তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান জামায়াত আমির
বরগুনার ধর্ষিত মেয়েটির ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিয়েছে জামায়াত
Printed Edition
বরগুনায় শিশুকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়েরের পর তার বাবাকে হত্যার শিকার পরিবারটির খোঁজ খবর নিতে গিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির শফিকুর রহমান বলেন, প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে একটি আওয়াজ তুলতে হবে, আমরা সবাই কুরআনের আইন চাই, আমরা একটি কুরআনের মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। সৎ পথে আন্দোলনের ফলে আজকে এই মুক্ত পরিবেশ। যারা শহীদ হয়েছেন তাদের পরিবারের দায়িত্ব নিতে বাধ্য হয়েছি। কে কোন ধর্মের সেটা কখনো দেখিনি। আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। তিনি গতকাল সোমবার সকালে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে যান এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর আমির আরো বলেন, সামাজিকভাবে আমরা সব সময় মজলুমদের পাশে ছুটে আসি, তাহলে নির্যাতিত মজলুমরা শক্তি পাবেন। জালিমদের ভয় দেখাতে হবে, তাদের শাস্তিও নিশ্চিত করতে হবে। এই অনুভূতি নিয়ে যে সেই মজলুম ব্যক্তিটি আমিও হতে পারতাম, তখন সমাজের কাছে আমি কী আশা করতাম!
শফিকুর রহমান বলেন, মেয়েটির বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত তার পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন করবে জামায়াত। আমাদের কাছে দল ও ধর্মের কোনো ব্যবধান নেই। মানবতা যেখানেই বিপন্ন হবে, আমরা চেষ্টা করি সেখানেই হাজিরা দেয়ার। আমাদের বার্তা পরিষ্কার, আমরা জালিমের বিরুদ্ধে আর মজলুমের পক্ষে।
বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মহিবুল্লাহ হারুন বলেন, নিহত মন্টু চন্দ্র দাস যদি জীবিত থাকা অবস্থায় যেভাবে চলেছেন, এখন যেন তার চেয়ে একটু ভালো চলতে পারে সেই দিকে আমরা খেয়াল রাখব। আমাদের আমির বলেছেন, কোলের ছোট শিশুটির বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত এই পরিবারের পাশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থাকবে ইনশাআল্লাহ। মেয়েটির মামলার দায়িত্ব নেয়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান ডা: শফিকুর রহমান।
বরগুনার টাউন হল মাঠে পথসভায় জামায়াতে ইসলামী বরগুনা জেলা শাখার আমির মাওলানা মহিবুল্লাহ হারুনের সভাপতিত্বে এ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জাম হোসেন হেলাল, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ডা: শফিকুল ইসলাম মাসউদ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগরের আমির অধ্যক্ষ জহিরউদ্দিন মো: বাবর ও কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য সদস্য ফখরুদ্দিন খান রাজী। এ পথসভা সঞ্চালনা করেন বরগুনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান আল মামুন। এর আগে সোমবার সকালে আমিরে জামায়াত ড. শফিকুর রহমান হেলিকপ্টারযোগে বরগুনা সার্কিট হাউজ মাঠে অবতরণ করে বরগুনা শহরের মেয়েকে অপহরণ করে ধর্ষণের মামলা করার পর নিহত মন্টু দাসের বাড়ি যান। সেখানে নিহতের পরিবারকে অর্থ সাহায্য ও কাপড়সহ খাদ্য সহায়তা করেন। ধর্ষিত মেয়েটির ১৮ বছর হওয়ার আগ পর্যন্ত তার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির ডা: শফিকুর রহমান।
এ ঘটনায় মামলার দায়িত্ব নেয়ার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান জামায়াতের আমির। সেই সঙ্গে তিনি প্রশাসন ও বিচার বিভাগের কাছে দাবি জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্তরা যেন কোনো প্রকার আইনি ফাঁকে বেরিয়ে যেতে না পারে। মামলাটি যেন দ্রুত বিচার আইনে সম্পন্ন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতের ঘটনার ৬ দিন পার হলেও কোনো আসামি ধরা পরেনি।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো হত্যাকারীকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এ ছাড়া ঘটনার দিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করলেও অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার অভিযুক্ত আসামি সৃজীব চন্দ্র রায়ের বাবা শ্রীরাম রায়, সৃজীবের সহযোগী কালু ও রফিক। এ মামলার একমাত্র এজাহারভুক্ত আসামি সৃজীব রায়সহ গ্রেফতারকৃত সবাই আদালতের নির্দেশে বর্তমানে কারাগারে আছেন। এর আগে গত মঙ্গলবার ১১ মার্চ দিবাগত রাত ১টার দিকে বরগুনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কালিবাড়ি করইতলা নামক এলাকার নিজ বাড়ির পেছন থেকে মন্টু চন্দ্র দাসের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে গত বুধবার বিকেলে বরগুনা সদর থানায় নিহতের স্ত্রী বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
অপর দিকে, মেয়েকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে বিচার চেয়ে দায়েরকৃত মামলার বাদি বাবাকে হত্যার অভিযোগ ওঠায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, এ ঘটনার খবর পেয়ে আমি এবং সদর সার্কেল স্যার ঘটনাস্থলে গিয়েছি। পুলিশ প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তদন্ত করে প্রাথমিক সুরাতহালে হত্যাকাণ্ড বলে মনে হয়েছে।
ঢাকা মহানগরী উত্তর : জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেছেন, আমরা একটা মানবিক নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। আমাদের দেশ আমরাই গড়ে তুলবো। যেখানে মায়া-মমতা ও ভালোবাসা থাকবে। গতকাল ঢাকা উত্তরের ৩৫ নং ওয়ার্ড (হাতিরঝিল পূর্ব থানা) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। থানা আমির অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান আযমীর সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি খন্দকার রুহুল আমিনের পরিচালনায় রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার-মিডিয়া সেক্রেটারি আতাউর রহমান সরকার। আরো বক্তৃতা করেন, থানা কর্মপরিষদ সদস্য ড. আনোয়ারুল হক। উপস্থিত ছিলেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য আবুল হাশেম মুন্সী, হাবিবুর রহমান, আশিক ইকবাল, আনোয়ার হোসেন, থানা শিবির সভাপতি ফজলুর রহমান প্রমুখ।
জালেমদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে
ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, গড়িমসি করে সময় ক্ষেপণ নয়, দ্রুততম সময়ের মধ্যে জালেমদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতাকে খুনের পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা ও বাস্তবায়নকারী সবাইকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। খুনিদের বিচার বাংলাদেশের পেনাল কোড অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন তিনি। গতকাল সোমবার দুপুরে ঝালকাঠি পৌর মিনি স্টেডিয়ামের সামনে এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা জামায়াতে ইসলামী এ সভার আয়োজন করে।
জামায়াতের এ শীর্ষ নেতা বলেন, শহীদরা কারো পারিবারিক সম্পত্তি নয়, শহীদরা এ জাতির সম্পদ। আমরা সবাই শহীদ পরিবারের সদস্য। জামায়াতে ইসলামী জুলাই-আগস্টের সব শহীদ পরিবারের প্রতি নৈতিক দায়িত্ব পালন করবে।
শহীদ সেলিম তালুকদারের কন্যাসন্তানকে দেখতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা শহীদ সেলিম তালুকদারের নবজাতক কন্যাসন্তানকে দেখতে এসেছি। আমরা তার নাম রেখেছি সাইমা সেলিম রোজা। তার বেড়ে ওঠা, বিকশিত হওয়া, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বিয়ে পর্যন্ত আমরা তার দায়িত্ব নিচ্ছি।
জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে পথসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসাইন হেলাল, ঝালকাঠি-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, বরিশাল জেলা আমির অধ্যাপক আব্দুল জব্বার।
কুরআন সুন্নাহর আদর্শ ছাড়া অপরাধ দমন সম্ভব নয় : হামিদুর রহমান আযাদ
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, কুরআন সুন্নাহর আদর্শের সত্যিকারের অনুসরণ ছাড়া সামাজিক ও রাষ্ট্রিও অপরাধ দমন সম্ভব নয়। আল্লাহ কাছে জবাবদিহিতার ভয় না থাকালে রোজার মাসেও ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতির মতো অপরাধ কমানো যাবে না। আমাদের রাষ্ট্রের ফ্যাসিবাদী আচরণ দূর হবে না। বাংলাদেশকে যদি সত্যিকারের কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করতে হয়, তাহলে ইসলামের সত্যিকারের অনুসরণের ভিত্তিতে সৎ ও নৈতিকতাসম্পন্ন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জামাতে ইসলামী বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
গাজীপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামের উদ্যোগে সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গতকাল তিনি এসব কথা বলেন।
গাজীপুর জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহানগর সেক্রেটারি আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গাজীপুর জেলার সাবেক আমির আবুল হাশেম খান।
এ ছাড়াও অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও গাজীপুর মহানগর নায়েবে আমির খায়রুল হাসান, মাওলানা হোসেন আলী, মহানগর সেক্রেটারি আফজাল হোসেন, গাজীপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান টিটো, প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি শাহ শামসুল হক রিপন, গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি মো: রেজাউল বারী বাবুল, টঙ্গী প্রেস ক্লাবের সভাপতি শেখ মো: আজিজুল হক, সাংবাদিক সমিতি গাজীপুরের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ, গাজীপুর টেলিভিশন সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ফজলুল হক প্রমুখ।