আগডুম-বাগডুম কবিতাবলী

Printed Edition
agdum kobita
আগডুম-বাগডুম কবিতাবলী

শীতবস্ত্র

শামীম খান যুবরাজ

সোয়েটার পরে নাও

শীতবুড়ি নেমেছে

দেখো দেখো ঝরনার-

ঝরে পড়া থেমেছে।

চারদিকে বরফের

শিশিরের সাদাতে-

ঠাণ্ডার আস্তর

পানি আর কাদাতে।

উলটুপি-মাফলার

সাথে নাও- ভুলো না

শীতকালে এসবের

নেই নেই তুলনা।


খোকার স্বপ্ন

মাহমুদা জিয়াসমিন

স্বপ্ন খোকার বিদেশ যাবে

করবে বাড়ি-গাড়ি

বোনের জন্য কিনবে চুড়ি

মাকে দিবে শাড়ি।

খোকা ভাবে মাঠের এ কাজ

করবে না আর বাবা

বলবে কবে? বাবা তুমি

কাজে কেন যাবা!

এমন করে স্বপ্ন দেখে

হচ্ছে বড় খোকা

বললে মাকে মুচকি হেসে

বলে ‘তুমি বোকা’।


কুমড়ো

সাজ্জাদ সাদিক

কুমড়ো ঝোলে কুমড়ো ঝোলে

ঝুমকো ফুলের মতো

কুমড়ো ফুলে কুমড়ো ফুলে

দুমড়ো ভ্রমর কত!

হলদে ফুলে প্রজাপতি

গায়ে সুবাস মাখে

রঙে রঙে রঙ মিলিয়ে

মনে ছবি আঁকে।

কুমড়ো দোলে কুমড়ো দোলে

ধুম বাতাসের ঠেলায়

ফুলে ফুলে কুমড়ো দোলে

কড়া কুমড়োর বেলায়।

জলে ভাসে কলমিলতা

কুমড়ো লতা মাচে

কুমড়ো পাতার শুঁটকি পিঠা

প্রিয় আমার কাছে।


আমার স্বদেশ

শফিক শাহরিয়ার

স্বাধীনতার কথা বলি

নতুন আলোর পথে চলি

এই তো আমার দেশ

পরাধীনের শিকল খুলে

এখন দাঁড়াই আঙুল তুলে

শান্ত পরিবেশ।

হাত বাড়িয়ে কাছে ডাকি

রঙ বেরঙের হাজার পাখি

পাখির কলতান

আমি হবো পাখির মতো

গাইব আমি কত শত

আমার দেশের গান।

যেথায় থাকি বুকের মাঝে

ছুটেই আসি সদাই বাজে

আমার দেশের সুর

জেগেই রাখে সুরের দোলা

দেশের কথা যায় না ভোলা

কেমনে থাকি দূর?


রক্ত দিয়ে

জনি সিদ্দিক

রক্ত দিয়ে কেনা এদেশ

রক্ত দিয়ে গড়া

ত্যাগের নদী বয়ে চলে

শহীদ নামে ভরা।

রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি

রক্ত দিয়ে আঁকি

দেশের তরে লড়তে হবে

অনেক দেনা বাকি।

রক্ত দিয়ে স্বাধীন হলো

রক্ত দিয়ে মুক্তি

দেশের মানে আঘাত করে

আর হবে না চুক্তি।

রক্ত দিয়ে বিজয় আনি

রক্ত দিয়ে বাঁচি

দেশের জন্য জীবন দিতে

আমরা আজো আছি।


শীত এসেছে

পি এম শরিফুল ইসলাম

শীত এসেছে আমার গাঁয়ে

স্নিগ্ধ সবুজ পাতায়

শীত এসেছে কুমড়ো ফুলের

ভেজা হলুদ খাতায়।

শীত এসেছে প্রভাত ক্ষণে

হরেক রকম ফুলে

শীত এসেছে শিশির-ভেজা

দূর্বাঘাসের চুলে।

শীত এসেছে আমার বাড়ির

সবুজ আঙিনায়

শীত এসেছে নদীর তীরে

ফেরা ডিঙি নায়।

শীত এসেছে কুয়াশাতে

গ্রাম যে গেছে ছেয়ে

শীত এসেছে কুয়াশারই

শীতল চাদর বেয়ে।


খাও খাও

শাহীন ইমতিয়াজ

এলোমেলো হাতিগুলো

কোথা থেকে এলোরে

বাড়ি গাড়ি খেয়েদেয়ে

সুখ বুঝি পেলোরে।

ঘূর্ণির ঝঞ্ঝায় হাফ ছেড়ে

আগে পিছে ঘুরঘুর

জোরে সোরে হুঙ্কারে

কেঁপে ওঠে হুড়মুড়।

গলা পুড়ে খাও খাও

মাথাটাও খেয়ে নাও

খেতে মজা লুটপাট

আরো খাও মাঠ-ঘাট।

খাও খাও আরো খাও

অনাহারি ঝোলা নাও

তারপরও তারপরও

খেয়ে খেয়ে যাও?