বাজার দর

ঈদ-পরবর্তী বাজারে মুরগি ও গোশতের দাম নিম্নমুখী

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition

ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকা ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। সরকারি অফিস আদালত শুরু হতে এখনো দুদিন বাকি। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীর বাজারে অধিকাংশ পণ্যের দাম ছিল নি¤œমুখী। বিশেষ করে ঈদের আগ মুহূর্তে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম বেড়েছিল মুরগি ও গরুর গোশতের। তবে এখন চাহিদা কম থাকায় রাজধানীর বাজারগুলোতে এসব পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে।

গতকাল রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ দেখা গেছে; পণ্যের সরবরাহও ছিল কম। রাজধানীর কল্যাণপুর, শেওড়াপাড়া, কাওরানবাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ের চার ভাগের এক ভাগ ক্রেতা আছে এখন। এমন ঢিলেঢালা বাজারে কমেছে মুরগির দাম। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা কমেছে, সোনালি মুরগির দাম কমেছে কেজিতে ৩০ টাকা, আর গরুর গোশতের দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা কমেছে।

তবে মাছের দাম কেজিতে ২০-২৫ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তার বলেন, এখনো ছুটি শেষ হয়নি, ঈদের বন্ধ থাকায় এখনও অনেক মানুষ ঢাকায় ফেরেনি। আগামী রোববার থেকে বাজার স্বাভাবিক হবে। ঈদের আগের দিন রাজধানীতে ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি, আর সোনালি মুরগির দাম ছিল ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি।

গতকাল কল্যাণপুর ও কাওরানবাজারে ব্রয়লার মুরগি ২০০ থেকে ২১০ টাকা ও সোনালি মুরগি ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

কল্যাণপুর বিআরটিসি মার্কেটের মুরগি বিক্রেতা আব্দুল হালিম বলেন, ঈদের আগের দিন বেলা ২টার মধ্যে সোনালি মুরগি সব বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। তখন চাহিদা বাড়ায় মুরগির দাম বেড়ে গিয়েছিল। এখন সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৩০ টাকা কমেছে। আর ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাওরানবাজারের কাঁচাবাজারে প্রায় ২০টি দোকানে গরু ও খাসির গোশত বিক্রি হয়। গতকাল দেখা গেল মাত্র তিনটি দোকান খোলা আছে। বিক্রেতা মুসলিম উদ্দিন বলেন, একটি গরু কেটেছি। এখনো বিক্রি করতে পারিনি; বিকেল হয়ে গেল। ৭৮০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। বিক্রেতারা বলছেন ঈদের আগের দিন কাওরানবাজারে ৭৮০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও কল্যাণপুর ও হাতিরপুল বাজারে ৮০০ থেকে ৮২০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছিল গরুর গোশত।

কাওরানবাজারের মাছের বাজারে দেখা যায়, বেশির ভাগ বিক্রেতাই অলস সময় পার করছেন। এখানকার চার ভাগের এক ভাগ দোকানই বন্ধ। কাওরানবাজারের মাছবিক্রেতা মোহম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, মাছের সরবরাহ কম, আবার ক্রেতাও কম। পাইকারিতে মাছের দাম কেজিতে ২০-২৫ টাকা বেড়েছে। তাই খুচরায়ও এমনই দাম বেড়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘মাঝারি আকারের রুই মাছের কেজি ৩৫০ টাকা, ছোট পাবদা মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি। মাঝারি আকারের চিংড়ি ৮০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা যায় কমেছে সবজির দাম। ঢেঁড়স, পটোল ও করলার দাম কেজিতে ৩০-৩৫ টাকা করে কমেছে। কল্যাণপুরের বিক্রেতা ফারুক হোসেন বলেন, করলা প্রতি কেজি ৫০ টাকা, পটোল ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ টাকা কেজি। ঈদের আগের তুলনায় কেজিপ্রতি ২০ টাকা কমেছে। তবে টমেটোর দাম এখনো বাড়তি আছে। প্রতি কেজি টমেটো ৫০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বেগুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগের দিন শসার চাহিদা বেশি থাকায় দাম হয়েছিল ৭০-১০০ টাকা কেজি। তবে এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকায়। মাঝারি আকারের লেবুর দাম প্রতি হালিতে ২০ টাকা কমে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।