সরকার বিচার বিভাগের হৃৎপিণ্ডে হাত দিয়েছে : বিচারপতি আবদুল মতিন
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় সংক্রান্ত দু’টি অধ্যাদেশ বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুল মতিন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার বিচার বিভাগের ‘হৃৎপিণ্ডে’ হাত দিয়েছে, যা দেশের বিচারিক ইতিহাসে চরম সর্বনাশ ও বিপর্যয় ডেকে আনবে।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন এবং ‘আইন ও বিচার’ পত্রিকা আয়োজিত এক মুক্ত আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ও বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ রহিতকরণ’ শীর্ষক এই সভায় দেশের জ্যেষ্ঠ আইনজ্ঞ ও সাবেক বিচারকগণ সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
বিচারপতি আবদুল মতিন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার এই দু’টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সেগুলো বাতিল করায় বিচার বিভাগের প্রশাসনিক ও কাঠামোগত ভিত্তি হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি একে একটি ‘আত্মঘাতী’ সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যা দেন।
অনুষ্ঠানে ঐতিহাসিক বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ মামলার বাদি ও সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মাসদার হোসেন সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ক্ষমতার মোহে শাসকরা জনগণের আকাক্সক্ষা ভুলে গেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের বিচার বিভাগ কেন এখনো নির্যাতনের কেন্দ্রে পরিণত হয়ে আছে এবং কেন ৪৭ লাখ মামলার জট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেই।
মাসদার হোসেন আরো বলেন, ‘জাতীয় সংসদ সার্বভৌম নয় যদি তা জনগণের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার পরিপন্থী কাজ করে।’ সম্প্রতি ফেসবুক স্ট্যাটাস দেয়ার কারণে ২৮ জন বিচারককে আইন মন্ত্রণালয়ের শোকজ করার ঘটনাকে তিনি বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের অবৈধ কর্তৃত্ব স্থাপনের চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন।
মুক্ত আলোচনায় অন্যান্য বক্তা অবিলম্বে রহিত করা অধ্যাদেশগুলো পুনর্বহালের দাবি জানান এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। সভায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ওমর ফারুক এবং জুলাই আন্দোলনের নেতা আরিফ সোহেলসহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন।