১৮ বছরেই স্বপ্নের খামার

শার্শায় দুম্বা পালনে তাসনিম জুবায়েরের সাফল্য

Printed Edition
bangla-3
শার্শায় দুম্বা পালনে তাসনিম জুবায়েরের সাফল্য

আব্দুল মান্নান শার্শা (যশোর)

মরুভূমির প্রাণী হিসেবেই পরিচিত দুম্বা। তবে যশোরের শার্শা উপজেলার এক নিভ”ত গ্রামে এই দুম্বা পালন করেই সাফল্যের দ”ষ্টান্ত গড়েছেন তাসনিম জুবায়ের। বয়স মাত্র ১৮ বছর। অথচ এই বয়সেই তাঁর খামারের দুম্বার বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০ লাখ টাকা। স্বপ্ন দেখার সাহস, অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর পরিকল্পিত উদ্যোগ যে বয়সের বাঁধা মানে না-তার বাস্তব উদাহরণ তাসনিম।

শার্শা উপজেলার রাড়ীপুকুর গ্রামের বিদেশফেরত বাবলু রহমানের ছেলে তাসনিম। পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে গিয়েই তাঁর মাথায় আসে ভিন্ন কিছু করার ভাবনা। ইউটিউবের বিভিন্ন ভিডিও দেখে দুম্বা পালনের প্রতি আগ্রহ জন্মায় তাঁর। বাবার উৎসাহ ও আর্থিক সহযোগিতায় ২০২৪ সালে নাটোরের বনপাড়া এলাকা থেকে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সাতটি দুম্বা কিনে শুরু হয় যাত্রা।

শুরুর সেই সাতটি দুম্বাই এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০টিতে। সঠিক জাত নির্বাচন, নিয়মিত পরিচর্যা এবং পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার ফলে অল্প সময়েই খামারটি লাভজনক হয়ে ওঠে। তাসনিম জানান, দুম্বার রোগবালাই তুলনামূলক কম, খাবারের খরচও সাশ্রয়ী। নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী সুষম খাদ্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং নিয়মিত যতেœর কারণে দুম্বাগুলো দ্রুত বেড়ে উঠছে।

পড়াশোনার পাশাপাশি খামারের প্রতিটি কাজ নিজেই তদারকি করেন তাসনিম। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তাঁর খামারে আসছেন সাফল্যের গল্প জানতে। অনেক তরুণ তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে দুম্বা পালনে আগ্রহী হচ্ছেন। ভবিষ্যতে গ্রাম পর্যায়ে দুম্বা পালন সম্প্রসারণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক খামার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

ছেলের সাফল্যে গর্বিত বাবা বাবলু রহমান বলেন, ইউটিউব দেখে তাসনিমের আগ্রহ তৈরি হয়। আমি তার পাশে দাঁড়িয়েছি। আজ তার সাফল্য আমাকে গর্বিত করে। শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তপু কুমার সাহা বলেন, নিয়মিত তদারকি, ভ্যাকসিন ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। দুম্বা পালন একটি সম্ভাবনাময় খাত। তাসনিমের খামার নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ।