নির্বাচনের মাঠে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য তাদের রাজনৈতিক কৌশল : ইসি মাছউদ

Printed Edition
bangla-3
রংপুরে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ : নয়া দিগন্ত

রংপুর ব্যুরো

নির্বাচনের মাঠে প্রচারণায় দুই প্রধান দলের প্রধানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য তাদের প্রচারণার রাজনৈতিক কৌশল বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

গতকাল বিকেলে রংপুর সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মতিবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। রংপুর রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম, নির্বাচনী অনুসন্ধান বিচারিক কমিটি, ৬টি আসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেড, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরা।

সভা শেষে ইসি মাছুউদ বলেন, আমরা নিঃসন্দেহে বলব যে, আমাদের রাজনীতির সংস্কৃতিতে এবং আমাদের ভোটের সংস্কৃতিতে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আর যদি বলেন যে পরস্পর বিভিন্ন কথা বলছেন বা একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে বলছেন, আমরা কি এটাকে বলব যে ভোট যুদ্ধ? এটা জাস্ট তাদের পলিটিক্যাল একটা স্ট্র্যাটেজি। দলগুলোর মধ্যে ক্যাশ সৃষ্টি হচ্ছে, আমরা এ রকম কিছু লক্ষ্য করি নাই। আমরা বলব যে, একটা ভোট যুদ্ধ চলতেছে। যা উনারা যেভাবে কথা বলছেন এটা উনাদের একটা রাজনীতিক কৌশল মাত্র।’

ইসি মাছউদ আরো বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কোনো চাপে নেই। আমাদের তরফ থেকে স্পষ্ট বার্তা হবে যে, নির্বাচনের প্রতিকূল যায়, এ ধরনের সব মুভমেন্টের আমরা বিরোধী। আমরা তাদের আহ্বান জানাব যে, একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হতে যাতে একটা সুস্থ পরিবেশ থাকে, এ ধরনের পরিস্থিতি বিবেচনা রেখে আপনারা আপনাদের কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে এ রকম ইঞ্জিনিয়ারিং কোনো কিছু লক্ষ্য করছি না। বিভিন্ন জায়গায় আমরা যাচ্ছি, আমাদের সবাই কমিটেড। নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত প্রায় আঠারো লাখ কর্মকর্তা কর্মচারী। আমাদের পুলিশ বাহিনী, আমাদের সেনাবাহিনী, আমাদের বিজিবি, আমাদের আনসার সবাই এখন কমিটেড। জাতিকে একটা ভালো নির্বাচন দেয়ার জন্য যে ধরনের মানসিকতা দরকার, তাদের মধ্যে সেই মানসিকতা আমরা লক্ষ্য করেছি। তুলনামূলকভাবে আইনশৃঙ্খলা যথেষ্ট ভালো আছে। নির্বাচনের জন্য যথেষ্ট সহায়ক পরিবেশ আছে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

মাছউদ আরো বলেন, ‘তফশিল ঘোষণার পর কিছু ঘটনা ঘটেছে। হাদি সাহেবের কথা বলতে পারবেন। আমরা নির্বাচন কমিশন থেকে সবসময় বলে আসছি যে, সব ধরনের হত্যার আমরা নিন্দা জানাই এবং আপনারা দেখবেন যে জনাব হাদির হত্যার জন্য আমরা নিন্দা জানিয়েছি। আইনশৃঙ্খলা বিভাগকে বা যারা তদন্তের কাজে জড়িত তাদের বলা হয়েছে যে, আপনারা সুষ্ঠু তদন্ত করুন। যে কালপ্রিট তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করুন এবং আইন মোতাবেক তার শাস্তি নিশ্চিত করুন। আমরা আগেও বলেছি, আজকেও আপনাদের মাধ্যমে আমরা এই আহ্বান জানাই।’