ইরানের পর তুরস্ককে শত্রু ঘোষণা করতে পারে ইসরাইল : হাকান ফিদান

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

ইরানের পর তুরস্ককে নতুন শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে ইসরাইল- এমন মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।

আঙ্কারায় আনাদোলু এজেন্সি আয়োজিত ‘এডিটরস ডেস্ক’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, কোনো শত্রুরাষ্ট্র ছাড়া ইসরাইল টিকে থাকতে পারে না; তাই ইরানের পর তুরস্ককে প্রতিপক্ষ হিসেবে নির্ধারণ করা হতে পারে।

বক্তব্যে তিনি আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে তুরস্কের অবস্থান তুলে ধরেন। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

ফিদান বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ নিরাপদ রাখতে সামরিক পন্থা অত্যন্ত জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এর পরিবর্তে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করে নির্বিঘœ সামুদ্রিক বাণিজ্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

উপসাগরীয় অঞ্চলে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে আন্তর্জাতিক নৌপথ খোলা রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বের প্রত্যাশা- আন্তর্জাতিক যাতায়াত যেন অবাধ থাকে এবং কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়।

তিনি আরো সতর্ক করে বলেন, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এই পানিপথে স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব নয়; শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানই একমাত্র কার্যকর পথ। এমনকি আন্তর্জাতিক সশস্ত্র শান্তিরক্ষী বাহিনীর হস্তক্ষেপও বাস্তবায়নে জটিল হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

উত্তেজনা প্রশমনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই সচেতন বলেও মন্তব্য করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছে এবং সে বিষয়ে আন্তরিকতা দেখাচ্ছে।

ইসরাইলের আঞ্চলিক ভূমিকা প্রসঙ্গে ফিদান বলেন, বর্তমানে ইরানকে ঘিরে পরিস্থিতির কারণে তারা (ইসরাইল) বড় কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে এবং সময় এলে তারা সিরিয়াসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সক্রিয় হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।