নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করছে সরকার : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition
back 4
নয়াপল্টনে রিকশা-ভ্যান চালকদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন বিএনপি নেতারা : নয়া দিগন্ত

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করছে অন্তর্বর্তী সরকার। একেক সময় একেক বক্তব্য দিয়ে পতিত সরকারের মতোই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে রিকশাভ্যান ও অটোচালকদের মধ্যে ঈদ উপহার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে সবার ত্যাগ স্বীকার না করলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হবে। জাতীয় নির্বাচন ডিসেম্বর না জুনে? এমন দোদুল্যমান বক্তব্য না দিয়ে স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করে জাতিকে আশ্বস্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, অনেকেই বলেন, আন্দোলন কি করা হয়েছে শুধু নির্বাচন করার জন্য? নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলেই তো আন্দোলন হয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করেননি শেখ হাসিনা। ক্ষমতা রক্ষার জন্য দেশকে একটি কারবালায় পরিণত করেছিলেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হলেও জনগণের সমর্থন রয়েছে। সব আন্দোলনকারী দল তাদের সমর্থন দিয়েছে।

১২২টি গার্মেন্টের শ্রমিকরা এখনো বেতন পাননি, ১৫০ গার্মেন্টের শ্রমিকরা বোনাস পাননি উল্লেখ করে রিজভী বলেন, সরকারের দায়িত্ব শ্রমিকদের বেতন ভাতার ব্যবস্থা করা। অবিলম্বে তাদের বেতন-বোনাসের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে ১৭ জন রিকশাচালক জীবন দিয়েছেন। আমি তাদের বাসায় গিয়েছি। কী নিদারুণ কষ্টে তাদের পরিবারের সদস্যরা জীবন যাপন করছে ভাষায় ব্যক্ত করা যায় না। তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন তাদের পরিবার যেন না খেয়ে না থাকে। তাদের পরিবারের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্বও সরকারকে নিতে হবে। পরিবারের সদস্য যারা চাকরি পাওয়ার উপযুক্ত তাদের চাকরি দিতে হবে।

ইশরাক ন্যায়বিচার পেয়েছে দাবি করে রিজভী আহমেদ বলেন, শেখ হাসিনা সরকার দেশের নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করেছিল। সে সময় চোর ডাকাতরা এমপি হতো আর ভালো মানুষদের জায়গা হতো কারাগারে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার উদাহরণ। যদি দেশে সত্যিকার গণতন্ত্র থাকতো তাহলে ২০১৪ সালেই বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হতেন।

এসময় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, কাজী রফিক, মাহবুবুর রহমান, আরিফুর রহমান তুষার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।