সারা দেশে চাঁদাবাজদের তালিকা করছে র‌্যাব

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশে চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় আনতে একটি নিরপেক্ষ তালিকা তৈরি করছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। ছোট থেকে বড়, সব স্তর বিবেচনা করে এ তালিকা করা হচ্ছে। তালিকা প্রস্তুত শেষে এতে থাকা সব অপরাধীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে র‌্যাবের মুখপাত্র উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী। গতকাল রাজধানীর কাওরান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে চাঁদাবাজদের একটি ‘আনবায়াসড’ তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। র‌্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যারাই তালিকায় থাকবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। শিগগিরই এর প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যাবে।

তালিকায় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা থাকলে কী হবে- এমন প্রশ্নে এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, তালিকা হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, কোনো পক্ষপাতিত্ব থাকবে না। যে অপরাধী যেই হোন, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। কতদিনের মধ্যে এই তালিকা সম্পন্ন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করে মাঠে অভিযান শুরু করা হবে। আজকেও হতে পারে।

র‌্যাব মুখপাত্র বলেন, চাঁদাবাজি শুধু একটি নির্দিষ্ট খাতে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবহন খাতে মহাসড়ক কেন্দ্রিক চাঁদাবাজি, বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাপ সৃষ্টি, সব ধরনের চাঁদাবাজিকে এই তালিকার আওতায় আনা হচ্ছে। ছোট থেকে বড় সব স্তরের অপরাধীকেই বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর কোনো ধরনের চাপ আছে কি না এমন প্রশ্নে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে র‌্যাব স্বাধীনভাবেই কাজ করছে এবং কোনো ধরনের বেআইনি চাপ নেই। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

এ দিকে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে অটকের কথা জানায় র‌্যাব। এর মধ্যে চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী হামলায় যুবকের কবজি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনার অন্যতম আসামি মো: সবুজকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা এলাকা থেকে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কুখ্যাত মাদক কারবারি মাহবুবুর রহমান ওরফে ‘কাইল্লা রক্সি’কে রয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে মানব পাচারকারী চক্রের দুই সদস্য নেয়ামত উল্লাহ ও শাহ আলমকে আটকসহ অপহৃত চারজনকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব। এ ছাড়াও চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবাসহ ৯ জনকে আটক করা হয়। যার মধ্যে চারজন বাংলাদেশী এবং ৫ জন রোহিঙ্গা। খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ মো: সুজন সরকারকেও আটক করেছে র‌্যাব।

অপর দিকে গত ৮ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার করে অবৈধভাবে চার লাখ ৬৮ হাজার ৪৩৯ লিটার ভোজ্যতেল মজুদ রাখার দায়ে ১৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানার পাশাপাশি ৫০ হাজার লিটারের বেশি ভোজ্যতেল জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।