নিম্নমুখী শীতের সবজির বাজার কমে এসেছে পেঁয়াজের দামও
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে অনেক। এতে ভোক্তাদের মধ্যে বেশ স্বস্তি ফিরেছে। অন্য দিকে পুরনো পেঁয়াজের দাম এখনো তুলনামূলক বেশি হলেও প্রতি কেজি নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। আর আমদানি করা পেঁয়াজের কেজিও এখন ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। অর্থাৎ, দু-তিন সপ্তাহ আগের চেয়ে পেঁয়াজের দাম প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। এ দিকে বাজারে মুরগি, ডিম, মাছ ও অন্যান্য মুদিপণ্যের দাম আগের মতোই স্থিতিশীল।
গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকায় বেশ শীত অনুভূত হওয়ায় বাজারগুলোতে ক্রেতা উপস্থিতি কিছুটা কম। বিক্রেতারা বলছেন, বেলা বাড়ার সাথে সাথে ক্রেতা সমাগম বাড়ে।
সবজি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ার ফলে দাম কমে নিম্ন মধ্যবিত্ত গ্রাহকেরও নাগালে এসেছে। এতে ক্রেতাদের মধ্যে শীতের সবজি কেনায় স্বস্তি দেখা গেছে। রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজারে দেখা গেছে, প্রতিটি দোকানে এখন থরে থরে সাজানো নতুন সবজি। দাম নাগালের মধ্যে থাকায় ক্রেতারাও প্রয়োজন মতো সবজি কিনতে পারছেন।
মিরপুর, দুয়ারীপাড়া বাজারে ইয়াকুব আলী নামের একজন ক্রেতা বলেন, গত বছর প্রায় পুরো সময় সবজির দাম বেশি ছিল। ৬০ টাকা কেজির কম সবজি কেনা যায়নি। এখন ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে অনেক সবজি কেনা যাচ্ছে। ১০০ টাকার সবজি কিনলে দু-চার দিনের জন্য যথেষ্ট।
দোকানগুলোতে বড় জায়গাজুড়ে থাকে বাঁধাকপি, ফুলকপি ও লাউ। মাঝারি আকারের একেকটি বাঁধাকপি এখন বিক্রি হচ্ছে বাজার ও মানভেদে ২০-৩০ টাকার মধ্যে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৩০ টাকার বেশি। একইভাবে কমেছে ফুলকপির দাম। আকারভেদে একেকটি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩৫ টাকায়। বড় মাপের গুণে-মানে লাউ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা দরে।
এ দিকে বাজারে শিমের দামও কমেছে। এখন অন্তত চার ধরনের শিম পাওয়া যাচ্ছে। তার মধ্যে নতুন আসা বিচিওয়ালা শিম ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য জাতের শিম ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে কেনা যাচ্ছে। মাত্র দু-তিন সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি নতুন আলু ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন তা কমে ২০-২৫ টাকায় নেমেছে। মুলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজি-প্রতি ১০ টাকা কমে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকায়। গাজরের দামও কমে ৪০-৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। শালগমও বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা কেজি দরে। মিষ্টি কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা কেজি।
পাকা টমেটোর দাম কমলেও এখনো মধ্যবিত্তের নাগালে আসেনি। প্রতি কেজি পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকার মধ্যে। তবে শাকের দাম কমেছে। পালং শাক, লাল শাক ও মুলা শাকের আঁটি এখন বিক্রি হচ্ছে ১০-১৫ টাকার মধ্যে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজারে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম বেশ কম। প্রতি ডজন বাদামি রঙের ডিম বাজারভেদে ১১০ থেকে ১২৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির বাজারও স্থিতিশীল। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৭০ টাকায়। সোনালি মুরগির কেজি এখন ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা।
বাজারে প্রতি কেজি চাষের পাঙ্গাশ, কই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকার মধ্যে। তেলাপিয়া আকার ভেদে ২০০-২২০ টাকা কেজি, পাবদা ৩৫০-৪০০, শিঙ ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর রুই-কাতলার কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। এ দাম গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একই রকম রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। অন্য দিকে মুদি বাজারে কোনো পণ্যের দামেই তেমন হেরফের হয়নি বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন। তবে চিনির দাম কমে ৯০-৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মসুর ডাল ও বুটের ডালের দামও কিছু কমছে।