আবারো অস্থিরতা সৃষ্টির তৎপরতা
ইসকনের ওপর গোয়েন্দা নজরদারির তাগিদ
ইসকন নতুন করে নিজেদের সংগঠিত করে আবারো দেশকে অস্থির করার জন্য অপতৎপরতা শুরু করেছে বলে পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র আভাস দিয়েছে।
Printed Edition
ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর থেকে তাদের পুনর্বাসনের জন্য কৌশলে নানা কর্মসূচি মাঠে ছুড়ে দেয়া ইসকন আবারো ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে এমন আভাস মিলছে। তারা নতুন করে নিজেদের সংগঠিত করে আবারো দেশকে অস্থির করার জন্য অপতৎপরতা শুরু করেছে বলে পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র আভাস দিয়েছে। তাদের অপতৎপরতা রোধে এখনই কঠোর গোয়েন্দা নজরদারির পরামর্শ সূত্রের।
গত বছরের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারকে অস্থির করে তুলেছিল ইসকন। সনাতনী জাগরণ মঞ্চের নামে ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনে দেশজুড়ে নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু করেছিল এই অপশক্তি। প্রতিবেশী দেশের ইন্ধনে সনাতনীর আড়ালে পতিত আওয়ামী ক্যাডাররা এসব অপতৎপরতার সাথে যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তখন এসবের নেতৃত্বে ছিল ইসকন নেতা (ইসকনের দাবি বহিষ্কৃৃত) চন্দন কুমার ধর ওরফে চিন্ময় কৃষ্ণ। এর কিছুদিন আগে তিনি প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সাথে সে দেশে গিয়ে দেশে অস্থিরতার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে আসে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানায়। সরকার বিষয়টি টের পেয়ে চিন্ময়কে গত বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে। পরদিন তাকে চট্টগ্রামের আদালতে একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় হাজির করা হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন। এ ঘটনায় ইসকন এবং পতিত সরকারের সন্ত্রাসীরা আদালত প্রাঙ্গণে নজিরবিহীন তাণ্ডব চালায়। মসজিদেও ভাঙচুর চালায় এবং এক পর্যায়ে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে ধরে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে তারা সেনাবাহিনীর ওপরও হাজারী গলিতে এসিড নিক্ষেপের মতো দুঃসাহস দেখায়।
গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার পর চট্টগ্রাম নগরীর নিউমার্কেট মোড়ের জিরো পয়েন্টে স্তম্ভের ওপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা একটি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে, যা এখনো সেখানে রয়েছে। অভ্যুত্থানের কিছুদিন পরই ২৫ অক্টোবর সনাতনী জাগরণ মঞ্চের নামে লালদীঘির মাঠে একটি মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে সনাতনীর আড়ালে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হাজির হয় ওই সমাবেশে। ওই সমাবেশ থেকে নিউমার্কেট মোড়ের জিরো পয়েন্ট স্তম্ভ ও আশপাশে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ওপর উগ্র হিন্দু ধর্মীয় গোষ্ঠী ইসকনের গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করে সেখানে স্থাপন করে দেয়। এ ঘটনায় দায়েরকৃত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল চিন্ময়কে।
চিন্ময় এখনো কারাগারে অন্তরীণ। কিন্তু প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দারা থেমে নেই উল্লেখ করে পুলিশের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, ইসকন আবারো দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে। বিভিন্ন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার নামে তারা স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছে। পরে প্রতিবেশী দেশটির এজেন্ডা অনুযায়ী মাঠে নামবে বলেও সূত্র জানিয়েছে। তারা আগের চাইতে সুপরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির প্রস্তুতি নিচ্ছে জানিয়ে সূত্র বলছে, তাদের সব ধরনের তৎপরতা এখনই কঠোর গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় না নিয়ে এলে দেশকে বড় ধরনের মাসুল গুনতে হবে। একই সাথে ইরানে মোসাদের তৎপরতা থেকেও শিক্ষা নেয়ার কথা বলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের রথযাত্রাকে ঘিরে আজ শুক্রবার থেকে শোভাযাত্রাসহ ৯ দিনের ব্যাপক কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে বিতর্কিত এই সংগঠনটি। রথ শোভাযাত্রার চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেনকে প্রধান অতিথি এবং চট্টগ্রামের ভারতীয় দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি মৃত্যুঞ্জয় কুমার সিংকে বিশেষ অতিথি করেছে ইসকন। অতিথির তালিকায় রাখা হয়েছে সিএমপি কমিশনারকেও। আবার শোভাযাত্রায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে অংশগ্রহণের জন্যও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে গেরুয়া সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে চরমভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ার পর এটিই সবচেয়ে বড় আয়োজন বিতর্কিত সংগঠনটির। তাদের এই আয়োজনে সিটি মেয়র ও ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তাকে অতিথি করে নিজেরা স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফেরার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশের সাথে নিজেদের সংযোগ আবারো জানান দিচ্ছে কি না সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।