ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল
প্রাণ ফিরে পেয়েছে রাঙ্গামাটির পর্যটন কেন্দ্রগুলো
Printed Edition
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
হ্রদ আর পাহাড়ের অপার সৌন্দর্যে ঘেরা পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি বরাবরই পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র। তবে এবারের ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে সেই আকর্ষণ যেন নতুন মাত্রা পেয়েছে। শহরের যান্ত্রিক জীবন থেকে মুক্তি খুঁজতে হাজারো পর্যটক ছুটে এসেছেন প্রকৃতির সান্নিধ্যে, ফলে জমজমাট হয়ে উঠেছে পুরো পর্যটন নগরী।
ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকেই ‘সিম্বল অব রাঙ্গামাটি’ খ্যাত ঝুলন্ত সেতু এলাকায় শুরু হয় পর্যটকদের ঢল। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবার, বন্ধু কিংবা দম্পতিদের পদচারণায় মুখর থাকে এই স্থান। পর্যটকরা শুধু সেতু ঘুরেই সীমাবদ্ধ থাকছেন না; বরং পর্যটন নৌঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় কাপ্তাই হ্রদে ভ্রমণ করে উপভোগ করছেন হ্রদের শান্ত জলরাশি ও পাহাড়ি প্রকৃতির অনন্য সৌন্দর্য।
এছাড়া পলওয়েল পার্কসহ শহরের অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেও উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পার্কের ভেতরে টয় ট্রেন, দোলনা ও মিনি ঝুলন্ত সেতুতে শিশুদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস যেন পুরো পরিবেশকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলেছে। অনেক পর্যটক আবার পাহাড়ি সৌন্দর্যের ভিন্ন স্বাদ নিতে সাজেক ভ্যালির দিকেও ছুটছেন।
পর্যটকদের এই ব্যাপক আগমনে শহরের হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পর্যটকদের চাপ সামাল দিতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশনের তথ্য মতে, ২৮ মার্চ পর্যন্ত অধিকাংশ আবাসন কেন্দ্রে শতভাগ বুকিং রয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তবে এই ইতিবাচক চিত্রের পাশাপাশি কিছু উদ্বেগও রয়েছে। জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক সঙ্কট পর্যটন খাতে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশেষ করে দুর্গম সাজেক এলাকায় পানি সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে। মোটরসাইকেলে ভ্রমণে আগ্রহী পর্যটকরাও জ্বালানি প্রাপ্তি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ঈদকেন্দ্রিক এই পর্যটন জোয়ার স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙা করলেও টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা। যথাযথ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে রাঙ্গামাটি দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।