সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে ৫ জন মুক্তাগাছায় ৪ নারী নিহত

অন্যান্য স্থানে আরো ৭ জনের মৃত্যু

Printed Edition
back-4
সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে ৫ জন মুক্তাগাছায় ৪ নারী নিহত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত আরো তিনজন। আর দিরাই-মদনপুর সড়কে বাসের ধাক্কায় অজ্ঞাত এক মহিলা মারা গেছেন। অপর দিকে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজি-চালিত অটোরিকশার চার নারী যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া টাঙ্গাইল, সুনামগঞ্জ, নাটোর ও মুন্সীগঞ্জ জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আরো ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত আরো তিনজন।

ছাতক উপজেলার জালালপুর এলাকায় সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরে ছাতকের জালালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এ দিকে দিরাই-মদনপুর সড়কে বাসের ধাক্কায় অজ্ঞাতনামা এক মহিলা মারা গেছেন। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী একটি বাসের ধাক্কায় ওই মহিলা ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

ছাতকে নিহত চারজনের মধ্যে একজন হলেন সিএনজি অটোরিকশার যাত্রী তাহিরপুর উপজেলার তেরজালাল গ্রামের হাসেম আলীর ছেলে ইউসুফ আলী (৫৫)। তবে অপর নিহতদের নাম এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ থেকে একটি যাত্রীবাহী সিএনজি সিলেটের দিকে ছেড়ে যায়। রিফাত পরিবহন নামের একটি বাস সিলেট থেকে সুনামগঞ্জে আসার সময় জালালপুর নামক এলাকায় বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে যাত্রীবাহী সিএনজি চাপা পড়ে। এ সময় ঘটনাস্থলেই দু’জন যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। অন্য তিনজন ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার সময় মারা যান।

জয়কলস হাইওয়ে থানার ওসি আবদুল মোতালেব জানান, দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ছয়জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

ময়মনসিংহ অফিস ও মুক্তাগাছা সংবাদদাতা জানান, ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়কের মুক্তাগাছা উপজেলার কুমারগাতা ইউনিয়নের সমিতি ঘর এলাকায় ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই সিএনজি অটোরিকশার তিন নারী যাত্রী নিহত হয়েছেন। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে আরো একজন মারা যায়। নিহতরা হলেন জামালপুর সদরের রুহিলী গ্রামের সৌদি প্রবাসী রুহুল আমিনের স্ত্রী ফারজানা আক্তার শিউলী (৩৮), মেয়ে খোশনূর জান্নাত রিনতি (১১) এবং ময়মনসিংহ বড় বাজারের বাসিন্দা মৃত অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদের স্ত্রী অ্যাডভোকেট চৌধুরী হোসনে আরা বেগম (৫২)। নিহত অপর জনের পরিচয় জানা যায়নি। এ সময় আহত হয়েছেন আরো দু’জন। তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা পুলিশ জানায়, জামালপুরের নান্দিনা থেকে ছেড়ে আসা ময়মনসিংহগামী একটি সিএনজি-চালিত অটোরিকশার সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার মাঝ পথে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সিএনজি অটোরিকশার তিন নারী যাত্রী নিহত হন। গুরুতর আহত হন চালক ও অপর এক পুরুষ যাত্রী। তাদের উদ্ধার করে মমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, টাঙ্গাইল শহর বাইপাসের রাবনায় ট্রাক-পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে দু’জন নিহত ও দু’জন আহত হয়েছেন। গতকাল ভোর সোয়া ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- পিকআপের চালক জামালপুরের ইসলামপুর থানার উত্তর কিসমতজাল্লা (পালবাড়ী) গ্রামের লাবলু চন্দ্র পালের ছেলে পাপন কুমার পাল (২৬) এবং হেলপার জামালপুর সদরের উত্তর কাচারীপাড়া গ্রামের খোরশেদ আলীর ছেলে মো: শাকিল (২২)।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: শরিফ নয়া দিগন্তকে বলেন, রাবনা ফ্লাইওভারের ওপর উত্তরবঙ্গগামী একটি ট্রাক সামনের একটি পিকআপ ভ্যানকে ওভারটেক করতে গেলে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পিকআপের চালক পাপন কুমার পাল ও হেলপার শাকিল নিহত হন। পুলিশ নিহতদের লাশ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় আহত দু’জনকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, সিলেট সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের জালালপুর এলাকায় গতকাল সড়ক দুর্ঘটনায় দু’জন নিহত ও সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

জয়কলস হাইওয়ে থানার ইনচার্জ মোতালেব হোসেন জানান, একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি-চালিত অটোরিকশা ও হানিফ পরিবহনের একটি বাসের ঢাকা মেট্রো-ব ১১-৭৭৬১ মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সিএনজি-চালক মো: ইউসুফ আলী (৫০), বাবা হাসিম, গ্রাম-তাহেরপুর, সুনামগঞ্জ নিহত হন। এ ছাড়া অজ্ঞাত পরিচয় আরো একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান।

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সাতজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।

লালপুর (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, নাটোরের লালপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আশরাফুল আলম লিয়ন (১৯) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল বেলা ২টার দিকে লালপুর ফিলিং স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তিনি উপজেলার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের নাগশোষা গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে।

লালপুর থানা ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে মোটরসাইকেলে তেল নেয়ার জন্য লিয়ন পেট্রল পাম্পে যাচ্ছিলেন। এ সময় লালপুর-ঈশ্বরদী আঞ্চলিক মহাসড়কের হল মোড় এলাকায় একটি সেনেটারি ওয়্যার কারখানা থেকে একটি মাল বোঝাই ট্রাক মূল সড়কে ওঠার সময় কালভার্টের ওপর দিক থেকে তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনার পর ট্রাকটি ফেলে চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ঘাতক ট্রাকটি থানায় নেয়া হয়েছে।