রাতের আঁধারে নিম্নমানের খোয়া দিয়ে সড়ক নির্মাণ
Printed Edition
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের গুজিয়াম এলাকায় সড়ক নির্মাণে নিম্নœমানের ইটের খোয়া ও সুরকি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে কাজ বন্ধ রেখে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সরে গেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় দায় এড়াতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেয়া হয়েছে বলে দাবি করছে উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়। তবে ঠিকাদারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনো নোটিশ পাননি।
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়সূত্র জানায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) অর্থায়নে আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের গুজিয়াম-মোক্ষপুর সড়কটি কাঁচা থেকে পাকা করার কাজ পায় ‘মেসার্স কুদ্দুস এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের কয়েক দিন আগে প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদে গভীর রাতে নিম্নœমানের ইটের খোয়া ও সুরকি এনে সড়কে ব্যবহার করা হয়। ফজরের নামাজের সময় স্থানীয় মুসল্লিরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে প্রতিবাদ করেন এবং নিম্নমানের উপকরণ সরিয়ে ভালো মানের সামগ্রী ব্যবহারের দাবি জানান। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দান-অনুদানের আশ্বাস দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্রুত ওই খোয়ার ওপর বালু ঢেকে দেয়। অনেকে বলছেন, রাতের অন্ধকারে ট্রাকভর্তি খোয়া এনে রাস্তায় বিছিয়ে দ্রুত বালু দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে।
গুজিয়াম গ্রামের বাসিন্দা নাজমুল ইসলাম ও চাঁন মিয়া বলেন, মাঝরাতে ট্রাকভর্তি নিম্নমানের ইটের খোয়া এনে রাস্তায় ফেলা হচ্ছিল। আমরা কয়েকজন সেখানে গিয়ে দেখতে পাওয়ার পর বাধা দিলেও ঠিকাদার আমাদের কথা শোনেননি। তারা বলেন, বিষয়টিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা রয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা অনিয়ম দেখতে পেয়ে প্রতিবাদ করেছি। অনেকেই বিষয়টি দেখেছেন, কিন্তু ভয় বা নানা কারণে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।
এ দিকে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়কে অবহিত করেন। এরপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ই-মেইলের মাধ্যমে নোটিশ দেয়া হয়েছে বলে দাবি করছেন উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মো: রোকন আল ইবনে মাহাদী। তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনের আগে স্বল্প সময়ের মধ্যে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। সে সময় কিছু নিম্নœমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা ঠিকাদারকে নোটিশ দিয়েছি।
তবে উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে খেঁাঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঠিকাদারকে নোটিশ দেয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও জানান। দুই কর্মকর্তার ভিন্নমুখী বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
অন্য দিকে ‘মেসার্স কুদ্দুস এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী কুদ্দুস দাবি করেন, তাদের কাছে কোনো নোটিশ পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো কোনো নোটিশ পাইনি।’
এ ঘটনার পর থেকে সড়কটির নির্মাণকাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নœমানের নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন করা হোক। একই সাথে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।