। অতীতের ফ্যাসিবাদী আমলে সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন ও গণমাধ্যম বন্ধের বহু ঘটনার বিচার হয়নি। অতীতে গণমাধ্যম বন্ধ এবং সাংবাদিকদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারার খেসারত আজ দিতে হচ্ছে।
ডিআরইউর সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, একটি সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও সংবাদপত্রে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে কর্মরত সাংবাদিকদের পুড়িয়ে মারার লক্ষ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছিল।
ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল বলেন, এর আগেও গণমাধ্যমের ওপর হামলা হয়েছে, কিন্তু বারবার গণমাধ্যম ঘুরে দাঁড়িয়েছে, এবারো দাঁড়াবে। শুধু হামলাকারী নয়, নেপথ্যের উসকানিদাতা ও পরিকল্পনাকারীদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে। অবিলম্বে দায়ীদের গ্রেফতার না করলে এর দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।