৩৫ বছর পর কুয়েতের তেল রফতানি স্থবির
Printed Edition
আরটি
উপসাগরীয় যুদ্ধের পর নজিরবিহীন এক সঙ্কটের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশ হিসেবে পরিচিত কুয়েত। পারস্য উপসাগরীয় এই দেশটি বিগত এক মাস ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে এক ব্যারেল তেলও রফতানি করতে পারেনি। একটি শিপিং মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে দেশটির তেল রফতানি ছিল শূন্য, যা ১৯৯১ সালের পর প্রথম এমন ঘটনা।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়াই এই অচলাবস্থার মূল কারণ। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই পথটি দিয়ে সাধারণত বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়। তবে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। এই প্রেক্ষাপটে কুয়েত পেট্রলিয়াম কর্পোরেশন ‘ফোর্স মেজার’ ঘোষণা করে তাদের সব ধরনের তেল রফতানি স্থগিত করে দেয়। দৈনিক গড়ে ২.৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করা কুয়েত সাধারণত ১.৮৫ মিলিয়ন ব্যারেল রফতানি করে থাকে। এই তেলের বড় অংশই চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো এশীয় দেশগুলোর বাজারে যায়। দেশটির অর্থনীতির অর্ধেকের বেশি এবং সরকারি বাজেটের প্রায় ৯০ শতাংশই এই পেট্রোলিয়াম খাতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে রফতানি বন্ধ হওয়া দেশটির জন্য বড় ধরনের আর্থিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।