এমবাপ্পে ম্যাজিক নাকি চমক ইসাকের

ফ্রান্স-সুইডেন প্রিভিউ

Printed Edition
khela-1
ফ্রান্সের অনুশীলনে নির্ভার এমবাপ্পে, ষোলোতে যাওয়ার ছক কষছেন সুইডেনের ফুটবলাররা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ইউরোপের দুই পরিচিত প্রতিপক্ষ ফ্রান্স ও সুইডেন। বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলো নিশ্চিতের লক্ষ্যে মুখোমুখি হবে এই দুই দল। নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শেষ ৩২-এর ম্যাচে স্পষ্ট ফেবারিট ফ্রান্স। তবে নকআউট ফুটবলে অতীত হিসাব সবসময় কাজে আসে না; আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগাতে চাইবে সুইডেন। বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ৩টায় মাঠের লড়াইয়ে নামবে দুই দল।

গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে প্রভাবশালী দলগুলোর একটি ছিল ফ্রান্স। দিদিয়ের দেশমের দলের তিন ম্যাচেই ছিল আক্রমণে গতি, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণে দৃঢ়তা। ফরাসি দলের সবচেয়ে বড় তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। যিনি ২০২২ তাকার বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জয় করেছিলেন। তবে আগের ম্যাচে উসমান দেম্বেলের হ্যাটট্রিক প্রমাণ করেছে, ২০১৮ চ্যাম্পিয়নদের প্রধান তারকা এমবাপ্পের বাইরেও হুমকি আছে। উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল অলিসের সমন্বয়ে গঠিত ফরাসি আক্রমণভাগ প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিল। গ্রুপ পর্বে ১০ গোল করার পাশাপাশি প্রায় নিখুঁত রক্ষণভাগও ফ্রান্সকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সুইডেনের নকআউটে ওঠার পথ ছিল অনেক বেশি কঠিন। গ্রুপে তারা একটি জয়, একটি ড্র এবং একটি বড় ব্যবধানে হার নিয়ে তৃতীয় দল হিসেবে উঠেছে দ্বিতীয় রাউন্ডে। বিশেষ করে তাদের রক্ষণভাগের দুর্বলতা সামনে নিয়ে এসেছে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বড় পরাজয়। তবে জাপানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ড্র এবং তিউনিসিয়াকে হারিয়ে চাপের মুহূর্তে লড়াই করার মানসিকতাও দেখিয়েছে এই দলের সদস্যরা।

নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সিতে শুরু হতে যাওয়া শেষ ৩২-এর ম্যাচটি হতে পারে দারুণ আকর্ষণীয়। বলের দখল নিজেদের কাছে রেখে ফ্রান্স দুই প্রান্ত দিয়ে দ্রুত আক্রমণ গড়ে তুলতে অভ্যস্ত। এমবাপ্পের গতি ও দেম্বেলের এক-দক্ষতা সারাক্ষণ ব্যস্ত রাখবে সুইডিশ রক্ষণকে। ২০১৮ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সহায়তা করবেন মাঝমাঠে অরেলিয়েন চুয়ামেনি ও আদ্রিয়েন রাবিওর। রক্ষণভাগে উইলিয়াম সালিবা ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। বাঁ-প্রান্তে লুকাস দিনে এবং আক্রমণে ব্র্যাডলি বারকোলাকে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে। ফ্রান্সের শক্তির জায়গা তাদের বেঞ্চ, যেখানে রায়ান শেরকি ও মার্কাস থুরামের মতো ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়ার সামর্থ্যসম্পন্ন ফুটবলার রয়েছেন।

সেই ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ভিন্ন হতে পারে সুইডেনের। নিচু ব্লøকে রক্ষণ সাজিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা চালাতে পারে সুইডিশরা। ভিক্টর গায়কেরেসের শারীরিক সক্ষমতা এবং গোল করার ক্ষমতা সুইডেনের সবচেয়ে বড় ভরসা। পাশাপাশি সেট-পিস থেকেও তারা সুযোগ তৈরি করতে চাইবে, কারণ ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খোলা খেলায় বেশি সুযোগ পাওয়া কঠিন।

সুইডেনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ম্যাচের শুরুটা সামলানো। যদি তারা প্রথম ৩০ মিনিট গোল না খেয়ে থাকতে পারে, তাহলে ম্যাচের চাপ ধীরে ধীরে ফ্রান্সের ওপরও চলে আসতে পারে। নকআউট ম্যাচে সময় যত গড়ায়, ততই ছোট ছোট ভুলের মূল্য বেড়ে যায়। সেই জায়গাতেই সুইডেন নিজেদের সুযোগ খুঁজবে।

সুইডেনের অ্যান্থনি এলাঙ্গা জাপানের বিপক্ষে দূর থেকে গোল করেছিলেন এবং যদিও তার পক্ষে এমন গোলের পুনরাবৃত্তি করা কঠিন হতে পারে। তবে ফ্রান্সের রক্ষণভাগের বিপক্ষে তার অসাধারণ গতি মূল্যবান সম্পদ হিসেবে কাজ করতে পারে। আলেকজান্ডার ইসাক ও ভিক্টর গায়কেরেসও আক্রমণভাগে থাকবেন। ইসাক হিয়েনের চোটের কারণে মাঝমাঠ থেকে রক্ষণে সরিয়ে আনতে হতে পারে ভিক্টর লিন্ডেলফকে। গত ম্যাচে হিয়েনের পরিবর্তে লুকাস বার্গভালকে নামানো হয়েছিল, যিনি মাঠের মাঝখানে লিন্ডেলফের জায়গা নিয়েছিলেন এবং টটেনহ্যাম হটস্পারের এই তারকা সম্ভবত ইয়াসিন আয়ারির পাশে খেলবেন।

পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক ফর্ম স্পষ্টভাবে পক্ষেই কথা বলছে ফ্রান্সের। সাম্প্রতিক মুখোমুখি লড়াইয়েও এগিয়ে ফরাসিরা। তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, সংগঠিত রক্ষণ, ধৈর্য এবং একটি সফল পাল্টা আক্রমণই অনেকসময় বড় দলকে বিদায় করে দিতে পারে। সুইডেন সেই বিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামবে।

ফ্রান্স সব মিলে ২৩বার মুখোমুখি হয়েছে সুইডেনের। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্রান্স এই লড়াইয়ে বেশ আধিপত্য বিস্তার করেছে। ১২টি ম্যাচে ফরাসিদের জয়ের বিপরীতে ছয়টিতে জয় পেয়েছে সুইডেন। বাকি পাঁচটি ম্যাচ ড্র। এবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য দুই দলেরই।