মেসি এমবাপ্পেকে চ্যালেঞ্জ দেম্বেলের
Printed Edition
অন্য অনেক তারকা ফুটবলারের যা নেই সেই অর্জন আছে উসমান দেম্বেলের। ১০ ফুটবলারের মতো দেম্বেলে বিশ্বকাপ জিতেছেন। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। সে সাথে জিতেছের ব্যালন ডি’অর ট্রফিও। বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। দল শিরোপা ধরে রাখতে না পেরে রানার্সআপ হওয়ার কষ্টে পুড়েছেন। তবে এতদিন বিশ্বকাপে গোলের দেখা পাচ্ছিলেন না ফ্রান্সের এই মুসলিম ফুটবলারটি। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের পর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ। দুই আসরে ব্যর্থ হওয়ার পর এবার প্রথম ম্যাচেও গোলের দেখা নেই। পরের ম্যাচে ইরাকের বিপক্ষে এক গোল। আর পরশু রাতে হ্যাটট্রিক। নরওয়ের বিপক্ষে দলের ৪-১ গোলে জয়ে তিনটি গোলই প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের এই ফরোয়ার্ডের। এতে নিজের নামের পাশে জমা করেছেন ৪ গোল। এতে বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জয়ের ক্ষেত্রে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হলান্ড এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়রের ঘাড়ের ওপর গরম নিঃশ্বাস ফেলছেন।
প্রথম রাউন্ডে একেকটি দল তিনটি করে ম্যাচ পেয়েছে। নক আউট পর্বে অবশ্য এক ম্যাচে হারলেই ছিটকে পড়া। সুতরাং এই নক আউট পর্বে যে দলগুলো জিততে থাকবে এবং সে দলের খেলোয়াড়রা গোলের মধ্যে থাকলে তারাই শেষ পর্যন্ত থাকবেন গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে। সুতরাং এখনই বলা যাচ্ছে না কার ভাগ্যে জুটবে এই খেতাব।
তবে দেম্বেলের এই হ্যাটট্রিক এবং ৪ গোল পাওয়াটা ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমের জন্য স্বস্তি। ম্যাচে প্রতিদিন গোল পাবেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার ব্যাড ডে’তে দলকে যারা টেনে নিতে পারেন তাদেরই একজন এই দেম্বেলে। নরওয়ের বিপক্ষে কিন্তু গোল পাননি এমবাপ্পে। কাতার বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া এই স্ট্রাইকারকে কোচ তুলেও নেন মাঠ থেকে। এর আগেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন দেম্বেলে। ৩২ মিনিটের মধ্যে তিনবার জালে বল পাঠান। ফলে রাশিয়ার ওলেক সালেঙ্কোর পর তিনি বিশ্বকাপের প্রথমার্ধে হ্যাটট্রিক করা দ্বিতীয় ফুটবলার।
আর্লিং হলান্ডের নরওয়ে কত দূর যেতে পারবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে। সে তুলনায় মেসির আর্জেন্টিনা, ভিনিসিয়াসের ব্রাজিল, এমবাপ্পে-দেম্বেলের ফ্রান্সেরই আরো এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। যদি অঘটন না ঘটে।
২০২৪-২৫ সিজন থেকেই পিক ফর্মে আছেন দেম্বেলে। সেই সিজনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা তিন ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন। এই রেকর্ড তারই। সেই সিজনে ফরাসি লিগ ওয়ানে ২১ গোল দিয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। যা দলকে ১৩তম লিগ শিরোপা জিততে সহায়তা করে। পুরো সিজনে ৩৩ গোল এবং ১৫ অ্যাসিস্ট ছিল তার ৪৯ ম্যাচে। এটা তাকে ব্যালন ডি’অর জয়ের লড়াইয়ে রাখে। এরপর সেই পুরস্কারও জয় করেন। অবশ্য ক্লাব বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব ইনজুরির জন্য মিস করেছেন। সুস্থ হয়ে ফিরে কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখ এবং সেমিতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে গোলের দেখা পান। যদিও ফাইনালে পিএসজিকে হারতে হয়েছিল চেলসির কাছে।
২০২৫-২৬ সিজনে দফায় দফায় ইনজুরিতে পড়তে হয়েছিল দেম্বেলেকে। এরপরও ফরাসি লিগে ১০ গোল আর ৬ অ্যাসিস্ট ছিল তার। এরপর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে আর্সেনালের বিপক্ষে সমতাসূচক গোল করেন। এরপর টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জিতে পিএসজি ধরে রাখে ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্ব।
এবারের বিশ্বকাপে ইরাকের বিপক্ষে এমবাপ্পের একটি গোলে তার অ্যাসিস্ট। এরপর নিজে গোল করেন। সেই ধারাক্রমে নরওয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক। এতে তৃতীয় ফরাসি হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিককারী তিনি। এর আগে ২০২২ বিশ্বকাপে কাতারের মাঠে ফাইনালে এমবাপ্পে এবং ১৯৫৮ বিশ্বকাপে জাস্ট লুইস ফন্টেই হ্যাটট্রিক করেছিলেন। দেম্বেলের এই হ্যাটট্রিক বিশ্বকাপে দ্বিতীয় দ্রুতগতির। ১৯৫৪ সালে পোল্যান্ডের এরিখ প্রোবস্ট দ্রুততম হ্যাটট্রিকের মালিক। আর ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে রাশিয়ার ওলেগ সালেঙ্কোর পর প্রথমার্ধে হ্যাটট্রিক করা দ্বিতীয় ফুটবলার এই দেম্বেলে।