২০২৫ সালের ৮টি বিশ্বসেরা টিভি শো
Printed Edition
সাকিবুল হাসান
২০২৫ সালটি ছিল বিশ্বজুড়ে টেলিভিশন এবং স্ট্রিমিং জগতের জন্য একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও বৈচিত্র্যময় বছর। বর্তমান সময়ে বিনোদনের কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা নেই; বরং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর কল্যাণে বিশ্বের একপ্রান্তের গল্প অন্যপ্রান্তের মানুষের ড্রয়িংরুমে পৌঁছে যাচ্ছে। এই তালিকায় স্থান পাওয়া শোগুলো মূলত বিশ্বসেরা ইংরেজি ভাষার প্রযোজনা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কাজ, যা সারাবিশ্বের দর্শকদের কাছে সমানভাবে সমাদৃত হয়েছে। মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্র কিংবা মহাকাব্যিক কল্পনা সব মিলিয়ে ২০২৫ সালের এই বৈশ্বিক সঙ্কলনটি নিচে তুলে ধরা হলো।
অ্যাডোলেসেন্স : চার পর্বের এই মর্মস্পর্শী নাটকটি ছিল এ বছরের অন্যতম সেরা কাজ। এর বিশেষত্ব হলো, পুরো সিরিজটি মাত্র একটি টেকে ধারণ করা হয়েছে। ১৩ বছর বয়সী জেমি মিলারের চরিত্রে অভিনয় করে এমি পুরস্কার জিতে নিয়েছেন নবাগত অভিনেতা ওয়েন কুপার। একজন সহপাঠীকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত এক কিশোর এবং তার পরিবারের ওপর সেই অভিযোগের পরবর্তী প্রভাব নিয়ে গড়ে উঠেছে এর কাহিনী। এটি যেমন শৈল্পিক, তেমনি আবেগঘন এবং যন্ত্রণাদায়ক।
সেভারেন্স সিজন ২ : অ্যাপলের এই মনস্তাত্ত্বিক রহস্যময় নাটকটি দ্বিতীয় কিস্তিতে তার পরিধি আরো বাড়িয়েছে। অফিসের ভেতরে এবং বাইরের স্মৃতি আলাদা রাখার যে অদ্ভুত প্রযুক্তি, তার নেপথ্যে থাকা নিষ্ঠুরতা উন্মোচন করার লড়াই এখানে তীব্রতর হয়েছে। পরিচালক বেন স্টিলার প্রথম কিস্তির সেই চিরচেনা রহস্যময় এবং অস্বস্তিকর পরিবেশটি এখানেও চমৎকারভাবে ধরে রেখেছেন।
স্ট্রেঞ্জার থিংস সিজন ৫ : ভলিউম ১ আশির দশকের পটভূমিতে তৈরি এই মহাকাব্যিক থ্রিলারের শেষ ভাগ নিয়ে প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। ডাফার ব্রাদার্স আবারো প্রমাণ করেছেন যে, মূলধারার বিনোদনে উত্তেজনা তৈরিতে তাদের কোনো জোড়া নেই। ভয়, কৌতুক এবং আবেগের এক দারুণ সংমিশ্রণ দেখা গেছে এই পর্বে, যা দর্শকদের পরবর্তী খণ্ডের জন্য অধীর করে রেখেছে।
মো সিজন ২ : কুয়েতে জন্ম নেয়া ফিলিস্তিনি শরণার্থী মো নাজ্জারের জীবনের গল্প নিয়ে এই জীবনমুখী কৌতুকপূর্ণ নাটক। টেক্সাসে নিজের পরিবারের রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার দীর্ঘ প্রতীক্ষার পাশাপাশি পরিবার, ধর্ম এবং নির্বাসনের মতো জটিল বিষয়গুলোকে প্রধান অভিনেতা মো আমের অত্যন্ত সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই গভীর বিষয়গুলোকে তিনি যেভাবে হালকা চালের হাস্যরসের মাধ্যমে দেখিয়েছেন, তা সত্যিই অতুলনীয়।
অ্যান্ডর সিজন ২ : স্টার ওয়ার্স ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে আসা এটি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক নাটক। অধিকার আদায়ের লড়াই এবং সাধারণ মানুষের বিপ্লবের যে চিত্র এখানে ফুটে উঠেছে, তা কেবল একটি কাল্পনিক গল্প নয়, বরং এক মানবিক দলিল হিসেবে দাঁড়িয়েছে। অভিনেতা দিয়েগো লুনা এবং নির্মাতারা এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের সায়েন্স ফিকশন গল্পের জন্য একটি অনন্য মানদণ্ড তৈরি করেছেন।
দ্য স্টুডিও : সেথ রোগেন এবং তার দল হলিউডের ভেতরের জগতের এক চমৎকার ব্যঙ্গধর্মী কাজ উপহার দিয়েছেন। একজন নব্য নিযুক্ত স্টুডিও প্রধান, যিনি ভালো শিল্প তৈরির স্বপ্ন দেখেন কিন্তু বাস্তবতার চাপে পড়ে কেবল মুনাফার পেছনে ছুটতে বাধ্য হন এমনই এক গল্প এটি। বিনোদন জগতের অসারতাকে এটি যেমন বিদ্রুপ করেছে, তেমনি দর্শকদের আনন্দ দিতেও সফল হয়েছে।
স্লো হর্সেস সিজন ৫ : জ্যাকসন ল্যাম্ব এবং তার তথাকথিত অযোগ্য গোয়েন্দা দলের গল্প নিয়ে তৈরি এই রহস্য সিরিজটি এবারো দর্শকদের মাতিয়ে রেখেছে। যদিও এটি আগের পর্বগুলোর তুলনায় কিছুটা মন্থর ছিল, তবুও গ্যারি ওল্ডম্যানের অনবদ্য অভিনয় এবং ব্রিটিশ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে সাজানো জটিল রহস্য একে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে।
লাস্ট ওয়ান লাফিং : ১০ জন কৌতুক অভিনেতাকে একটি ঘরে ছয় ঘণ্টার জন্য আটকে রাখা হবে এবং শর্ত একটাই হাসা যাবে না। জাপানিজ একটি অনুষ্ঠানের এই ব্রিটিশ সংস্করণটি ছিল এ বছরের অন্যতম আনন্দদায়ক আয়োজন। মেধাবী সব কৌতুক অভিনেতার উপস্থিতি এবং হোস্ট জিমি কার-এর অদ্ভুত সব কাণ্ডকারখানা পুরো অনুষ্ঠানটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।