নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার : আরিফুল ইসলাম
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
নারীর অধিকার রক্ষায় ঘর ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন ঢাকা-১৮ আসনে জামায়াত-এনসিপিসহ ১০ দলের ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোটের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদিব।
গতকাল বুধবার সকালে উত্তরার দক্ষিণখান থানার মোল্লারটেক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এক মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামী দক্ষিণখান থানা মহিলা শাখা আয়োজিত।
সমাবেশে আরিফুল আরো বলেন, নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, বরং এটি তাদের মৌলিক অধিকার। নারীরা নিরাপদ ও সম্মানিত না হলে দেশের সার্বিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। ঢাকা-১৮ আসনের নারীদের জীবনমান উন্নয়নে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য বিশেষ পরিবহন সার্ভিস চালু, গণপরিবহনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হবে।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংস্কার প্রসঙ্গে জোটের এই প্রার্থী বলেন, বিগত ১৭ বছরের শাসনামলে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় নাগরিক অধিকার প্রকৃত অর্থে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই মৌলিক সংস্কারের লক্ষ্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে আসন্ন গণভোটে সবাইকে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
আরিফুল ইসলাম আরো উল্লেখ করেন, এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতা বদলের নয়, বরং এটি ভারতের আধিপত্যবাদ থেকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই। বক্তব্যে বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে আরিফুল ইসলাম বলেন, বিএনপি বর্তমানে সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দেড় শতাধিক নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। যারা নিজেদের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ, তারা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর দক্ষিণখান পশ্চিম থানার আমির আবু সাঈদ শাহনাওয়াজ, নায়েবে আমির মো: মামুন, সেক্রেটারি আলী হোসাইন মুরাদ এবং মহিলা বিভাগের উত্তরা পূর্ব জোন পরিচালিকা মর্জিনা খাতুনসহ স্থানীয় নেতারা। সমাবেশ শেষে আরিফুল ইসলাম দক্ষিণখানের মুক্তিযোদ্ধা রোড, বনবিথি আবাসিক ও আজমপুর ব্র্যাক মার্কেট এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় তার সাথে সংহতি জানিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন জুলাই আন্দোলনের আলোচিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ আতিকুল গাজী। এর আগে কসাইবাড়ি রেলগেট এলাকা থেকে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের সমর্থনে একটি বিশাল মিছিল বের করা হয়।