আইপিডির ওয়েবিনারে অভিমত
সুষম উন্নয়ন আসন্ন সরকারের অগ্রাধিকার হতে হবে
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের গণমানুষের আকাক্সক্ষা বাংলাদেশকে কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা। সুষম ও ন্যায্যতাভিত্তিক উন্নয়ন, বৈষম্যহীন আঞ্চলিক উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা, টেকসই পরিবেশ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের মূল অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। এ লক্ষ্য অর্জনে রাজধানীকেন্দ্রিক উন্নয়ন থেকে বেরিয়ে জেলা ও উপজেলাপর্যায়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। করতে হবে পুরো দেশের স্থানীয় ও আঞ্চলিক পরিকল্পনা। গ্রামীণ এলাকায় মানসম্মত নাগরিক সুবিধাদি নিশ্চিত করতে হবে। নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের জন্য ভূমি ও অর্থের সংস্থান করার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ বাড়িয়ে কৃষি কার্ডের পাশাপাশি দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য কার্ড দেয়ার দাবি জানিয়েছেন পরিকল্পনাবিদরা। গতকাল শুক্রবার ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) আয়োজিত আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে ‘গণমানুষের ইশতেহার’ শীর্ষক ওয়েবিনারে পরিকল্পনাবিদরা এসব দাবি জানান। অনুষ্ঠানে আইপিডির পক্ষ থেকে ইশতেহার পাঠ করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান।
একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে নাগরিকের মৌলিক অধিকার বাস্তবে কার্যকর করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস করে একটি সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই হবে গণমানুষের ইশতেহার। আইপিডি বলছে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সুযোগের স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার করতে হবে। প্রান্তিক, দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূল ধারায় অন্তর্ভুক্ত করে গণতন্ত্র, নাগরিক অংশগ্রহণ, সুশাসন ও জবাবদিহিতা শক্তিশালী করাই হবে গণমানুষের ইশতেহার।
আইপিডির পক্ষ থেকে ইশতেহারে আরো বলা হয়, সব মেগা ও বিশেষ প্রকল্পের বাধ্যতামূলক পরিকল্পনা, পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন করতে হবে। নদী, বন, জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ থাকবে অগ্রাধিকারে। দখল-দূষণে জড়িতদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বহুমাধ্যমভিত্তিক গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে মেট্রোরেল, মনোরেল, লাইট র্যাপিড ট্রানজিট (এলআরটি), কমিউটার ট্রেনের পাশাপাশি বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি), উন্নত বাস-মিনিবাস সার্ভিসের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। একই সাথে জলপথ ও রেলপথ ব্যবহারের গুরুত্ব বাড়াতে হবে। অন্য দিকে পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল ও ইকোনমিক জোন গড়ে তুলতে হবে। শিল্পাঞ্চলে থাকবে শ্রমিকবান্ধব আবাসন, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবা। হাওর, চর, পাহাড়, উপকূল ও নদীভাঙনপ্রবণ এলাকার জন্য আলাদা পরিকল্পনা করে উন্নয়ন করতে হবে। স্থানীয় সরকারকে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতায়ন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিআইপির সভাপতি ড. মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, আইপিডি উপদেষ্টা অধ্যাপক আকতার মাহমুদ, জাবি শিক্ষক আসিফ ইকবাল আকাশ, জাবির নগর পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষক ড. ফরহাদুর রেজা প্রমুখ।