সরকারি দলের কথা শুনলে মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে : ডা: শফিক

Printed Edition
first-2
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আহত নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ডা: শফিকুর রহমান : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, সমাজ চলছে গোঁজামিলের মধ্য দিয়ে। আমরা অতীত থেকে কোনো শিক্ষা নেই না। কিন্তু পাপ বাপকেও ছাড়ে না। সরকারি দলের কথা শুনলে মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে। দেশের কৃষি খাত বর্তমানে দুর্নীতি ও শক্তিশালী সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি অভিযোগ করেছেন, দেশে বিদ্যমান প্রতিটি সঙ্কট ও সিন্ডিকেটের পেছনে ক্ষমতাসীন দলের প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে।

গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এগ্রিকালচারিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (এএফবি) আয়োজিত ‘বিদ্যমান জ্বালানি সঙ্কট : কৃষি খাতের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক দেশ স্বনির্ভর হলেও আমরা পারছি না শুধুমাত্র পলিটিক্যাল সিন্ডিকেটের কারণে। বড় বড় যত সিন্ডিকেট রয়েছে, তার পেছনে রাষ্ট্রের ক্ষমতাধরদের হাত রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, স্বাধীন দেশের স্বাধীন মানসিকতার অভাবে আমরা দেশীয় সম্পদ ব্যবহার করতে পারছি না। আমাদের জলজ ও স্থলজ সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহার করলে দেশ অনেক এগিয়ে যেতো।

সংসদীয় গণতন্ত্রের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র শুরু হলেও বর্তমান বাস্তবতা তার উল্টো। সংসদের প্রতিটি মিনিটের জন্য জনগণের ট্যাক্সের লাখ লাখ টাকা খরচ হয়, কিন্তু জনগণের স্বার্থের প্রতিফলন সেখানে নেই। তিনি আরো বলেন, সমাজে গড়ার চেয়ে ভাঙার এবং দেয়ার চেয়ে নেয়ার মানসিকতা বেশি তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি তেলের সঙ্কট নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘তেল আছে সংসদে, কিন্তু পাই না বাইরে। পেট্রোল পাম্পে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন থাকলেও চোরাবাজারে আড়াই থেকে তিন গুণ বেশি দামে পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে। এদের পরিচয় কী?’ তিনি অভিযোগ করেন, মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযান চালানো হলেও সমস্যার মূল উৎপাটন করা হয় না। উল্লেখ্য যে, দেশের মোট তেলের ১৮ শতাংশ চাহিদা কেবল কৃষি খাতেই প্রয়োজন হয়।

ডা: শফিকুর রহমান বিবিএস-এর (বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো) সমালোচনা করে বলেন, অনেক সময় তাদের সঠিক তথ্য না দেয়ার ফলে জাতিকে বিভ্রান্ত হতে হয়েছে। এ ছাড়া তিনি বলেন, ‘রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (জ্উ) হলো ইউনিভার্সিটির প্রাণভোমরা, কিন্তু আমাদের এখানে সব চলছে গোঁজামিল দিয়ে। দুদক কমিশন বাতিল হয়েছে, সমাজ নীতিমালার বদলে দুর্নীতি দিয়ে চলছে।’ বিজ্ঞানমনস্কতার নামে নাস্তিকতাকে প্রচারের সমালোচনা করে তিনি প্রকৃত বিজ্ঞানমনস্ক হওয়ার ওপর জোর দেন।

তিনি দেশের ‘ভাগ্য পরিবর্তনে’ কৃষি নির্ভর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল খাতের উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে জোর দেয়ার আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শেষে তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনা থেকে শিক্ষা নিন। আপনারা যদি জনস্বার্থে টেকসই উন্নয়ন করেন তবে আমরা সহযোগিতা করবো, অন্যথায় আমাদের সকল শক্তি দিয়ে বাধা প্রদান করা হবে।’

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের সাথে বিসিবির তুলনা দিয়ে জামায়াত আমির গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শুনলাম এখানেও নাকি বিসিবির মতো ক্যু ঘটানোর চেষ্টা হচ্ছে। কৃষিবিদদের মতো মেধাবী মানুষদের সংগঠনে কেন জোর করে নেতৃত্ব দখলের রাজনীতি থাকবে? উপযুক্ত লোককে উপযুক্ত জায়গায় বসানোই সরকারের সার্থকতা। এই ব্যাড কালচারের কবর রচনা করতে হবে।

সেমিনারে ডক্টর মিজানুর রহমানের প্রবন্ধ পাঠে উল্লেখ করে বলেন, দেশের মোট শ্রমশক্তির ৩৮-৪০% কৃষিতে নিয়োজিত থাকলেও বর্তমানে এ খাত গভীর সঙ্কটে। জ্বালানি সঙ্কটে চলতি বোরো মৌসুমে ধানের উৎপাদন ২০ থেকে ২৫ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। দেশের ১৭-১৮ লাখ সেচ পাম্পের ৭০% ডিজেল চালিত। বর্তমানে প্রায় ১৫-২০% জমিতে সেচ ব্যাহত হচ্ছে। জ্বালানি আমদানি ব্যয় ১৮-২২% বৃদ্ধি পেয়ে ১৩-১৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৯-২১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে কৃষকের মুনাফা ১০-২৫% কমে যাচ্ছে, যা বোরো চাষে লোকসানের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

সেমিনারে বিশেষজ্ঞ বক্তারা অভিমত দেন যে, ভারত থেকে পাইপ লাইনে সরবরাহ বা রাশিয়া থেকে তেল আমদানির চেষ্টা চললেও অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেট ও অব্যবস্থাপনা দূর না হলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সম্মেলনে ডা: শফিক

জনগণের অধিকার আবার পায়ের তলায় পিষ্ট করার পাঁয়তারা শুরু হয়েছে মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা সংসদ থেকে বের হয়ে এসেছি। কিন্তু আমরা আবার সংসদে ফিরে যাব। মাঝখানে মুক্তির ময়দানে লড়াই হবে। জনগণকে সাথে নিয়ে জনগণের মুক্তির আন্দোলন আমরা গড়ে তুলব। এই আন্দোলনে জনগণের অধিকারের ব্যাপারে আমরা সরকার কিংবা যেকোনো কর্তৃপকে ইনশাআল্লাহ চুল পরিমাণ ছাড় দেবো না। আন্দোলনে অতীতের মতো গৌরবময় ভূমিকা পালন করার জন্য শ্রমিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ‘ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। মালিকের ছেলে মালিক হলে, রাজার ছেলে রাজা হলে, শ্রমিকের ছেলে কেন প্রধানমন্ত্রী হবে না- এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আমার একজন শ্রমিক ভাইয়ের ছেলে কি প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে? নাই। আমরা চাই শ্রমিক ভাই বন্ধুটির ঘর থেকে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী বের হয়ে আসুক। সেই শিক্ষা, সেই পরিবেশ সরকারকে রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ফ্যাসিজমের যাঁতাকলে পিষ্ট বাংলাদেশ চব্বিশের বৈপ্লবিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মুক্তি পেয়েছে। এই আন্দোলনে যারা অংশগ্রহণ করেছেন জীবন দেয়া লোকদের শতকরা ৬২ ভাগ হচ্ছেন শ্রমিক। আর আমরা বাকি সবাই মিলে ৩৮ ভাগ। এটি পৃথিবীর ইতিহাস।

ইসলামের ইতিহাসেও শ্রমিকদের ভূমিকা ও অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মক্কার জীবনে ওই বঞ্চিত শ্রমিকরাই প্রথমে নবী করিম সা:-এর দক্ষিণ হস্ত হিসেবে বুক টান করে দাঁড়িয়েছিলেন। কোনো নির্যাতন তাদের ঈমান থেকে খারিজ করতে পারেনি। তারা ঈমানের পথে অটল ছিলেন অবিচল ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেও একই ঘটনা। ৯০-এর গণ-আন্দোলনেও একই ঘটনা, চব্বিশের গণ-আন্দোলনেও একই ঘটনা। অথচ রাষ্ট্রের কাছে শ্রমিক সমাজের প্রত্যাশা, দাবি ও চাহিদা খুবই মামুলি। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই সামান্যটুকু চাহিদাও তাদের এখন পর্যন্ত কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থা কোনো সরকারই পরিপূরণ করতে পারেনি।

তিনি বলেন, যারা রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনায় যান তারা ওই শ্রমিকদের অঙ্গ থেকে উঠে আসেননি। তারা সোনার চামচ রুপার কাঠি হাতে নিয়ে জন্ম নিয়েছেন। তারা শ্রমিকদের দুঃখ বুঝবে কিভাবে? তাদের বেশির ভাগ ব্যবসায়ী মালিক। ব্যবসায়ী মালিক হওয়া কোনো অপরাধ নয়। ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান খোলা হবে, মিল, ফ্যাক্টরি, ইন্ডাস্ট্রি চালু হবে। জনগণ সেখানে কর্মসংস্থান খুঁজে পাবে। কিন্তু তারা ওই জনগণকে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানবিক মর্যাদাটুকু দিতে ব্যর্থ। তাদের এই নোংরা আচরণের কারণেই রাষ্ট্রীয় দায়িত্বেও যখন যান তখন একই কাণ্ডকারখানা তারা করে। শ্রমিকদের প্রতি তারা সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হন।

শ্রেণিশত্রু খতম করার স্লোগানে জামায়াত বিশ্বাসী নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, লাল পতাকাওয়ালারা বলত শ্রেণী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শ্রেণিশত্রু খতম করতে হবে। এই শ্রেণিশত্রু কারা? যারা মালিক ও উদ্যোক্তা তারা! তো মালিক আর উদ্যোক্তা যদি না থাকে শ্রমিক কাজ করবে কোথায়? তার কর্মসংস্থান হবে কোথায়? আমরা সমন্বয় করতে চাই। শ্রমিক মালিক ভাই ভাই একে অন্যকে সম্মান করবে ভালোবাসবে। শ্রমিক তার কর্মসংস্থানের জন্য মালিকের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে। আন্তরিকভাবে কাজ করবে। আবার মালিক একথা মনে করবে যে তার পুঁজি আর তার যন্ত্রপাতি অচল যদি এই শ্রমিক না থাকে। শ্রমিক বাঁচলে মালিক বাঁচবে, শিল্প বাঁচবে। শ্রমিক যদি না বাঁচে শিল্পেরও মৃত্যু হবে।

জামায়াত আমির বলেন, বিগত নির্বাচনে জাতিকে আমরা বলেছিলাম নেতৃত্ব আমরা তরুণ এবং যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। জামায়াতে ইসলামী থেকে যারা বিভিন্ন জায়গায় আমাদের প্রার্থী হয়েছিলেন তাদের শতকরা ৭০ ভাগের বয়স হচ্ছে ৪২ বছরের নিচে। আমরা তার প্রমাণ রেখেছি। আর আজকেও এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে একজন যুবকের হাতে আমরা মূল চাবিটা তুলে দিলাম। আমরা চাই যৌবনের এই শক্তি জাতি গঠনের কাজে লাগুক।

সরকারের কাছে স্পষ্ট দাবি জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, শ্রমিকরাও এই সমাজের নাগরিক। ভোট শ্রমিকরাও আমাদেরকে দেয়। আপনাদেরকেও দিয়েছে। সুতরাং শ্রমিকদের সব বিষয় মালিকদের ঘাড়ের ওপর ঠেলে দেবেন না। রাষ্ট্রকেও দায়িত্ব নিতে হবে। মালিকরা ইনসাফের ভিত্তিতে তাদের যা করণীয় তা করবে। বাকিটা রাষ্ট্রকে শেয়ার করতে হবে। শ্রমঘন এলাকায় কোনো বিশেষায়িত হসপিটাল নেই। দুই একটা সাধারণ হাসপাতাল থাকলেও সেগুলা চাহিদার তুলনায় কিছুই না। আমরা দাবি করব, শ্রমঘন এলাকাগুলাতে অবশ্যই মানসম্মত সাধারণ হাসপাতাল যেমন থাকবে তেমন বিশেষায়িত হাসপাতালও সরকারকে গড়ে তুলতে হবে। শ্রমিকদের চিকিৎসা সঙ্গতভাবেই এর ব্যয়ভার সরকার ও মালিক পকে শেয়ার করে বহন করতে হবে। কারণ শ্রমিকদেরকে যা বেতন-ভাতা দেয়া হয় তা দিয়ে পেটের যোগানই হয় না, চিকিৎসার খরচ বাঁচাবে কোত্থেকে? পাশাপাশি শ্রমিকদের সন্তানদেরকে মানুষ করা শিক্ষিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব পরিপূর্ণভাবে শুধু সরকারকেই নিতে হবে।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সদ্য বিদায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম প্রমুখ।

সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সদ্য বিদায়ী সভাপতি আ ন ম শামসুল ইসলাম বলেন, আমরা আশা করি শ্রমিক ময়দানে আদর্শিক দ্বীনকে মজবুত করতে এ সম্মেলন মাইলফলকের ভূমিকা পালন করবে। এই সম্মেলন থেকে আমাদের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপসহীন সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার দীপ্ত শপথ গ্রহণ করতে হবে। শ্রমিকদের প্রতি ভালোবাসায় আমাদের সততা ও যোগ্যতার মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠতে হবে। এ দেশের সাড়ে সাত কোটি শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে আমাদের নিরলসভাবে কাজ করে যেতে হবে। আমরা জুলুম করব না। আমরা জুলুম সহ্য করব না। এই নীতিকে ধারণ করে যেকোনো জুলুমের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সোচ্চার হতে হবে। আন্দোলনের পথে আসা সব বাধা বিপত্তি মোকাবেলা করে সাহসিকতার সাথে এগিয়ে যেতে হবে।

সম্মেলনে সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান নতুন সভাপতি এবং লস্কর মোহাম্মদ তসলিম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে আহত নেতাকর্মীদের পাশে জামায়াত আমির

ময়মনসিংহ অফিস জানায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার জনগণের সাথে দেয়া অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে। জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ে এক চুলও ছাড় দেয়া হবে না। এ লক্ষ্যে সংসদের ভেতরে ও বাইরে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখা হবে।

গতকাল শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, জালিয়াতি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসঙ্কেত। জনগণের ভোট ও মতামত উপেক্ষা করে একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। বিরোধী মত দমনে নানা ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, গত ৯ এপ্রিল শেরপুর ও বগুড়ায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগণ একটি সুষ্ঠু পরিবেশ প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু বাস্তবে সেখানে অনিয়ম, কারচুপি ও সহিংসতা ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা সন্ত্রাসে রূপ নেয়। তিনি বলেন, শেরপুর-৩ আসনে এর আগেও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমকে হত্যা করা হয়। এ সময় আরো তিনজন গুরুতর আহত হন, যারা এখনো চিকিৎসাধীন। ওই সহিংসতার কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে পুনঃনির্ধারিত নির্বাচনেও একজন নিহত এবং এক বয়স্ক ব্যক্তিকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনা ঘটে।

জামায়াত আমির বলেন, দেশের রাজনীতিতে অতীতেও সহিংসতা ছিল, তবে সাম্প্রতিক রক্তপাত অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘আর কত রক্ত দিতে হবে?’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনীতিতে সুস্থতা ফিরে আসবে এবং তা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার ভিত্তিতে গড়ে উঠবে।

সংসদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত সংসদে সময়ের অপচয় বা অশালীন আচরণ কাম্য নয়। অতীতে সংসদে জনকল্যাণের চেয়ে চরিত্র হননে বেশি সময় ব্যয় হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, যারা সহিংসতা ও খুনের সাথে জড়িত থেকে সংসদে যেতে চান, তারা জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না। একজন জনপ্রতিনিধির কাজ মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মান রক্ষা করা তা হরণ করা নয়।

ভবিষ্যৎ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচনই মূলভিত্তি। তাই ভবিষ্যতে যেন কোনো সহিংসতা না ঘটে, কোনো মা সন্তানহারা না হন, কোনো নারী বিধবা না হন এবং কোনো শিশু এতিম না হয়-এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা উচিত।

পরে তিনি আহত নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সাথে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল করিম, জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।