ময়মনসিংহে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

ময়মনসিংহ অফিস
Printed Edition
3rd-1
ময়মনসিংহে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্কের অবৈধ স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় প্রশাসন : নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহ নগরীর সার্কিট হাউসসংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী সাহেব কোয়ার্টার শিল্পচার্য জয়নুল আবেদিন পার্কে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে সিটি করপোরেশন (মসিক) ও জেলা প্রশাসন। গতকাল বুধবার সকাল ১১টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত পার্কের ভেতর বৈশাখী মঞ্চের উল্টোদিকে এবং পুর্বদিকে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় বুলডোজার দিয়ে অবৈধ স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেয়ায় পার্কে ভ্রমণকারীরা প্রশাসনকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের অবৈধভাবে নির্মিত উন্মুক্ত মঞ্চটি গুঁড়িয়ে দিলে স্থানীয় কবি সাহিত্যিকরা প্রতিবাদ জানান। অভিযানকালে পার্কের রাস্তার পাশের আরো কয়েকটি দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলমের নেতৃত্বে অভিযানকালে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আল মাজিদসহ সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, বছরের পর বছর ধরে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পার্কের ভেতর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসায় করছিল। এতে পার্কে ভ্রমণকারীদের চলাচল ব্যাহত ও পার্কের নান্দনিক সৌন্দর্য্য বিনষ্ট হওয়া ছাড়াও নারী শিশুদের চলাফেরায় অসুবিধা হচ্ছিল। বিভিন্ন সংগঠন এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু পতিত সরকারের আমলে জনতার দাবি উপেক্ষা করা হয়। ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের সদস্যদের দাবি, প্রায় ৪০ বছর ধরে প্রতি শুক্রবার ‘বীক্ষণ মঞ্চে’ কবি সাহিত্যকদের আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে বছর কয়েক আগে সাহিত্য সংসদ ভেঙে দু’ভাগ হয়ে গেলে ‘বীক্ষণ’র আরেকটি অংশ অন্যত্র ‘সাহিত্য আড্ডা’র অনুষ্ঠান করে আসছে।

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম জানান, ময়মনসিংহ নগরীর সাহেব কোয়ার্টার পার্কটি মানুষের জন্য একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র। বছরের বিভিন্ন সময়ে পহেলা বৈশাখ, ঈদ, পুঁজা এবং বিভিন্ন দিবসে পার্কটি লাখো মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। কিন্তু অবৈধ স্থাপনার কারণে নান্দনিক সৌন্দর্য্য বিনষ্ট ও মানুষের চলাফেরায় অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছিল এবং রাতে নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগও ছিল। পার্কের পরিবেশ রক্ষার্থে প্রশাসন এ উচ্ছেদ অভিযান চালায়। সাহিত্য সংসদের স্থাপনাটি ছিল অবৈধ। তাদের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই বলেও জানান তিনি।