প্রকৌশলীদের ইফতার মাহফিলে ডা. শফিক
শুধু জ্ঞান ও দক্ষতা থাকলেই হবে না সৎও হতে হবে
Printed Edition
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। মানুষকে তিনি ভালো মন্দের জ্ঞান বা বিবেক দিয়েছেন। প্রকৌশলীরা হচ্ছে মানুষের মধ্যে অন্যতম সেরা মেধাবী। কিন্তু একজন মানুষের মধ্যে শুধু জ্ঞান ও দক্ষতা থাকলেই হবে না, তাকে একই সাথে সৎও হতে হবে। তাহলেই তার দ্বারা দেশ এবং জাতি উপকৃত হবে।
গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দ্য ফোরাম অব ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস, বাংলাদেশ (এফইএবি) আয়োজিত রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। ফোরামের সভাপতি প্রকৌশলী মো: গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি পরিকল্পনাবিদ মো: সিরাজুল ইসলামের পরিচালনায় ইফতার মাহফিলে বক্তৃতা করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও দ্য ফোরাম অব ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস, বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সাইফুল আলম খান মিলন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দীন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, আইইবির সম্মানীয় সেক্রেটারি এবং বুয়েটের পানিসম্পদ প্রকৌশল বিভাগের প্রফেসর ও প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী ড. সাব্বির মোস্তফা খান, আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (এইচআরডি) প্রকৌশলী শেখ আল আমিন, বুয়েটের ন্যানো ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ও প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান ড. ফখরুল ইসলাম, এফইএবি ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি প্রকৌশলী কাজী আবিদ হাসান সিদ্দিক, এফইএবি ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহসভাপতি প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ ব্রিজ অথরিটির সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার প্রকৌশলী কবির আহমেদ, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সাবেক প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মেজবাহ উদ্দিন খান, এফইএবি ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ তায়ালার মনোনীত বিধান হচ্ছে ইসলাম। সেই ইসলামী জীবনব্যবস্থা থেকে দূরে সরে গিয়ে মন মতো ইসলামের আংশিক বিধান পালন করার ফলে সমাজ বিশৃঙ্খলা ও অনাচার থেকে রেহাই পাচ্ছে না। ইসলাম আংশিক মানার সুযোগ নেই। ইসলামের আলোকে পুরোপুরি নিজেদের জীবন গড়ে তুলতে হবে। তবেই দুনিয়া শান্তিময় হয়ে উঠবে।
শহীদ আবরার হত্যাকারীদের দ্রুত রায় কার্যকরের আহ্বান: আধিপত্যবাদ বিরোধী চেতনার প্রতীক বুয়েটের ছাত্র শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় উচ্চ আদালত ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় দ্রুত রায় কার্যকরের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র আবরার ফাহাদকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে এক ভয়াবহ নিষ্ঠুর ও পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। আবরার ফাহাদের পিতার মামলা দায়েরের প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র গঠন করা হয়। দুই পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। গতকাল হাইকোর্টের রায়ে সেই ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন বহাল রাখা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের যে রায় হাইকোর্ট দিয়েছেন, তার মাধ্যমে সুবিচার নিশ্চিত হবে বলে আমরা আস্থা রাখতে চাই। এ রায়ে আমরা মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। তিনি বলেন, রায় দ্রুত কার্যকর হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ন্যায়বিচার পাবে। বিচারের ক্ষেত্রে আরেকটি মাইলফলক তৈরি হবে, ইনশা আল্লাহ।
দিনাজপুর : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, জামায়াতে ইসলামী দুর্নীতি, অনিয়ম ও টেন্ডারবাজিসহ যাবতীয় অনিয়মের বিরুদ্ধে আপসহীন। জামায়াতের নেতাকর্মীরা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন দিতে প্রস্তুত।
গতকাল জামায়াতে ইসলামী দিনাজপুর জেলা বিরামপুর আদর্শ হাইস্কুল মিলনায়তনে দিনব্যাপী রুকন শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জেলা আমির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হকের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, সাবেক জেলা আমির আনোয়ারুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বিষয়ভিত্তিক ও গ্রুপ আলোচনা করেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিবুর রহমান পলাশ, সহকারী সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম সৈকত, জেলা তারবিয়াত সেক্রেটারি মাওলানা রবিউল ইসলাম প্রমুখ।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ : একটি গোষ্ঠী আওয়ামী লীগের মতোই চায়না ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হোক, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করুক মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, আওয়ামী লীগের প্রচেষ্টা ছিল তাদের বিরোধী বলয়ের সাথে ইসলামী দলগুলো জোটবদ্ধ না হয়। এ জন্য তারা আলেমদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির পথে হেঁটেছে। ইসলামী দলগুলোকে আলাদা-আলাদাভাবে বিভক্ত করার কাজ করেছে। একশ্রেণীকে তারা প্ররোচিত করেছে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী, আওয়ামী লীগের ফাঁদে পা দেয়নি। যার কারণে আওয়ামী লীগের প্রথম ও প্রধান টার্গেট ছিল জামায়াতে ইসলামীকে নিঃশেষ করে দেয়া। এই লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ জামায়াতের নেতৃত্বের ওপর হানা দেয়। একে-একে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ ১১ জন নেতাকে বিচারিক হত্যা করে। একটি মিমাংসিত বিষয়কে টেনে এনে মিথ্যা অভিযোগ, মিথ্যা ও ভুয়া সাক্ষী দিয়ে নিজেদের তৈরি ক্যাঙ্গারু কোর্টে জামায়াতের নেতৃবৃন্দকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করেছে। সেই কোর্ট ও বিচারকে বিশ্বের কেউ স্বীকৃতি দেয়নি। বরং বলেছে এটি বিচারের নামে পরিকল্পিত সাজানো ও প্রতিহিংসার দৃষ্টান্ত।
গতকাল ওলামায়ে কেরামদের ঐক্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামী যাত্রাবাড়ী পূর্ব থানার আমির মো: শাহজাহান খানের সভাপতিত্বে ও নায়েবে আমির হাফেজ মাওলানা মুজাহিদুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মো: কামাল হোসাইন, মহানগরী দক্ষিণের ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা মোশারফ হোসেন, তা’মীরুল মিল্লাত মহিলা কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান।