স্থিতিশীল বাজারে দাম ঊর্ধ্বমুখী গোশতের
গরু ও খাসির গোশতের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা
Printed Edition
পুরো রমজান মাসজুড়ে বাজারে স্থিতিশীল অবস্থা দেখা গেছে। অধিকাংশ পণ্যের দাম ছিল নিয়ন্ত্রণে। আবার রমজানকে সামনে রেখে অনেক পণ্যের দাম ছিল নিম্নমুখী। তবে ঈদকে সামনে রেখে এবার ঊর্ধ্বমুখী গোশতের বাজার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে বাজারে চাহিদা বেড়েছে গরু, খাসি ও মুরগির গোশতের। বাজারভেদে গরু ও খাসির গোশতের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা। এ ছাড়া ব্রয়লার ও পাকিস্তানি মুরগির দাম বেড়েছে কমপক্ষে ২০ থেকে ৩০ টাকা। তবে ঈদের বাড়তি চাহিদার অন্যান্য পণ্য, যেমন চিনি, তেল ও পোলাওয়ের চাল বা সেমাইয়ের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। সবজি ও মাছের দামেও খুব বেশি হেরফের দেখা যায়নি।
গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, প্রতি ঈদেই বাড়তি চাহিদার কারণে গোশতের দামে কিছুটা বেড়ে থাকে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার দাম তুলনামূলক কমই বেড়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য পণ্য ক্রেতার নাগালের মধ্যে রয়েছে। বরং কিছু পণ্যের দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অনেক কম বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন।
বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল খুচরা পর্যায়ে ব্রয়লার মুরগির প্রতি কেজির দাম ছিল ২২০ থেকে ২৪০ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২১০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে। একইভাবে বেড়েছে পাকিস্তানি মুরগির দাম হয়েছে ৩৩০-৩৪০ টাকা । এ মুরগি আগে ৩০০-৩১০ টাকায় পাওয়া যেত।
মিরপুর-৬ কাঁচাবাজারের বিক্রেতা আব্দুল হালিম বলেন, ঈদে মুরগির চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। প্রতিটি পরিবার রোস্ট বা বিরিয়ানির জন্য মুরগি কেনে। সেই তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে। এদিকে বাজারে কয়েক দিন আগেও ৭৫০ টাকা কেজি দরে গরুর গোশত বিক্রি হয়েছে। এখন ৮০০ টাকার নিচে কেউ বিক্রি করছে না। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৫০ টাকা। গোশত বিক্রেতা বাচ্চু মিয়া বলেন, গরুর দাম একটু বেড়েছে। সে কারণে গোশতের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।
দুয়ারিপাড়া বাজারে ব্যবসায়ী সেকেন্দার আলী বলেন, এখন অনেকে ঈদের জন্য আগেভাগে গোশত কিনছেন। সকাল থেকে দুটি গরুর গোশত বিক্রি শেষ। এদিকে প্রতিটি গরু আগের চেয়ে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা বেশি দামে কিনতে হয়েছে। এদিকে ঈদের আগে গোশতের দাম বেড়ে যাওয়ায় অসুবিধায় পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। ওই বাজারে ক্রেতা রাবেয়া খাতুন বলেন, অন্য কোনো সময় হলে দাম বাড়ার কারণে কিনতাম না। কিন্তু এখন বাধ্য হয়ে কিনতেই হচ্ছে, কারণ ঈদ। সে সুযোগে ওরাও (বিক্রেতারা) দাম বাড়িয়ে নিচ্ছে।
এদিকে ঈদের বাজারে অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল দেখা গেছে। প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। গতবার ঈদের আগে এ চিনি কিনতে হয়েছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়। সয়াবিন তেলও সরকার নির্ধারিত ১৭৫ টাকা লিটারে মিলছে। একইভাবে ভালো মানের সুগন্ধি চাল ১১৫-১২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যা গত বছরের ঈদের আগের চেয়ে প্রায় ২০ টাকা কম।
অন্যদিকে প্যাকেট সেমাই বিক্রি হচ্ছে আগের দামে। এ ছাড়া খোলাসেমাই প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৪০, খোলা চিকন সেমাই ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এদিকে মসলা জাতীয় পণ্যের মধ্যে পেঁয়াজের দর এখনো কম। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। রসুনের দরে পরিবর্তন নেই। আগের মতোই আমদানি করা রসুনের কেজি ২০০ থেকে ২২০ এবং দেশী রসুনের কেজি ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশী আদা বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকায়। এদিকে অস্বাভাবিক দর দেখা গেছে এলাচের। তবে বেশ কয়েক মাস ধরে এলাচের দাম বেশি। খুচরা ব্যবসায়ীরা মানভেদে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি করছেন ৫০০০ থেকে ৫৫০০ টাকা দরে। এ ছাড়া প্রতি কেজি জিরা ৬৫০ থেকে ৭৫০, লবঙ্গ ১৪০০ থেকে ১৬০০ এবং দারুচিনি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।