ছাত্ররাজনীতির গুণগত পরিবর্তন নিশ্চিতে ছাত্রশিবিরের আহ্বান
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতির গুণগত রূপান্তর, সুস্থ মেধা চর্চার পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং ক্যাম্পাস ভায়োলেন্সের চিরস্থায়ী অবসানের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে ছাত্রশিবির মেডিক্যাল জোন আয়োজিত ‘পেশীশক্তি প্রদর্শন ও আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা : ছাত্ররাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের পথে চ্যালেঞ্জ ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এই গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারের শুরুতেই ১৯৮২ সালের ১১ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিপত্যবাদী শক্তির নৃশংস হামলার শিকার শহীদ আইয়ুব আলীর ভাই গোলাম হোসেন উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি তার ভাইয়ের আপসহীন সংগ্রামের কথা স্মরণ করে সব ছাত্র হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ সংগঠনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ছাত্রশিবির সবসময় ছাত্রদের মেধা ও চরিত্রের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ১৯৮২ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নবাগত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের ওপর যে বর্বর হামলা চালানো হয়েছিল, তা ছিল আধিপত্যবাদের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। শত জুলুম ও নির্যাতনের মুখেও ছাত্রশিবির তার গঠনমূলক ও ছাত্রবান্ধব কর্মসূচি থেকে একদিনের জন্যও বিচ্যুত হয়নি।
তিনি বলেন, ১১ মার্চের সেই আত্মত্যাগকে স্মরণ করে সংগঠনটি প্রতিবছর এই দিনটিকে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ছাত্রসংগঠনগুলোকে যদি প্রকৃত অর্থে লেজুড়বৃত্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হয়, তবে আর্থিক নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর উন্নয়ন জরুরি।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৮২ সালের সেই সহিংস ঘটনার মাধ্যমেই ক্যাম্পাসে পেশীশক্তির কালো ছায়া নেমে এসেছিল, যা থেকে উত্তরণ এখন সময়ের দাবি।
বিশেষ আলোচক লেখক ও সাংবাদিক আলী আহমাদ মাবরুর তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে ক্যাম্পাস ভায়োলেন্স বা ছাত্র সহিংসতার প্রথম শিকার হয়েছিল ছাত্রশিবির।
এই দীর্ঘমেয়াদী সঙ্কটের সমাধান করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা অত্যন্ত প্রয়োজন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ ছাত্ররাজনীতির প্রকৃত সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, ছাত্ররাজনীতির মূল কাজ হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং গবেষণার পরিবেশ তৈরি করা।
তিনি পরমতসহিষ্ণুতা এবং ছাত্র-শিক্ষক সুসম্পর্ক স্থাপনের ওপর জোর দেন।
ছাত্রশিবির মেডিক্যাল জোনের সভাপতি ডা: জায়েদ আহমাদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল ডা: জুলফিকার আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, ছাত্রশিবিরের প্রদর্শিত আদর্শিক পথ অনুসরণ করে ছাত্ররাজনীতিতে পেশীশক্তির পরিবর্তে মেধার বিজয় সুনিশ্চিত করতে হবে।