সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রত্যাশা জুবাইদা রহমানের

Printed Edition
back-4
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা পেশাজীবী কমিটির আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ডা: জুবাইদা রহমান : নয়া দিগন্ত

বিশেষ সংবাদদাতা

কড়াইল-ভাসানটেক-সাততলা এলাকার নানা সমস্যার কথা শুনে ‘সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র’ বিনির্মাণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন ডা: জুবাইদা রহমান।

গতকাল বিকেলে রাজধানীর হাতিঝিলে এক অনুষ্ঠানে তিন এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সমস্যা শুনে ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী এ রকম প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, আপনারা আপনাদের মূল্যবান সময় নিয়ে এখানে এসেছেন, আমাদের কথা শুনেছেন এবং আপনাদের সমস্যাগুলো আমাদেরকে বলেছেন। আমরা আমাদের সাধ্যমতো আপনাদের সমস্যাগুলো আরো শুনব, আরো জানব। আমরা একে অপরকে আরো জানতে চেষ্টা করব যাতে সমস্যাগুলো কিভাবে সুষ্ঠুভাবে সমাধান করে একটি সুন্দর সমতাভিত্তিক জ্ঞানভিত্তিক শ্রমভিত্তিক রাষ্ট্র উপহার দেয়া যায়। আমাদের রাজনীতি সুষ্ঠু পরিকল্পনার রাজনীতি। এখন আমাদের গৌরবের নতুন সূর্যোদয়। আমরা বলি, আমার আগে ‘আমরা’, আমাদের আগে ‘দেশ’, ক্ষমতার আগে ‘জনতা’, সবার আগে ‘বাংলাদেশ’, ভেদাভেদের আগে ‘সমতা’, সবার জন্য ‘সমান সুযোগ-শ্রমের মর্যাদা’। আমরা সবাইকে শ্রমের মর্যাদা, মেধার মূল্যায়ন, মেধাভিত্তিক চাকরি এবং অধিকার, সুবিচার, শোষণের আগে অধিকার দিতে চাই।

জুবাইদা রহমান বলেন, আমরা এমন একটি সমাজ, এমন একটি রাষ্ট্র উপহার দিতে চাই জনগণকে যেখানে নেতার আগে জনতা। করব কাজ গরব দেশ সবার আগে বাংলাদেশ এবং সেজন্য আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সব পেশার মানুষজন একসাথে আসায় তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এতক্ষণ আমরা শুনলাম ভাসানটেক, কড়াইল, সাততলা থেকে আগত তিনজন বোনের হৃদয়বিদারক অনেক সমস্যার কথা, শুনলাম দু’জন পোশাককর্মী ভাই ও বোনের হৃদয়বিদারক সমস্যাগুলোর কথা এবং একজন পরিবহনকর্মী ভাইয়ের কথা। আপনাদের সমস্যা অনেক। আমি-আপনি-আমাদের সবার সমস্যা অনেক। সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে এই সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারেক রহমান।

হাতিরঝিলে অ্যাস্ফিথিয়েটারের উন্মুক্ত গ্যালারিতে বিএনপির ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচন পরিচালনা পেশাজীবী কমিটির উদ্যোগে এই মতবিনিময় সভা হয়। এতে কড়াইল, ভাসানটেক ও সাততলার কর্মজীবী রিকশাচালক, বাসচালক, পোশাককর্মী, চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, ব্যাংকার্স, সিস্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, পরিচালক সৈয়দা তাজনীন ওয়ারিস সিমকী, ভাসানটেকের বাসিন্দা গৃহিণী তানিয়া আখতার, কড়াইল আদর্শ নগরের তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী ফাতেমা আখতার বিথি, সাততলা এলাকার সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নার্গিস আখতার এবং পোশাককর্মী মির্জা আল শামীম, ফাতেমা খাতুন এবং পরিবহন শ্রমিক রুহুল আমিন বাবু বক্তব্য রাখেন।

তারা নিজ নিজ এলাকার সমস্যা বিশেষ করে রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, পয়োনিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা, খেলার মাঠ নির্মাণ, হাসপাতাল স্থাপন, শিল্প প্রতিষ্ঠানে ডে-কেয়ার সেন্টার তৈরি, শিল্পে নারীকর্মীদের ওপর নিপীড়ন নির্যাতন বন্ধ করা, যানজটের নিরসন, বস্তিবাসীদের বাসস্থানের স্থায়ী পুনবার্সন, গণপরিবহনের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তিতে চলমান দুর্নীতি দূরীকরণ, এলাকায় রাস্তাঘাটের লাইটিং ব্যবস্থা উন্নত করাসহ বিভিন্ন সমস্যাগুলো তুলে ধরেন।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী তারেক রহমানের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আবদুস সালাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।