হোসেনপুরে ৭০ প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক নেই
ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক দিয়ে কোনো মতে খুঁড়িয়ে চলছে কার্যক্রম
Printed Edition
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ১১০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭০টিতে নেই প্রধানশিক্ষক। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক দিয়ে কোনো মতে খুঁড়িয়ে চলছে কার্যক্রম। ফলে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনায় ব্যাহত হচ্ছে শ্রেণী শিক্ষা কার্যক্রম। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে মানসম্মত শিক্ষা থেকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। যার মধ্যে ৭০টিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে উপজেলার হোগলাকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর হাজিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, বীর হাজিপুর, ধলাপাতা, তারাপাশা, হারেঞ্জা, ধনকুড়া, মধ্য গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৪৫টি বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। অপর দিকে, হোসেনপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধুলিহর, গড় মাছুয়া, কাওনা, কুড়িমারা, দক্ষিণ পিপলাকান্দি, বিল চাতল, বীর পাইকশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ২৫টিতে চলতি দায়িত্বের প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে। ফলে ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বের প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত ওই সব স্কুলে শিক্ষার গুণগত মান এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সাধারণ শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, ভারপ্রাপ্তের ভারে ভারাক্রান্ত ওইসব বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্তদের পূর্ণাঙ্গ প্রধান শিক্ষক হিসেবে মানতে আগ্রহী নয়। ফলে শৃঙ্খলা নষ্টের পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারছেন না তারা। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা অফিসারদের যথাযথ তদারকির অভাবে ও স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে শৃঙ্খলা ও তদারকি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ, শিক্ষার মানোন্নয়ন কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমেও ভাটা পড়ছে।
স্থানীয় শিক্ষাবিদদের ভাষ্য মতে, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় প্রধান শিক্ষকের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। তাই দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না হলে প্রাথমিক শিক্ষার কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হবে।
হোসেনপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার এমদাদুল হক জানান, শূন্য পদের চাহিদা মহাপরিচালক মহোদয়ের কাছে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে চলতি দায়িত্বে নিয়োজিতদের মামলা থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। শিগগিরই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে।