গাজায় নিহত ৭৩ হাজার ছাড়াল
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকাজুড়ে রোববার ইসরাইলের হামলায় এক শিশুসহ ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন। এর ফলে গাজায় ইসরাইলি হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার তিনজনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন এক লাখ ৭৩ হাজার ২৫২ জন। খবর আনাদোলু অ্যাজেন্সির।
চিকিৎসা সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে একটি দোকান লক্ষ্য করে চালানো এক ইসরাইলি হামলায় চারজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দক্ষিণ গাজা উপত্যকার খান ইউনুসের পূর্বে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ৩০ বছর বয়সী জাকি মোহাম্মদ আল-কাররা নিহত এবং একজন আহত হন। খান ইউনুসের দক্ষিণে বাতন আল-সামিন এলাকায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর গুলিতে আমির আল-বাশিতি নামে এক শিশু নিহত হয়। ফলে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে।
ইয়েলো লাইনের ব্যাপক সম্প্রসারণ
গাজায় ইসরাইল ঘোষিত সামরিক নিয়ন্ত্রণ এলাকা ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে বলে এক অনুসন্ধানী রিপোর্টে জানিয়েছে আলজাজিরা। খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির শর্তের বাইরে গিয়ে ইসরাইল ধীরে ধীরে গাজার আরো বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। অনুসন্ধানে স্যাটেলাইট ছবি, ভূ-তথ্য বিশ্লেষণ এবং সঙ্ঘাত-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে দেখা যায়, ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর নির্ধারিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা নিয়ন্ত্রণরেখার বাইরে ইসরাইলি বাহিনী একাধিক স্থানে অগ্রসর হয়েছে। উত্তর গাজায় ঘোষিত সীমার চেয়ে কয়েক বর্গকিলোমিটার বেশি এলাকা কার্যত তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। কিছু এলাকায় কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে।
পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা অব্যাহত
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা, সম্পত্তি ধ্বংস এবং ঘরবাড়ি উচ্ছেদের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রামাল্লাহ, নাবলুস ও জেনিন অঞ্চলে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী ও সেনাবাহিনীর একাধিক অভিযানে কৃষিজমি, যানবাহন ও ধর্মীয় স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আনাদোলু অ্যাজেন্সি জানায়, রামাল্লাহর উত্তর-পশ্চিমে দেইর আবু মাশাল গ্রামে কৃষিজমিতে যাওয়ার পথে ফিলিস্তিনিদের ওপর পাথর নিক্ষেপ করে বসতি স্থাপনকারীরা। এ সময় স্থানীয়দের সাথে উত্তেজনা তৈরি হলে ইসরাইলি বাহিনী ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে। একই দিনে রামাল্লাহর পূর্বে দেইর দিবওয়ান এলাকায় দু’টি গাড়িতে আগুন দেয়া হয় এবং আরো দু’টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।