হাম ও উপসর্গে আরো ৬ শিশুর মৃত্যু
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
দেশের বিভিন্ন স্থানে হাম ও হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরো ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হাম শনাক্ত হয়ে ঢাকায় মারা গেছে দুই শিশু। আর হাম উপসর্গে খুলনা ও রাজশাহীতে দু’জন এবং সিলেটে দু’জন মারা গেছে। এ সময় নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে এমন শিশুর সংখ্যা এক হাজার ৪৪৫ জন।
গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, হামে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে গত দেড় মাসে সারা দেশে ৩১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৫৪ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২৬৩ জন।
একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) পাঁচ হাজার ৭২৬ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৪২ হাজার ৯৭৯ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৩৬০ জন।
রংপুর ব্যুরো জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো এক শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেল চার শিশু। এ ছাড়াও এই বিভাগে হাম শনাক্ত হয়েছে ৪৫ জনের। গতকাল দুপুরে এই তথ্য জানান রমেক হাসপাতালের হাম চিকিৎসার বিশেষ কমিটির ফোকালপারসন ডাক্তার আ ন ম তানভীর চৌধুরী। তিনি জানান, সোমবার বিকেলে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি শিশু জুনাঈদ মারা গেছে। তার বাড়ি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায়। গত ২৭ এপ্রিল ভর্তি হয়েছিল হাসপাতালে। এর আগে হাসপাতালটিতে হামেরে উপসর্গ নিয়ে মারা যায় লালমনিরহাটের হারহাটি গ্রামের রাকিব মিয়ার ৯ মাসের ছেলে হাসান, কুড়িগ্রামের উলিপুরের সবুজ মিয়ার ২২ মাসের ছেলে জাকির। এই হাসপাতালে সর্ব প্রথম হামের উপসর্গ নিয়ে গত ১৮ এপ্রিল মারা যায় লালমনিরহাট সদরের রিয়াজুল ইসলামের সাত মাসের ছেলে তানজিদ ইসলাম তামিম।
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, হামের ভয়াবহ থাবায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতাল এখন শিশুদের জন্য এক আতঙ্কের নাম। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। সর্বশেষ, হামের উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২৫ জনে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, সোমবার সকাল থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে আরো ১৯ শিশু। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৭৯ শিশু। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই, বরং দিন যত যাচ্ছে, উদ্বেগ ততই বাড়ছে।
সর্বশেষ মৃত ৭ মাসের শিশুটি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বাসিন্দা। গত ৩০ এপ্রিল বিকেলে গুরুতর অবস্থায় মমেক হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও হার্ট ফেইলিউর মিলেই শিশুটির প্রাণ কেড়ে নেয়।
মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের হাম মেডিক্যাল দলের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা: মোহা: গোলাম মাওলা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে ৫ মে সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট এক হাজার ৮৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে আরো ২১ শিশু। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯৮৪ শিশু।