যুক্তরাষ্ট্রের পর মেক্সিকোর শুল্ক চাপে ভারতীয় ব্যবসা
Printed Edition
আলজাজিরা
মুম্বাইয়ের স্টিল কারখানার মালিক পঙ্কজ চাড্ডা চার দশক ধরে ব্যবসা করছেন। তার পণ্য যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোতে রফতানি হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক শুল্ক বৃদ্ধিতে তার ব্যবসা বড় ধাক্কা খেয়েছে। আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ মিলিয়ন ও মেক্সিকোতে আট মিলিয়ন ডলারের বিক্রি থাকলেও এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। পঙ্কজ চাড্ডা বলেন, ‘শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর আমি যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোতে ব্যবসার ৫০ শতাংশ হারিয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের পর মেক্সিকোতে মনোযোগ দিয়েছিলাম, কিন্তু সেখানেও ভবিষ্যৎ অন্ধকার।’ গত আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ করেন। পরে রাশিয়ার তেল কেনা অব্যাহত রাখায় আরো ২৫ শতাংশ শুল্ক বাড়ানো হয়। এর ফলে হীরা কাটা, চিংড়ি চাষ ও কার্পেট শিল্পসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এরপর মেক্সিকোও ১ জানুয়ারি থেকে এক হাজার ৪০০ পণ্যে ৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কারোপ করেছে। এতে ভারত, ব্রাজিল, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেক্সিকো বলছে, স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো ও কর্মসংস্থান রক্ষার জন্য এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এড়াতেই মেক্সিকো এমন করছে। চাড্ডা বলেন, মেক্সিকোর শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি হতাশাজনক। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিযোগীদের ওপরও শুল্ক দিয়েছে, কিন্তু মেক্সিকো শুধু অ-এফটিএ দেশগুলোর ওপর শুল্ক বসিয়েছে। এতে আমরা পুরোপুরি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছি। ভারত সরকার বাজেটে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কারখানাগুলোকে কিছু পণ্য স্থানীয় বাজারে কম শুল্কে বিক্রির অনুমতি দিয়েছে। এতে রফতানিমুখী শিল্প কিছুটা স্বস্তি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মেক্সিকোর ধাক্কা
২০২৪ সালে ভারত মেক্সিকোতে ৫.৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। এর মধ্যে গাড়ি ও যন্ত্রাংশ শীর্ষে ছিল। আমদানি করেছে ৪.০৭ বিলিয়ন ডলারের তেল ও খনিজ জ্বালানি। স্টিল রফতানিতে ৫০ শতাংশ শুল্ক, গাড়ি ও যন্ত্রাংশে ৩৫ শতাংশ শুল্কারোপ করা হয়েছে। পোশাক ও সিরামিকের মতো শ্রমঘন খাতেও ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ও রাসায়নিক শিল্পে ৫ থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। চীন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে। ভারতও সতর্ক করেছে, মেক্সিকোর একতরফা শুল্ক বৃদ্ধির বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অটোমোবাইল খাতের সঙ্কট
ভারতীয় গাড়ি কোম্পানিগুলো মেক্সিকোতে বড় বাজার গড়ে তুলেছিল। ২০২৫ অর্থবছরে তারা প্রায় ৯৩৮ মিলিয়ন ডলারের গাড়ি ও ৩৯০ মিলিয়ন ডলারের মোটরসাইকেল রফতানি করেছে। গত বছর মেক্সিকোতে ৮৩৫ মিলিয়ন ডলারের গাড়ির যন্ত্রাংশ রফতানি হয়েছিল। অটোমোবাইল শিল্প বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কে ক্ষতি হচ্ছিলই, মেক্সিকো যুক্ত হওয়ায় নতুন সঙ্কট তৈরি হয়েছে। তবে তারা স্থানীয় বাজারে চাহিদা বাড়ার আশা করছে। সম্প্রতি জিএসটি ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে, যা কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
বহুমুখীকরণের আহ্বান
বিভিন্ন শিল্প সংগঠন সরকারকে মেক্সিকোর সাথে বাণিজ্য চুক্তি করতে বলেছে। তবে ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনের মহাপরিচালক অজয় সাহাই বলেছেন, শুল্ক প্রমাণ করেছে এক বা দুই দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ক্ষতিকর। টিকে থাকতে হলে বহুমুখীকরণই একমাত্র পথ।