অনিবন্ধিত শত শত ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে বিমান মন্ত্রণালয়ের হুঁশিয়ারি
বৈধ মালিকরা বলছেন অভিযান চোখেই পড়েনি
Printed Edition
অনিবন্ধিত ও মেয়াদোত্তীর্ণ শত শত ট্র্যাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার ‘হুঁশিয়ারি’ দিয়েছে বেসামিরক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এরপর কেটে গেছে প্রায় এক মাসেরও বেশি সময়। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে অনিবন্ধিত ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা ও ঢাকার বাইরে কতগুলো ট্র্যাভেল এজেন্সি শনাক্ত করে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সেই ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে পাওয়া যায়নি কোনো বক্তব্য।
তবে বৈধ ট্র্যাভেল এজেন্সির মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে অবৈধ ট্র্যাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর নোটিশ তাদের দেয়ার বিষয়টি তারা (এজেন্সি মালিক) জানলেও অদ্যাবধি কোথাও কোনো প্রতিষ্ঠানে এ সংক্রান্ত অভিযান চালানো হয়েছে এবং জেল জরিমানা করা হয়েছে এমনটি তাদের চোখে অদ্যাবধি পড়েনি। তারা এ ব্যাপারে বিমান মন্ত্রণালয় ও আটাবের সার্বিক সহযোগিতা চেয়ে বলছেন, অবৈধ ট্র্যাভেল এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম এখনই রোধ করতে না পারলে এই সেক্টরে প্রতারণার সংখ্যা দিন দিন বাড়তেই থাকবে।
গত ৭ মে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের (পর্যটন-৩/ট্র্যাভেল এজেন্সি) উপসচিব মির্জা মুরাদ হাসান বেগ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ট্র্যাভেল এজেন্সির নিবন্ধন সনদ গ্রহণ ও নবায়ন এবং অনিবন্ধিত ও মেয়াদোত্তীর্ণ এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়ে জানানো হয়, বাংলাদেশ ট্র্যাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩, বাংলাদেশ ট্র্যাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী নিবন্ধন সনদ গ্রহণ ছাড়া এবং মেয়াদোত্তীর্ণ নিবন্ধণ নবায়ন ব্যতীত ট্র্যাভেল এজেন্সি ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না। এমতাবস্থায় অনিবন্ধিত ট্র্যাভেল এজেন্সি ব্যবসা পরিচালনাকারী সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মন্ত্রণালয়ের অনলাইন ট্র্যাভেল এজেন্সি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে জরুরি ভিত্তিতে নিবন্ধন আবেদন দাখিল করার জন্য অনুরোধ জানানো হলো।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছিল, যেসব ট্র্যাভেল এজেন্সির নিবন্ধন সনদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে তাদেরকেও জরুরি ভিত্তিতে সনদ নবায়নের জন্য অনুরোধ করা হলো। নিবন্ধন গ্রহণ এবং নিবন্ধন সনদ নবায়ন ছাড়া যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে ট্র্যাভেল এজেন্সি ব্যবসা পরিচালনা করছে তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই বাংলাদেশ ট্র্যাভেল এজেন্সি আইন ২০১৩ অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ চিঠির অনুলিপি সব জেলা প্রশাসক, অ্যাসোসিয়েশন অব ট্র্যাভেল এজেন্ট অব বাংলাদেশ (আটাব) ও সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়।
বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এমন হুঁশিয়ারিমূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর এক মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে বৈধ ট্র্যাভেল এজেন্সির মালিকদের কেউ অদ্যাবধি কোনো অবৈধ ট্র্যাভেল এজেন্সিতে অভিযান হয়েছে এমনটি দেখতে পাননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার আগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরিন জাহানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টেলিফোন রিসিভ করেননি।
পরে উপসচিব মির্জা মুরাদ হাসান বেগের সাথে এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনিও টেলিফোন রিসিভ করেননি।
গতকাল ট্র্যাভেল এজেন্সির সংগঠনের (আটাব) একজন সিনিয়র সদস্য নাম না প্রকাশের শর্তে নয়া দিগন্তকে এ প্রসঙ্গে বলেন, মন্ত্রণালয় অবৈধ ট্র্যাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করবে এমন একটা চিঠি দিলেও তারা কিন্তু কাজ করেনি। শুধু তাই নয়, এখন পর্যন্ত আমাদের বৈধ ট্র্যাভেল এজেন্সির কোনো মালিক কোথাও অভিযান হতে দেখেননি। অথচ অবৈধ ট্র্যাভেল এজেন্সির ব্যবসা করে প্রতিনিয়ত মানুষজনের সাথে প্রতারণা করছে এমন হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান শুধু ঢাকাতেই রয়েছে। শুনতে পাচ্ছি, ওই সব প্রতারক চক্র আমেরিকার টিকিট রিটার্ন মাত্র ৮০ হাজার টাকায় দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ফেসবুকসহ নানা জায়গায় প্রচারণা চালাচ্ছে। আর কিছু মানুষ তাদের খপ্পরে পড়ে প্রতারিত হচ্ছেন- এমন অভিযোগও আমরা পাচ্ছি প্রায়ই।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এসব প্রতারণা রুখতে হলে ট্র্যাভেল এজেন্সির মালিকদের সংগঠন আটাব ও বিমান মন্ত্রণালয়কে এগিয়ে আসতে হবে। নতুবা প্রতারণা দিন দিন বাড়তেই থাকবে বলে মনে করছেন তারা। এক প্রশ্নের উত্তরে তারা বলছেন, বর্তমানে বৈধ ট্র্যাভেল এজেন্সির সংখ্যা পাঁচ হাজার হলে অবৈধ ট্র্যাভেল এজেন্সির সংখ্যা এর চেয়েও আরো বেশি রয়েছে। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন, মূলত সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে আর সাইনবোর্ড-বিহীন অফিস খুলে চক্রটি নানা কৌশলে বিমানের টিকিট বিক্রি করছে। আবার কেউ কেউ ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে অফিস খুললেও তারা সাব এজেন্ট হয়ে বৈধ মালিকদের কাছ থেকে টিকিট কিনে সেটি বিক্রি করছে। এভাবে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে গড়ে উঠছে হাজার হাজার অবৈধ ট্র্যাভেল এজেন্সি অফিস।