নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের ৪০ লাখ টাকার কাজে অনিয়ম
Printed Edition
পিরোজপুর প্রতিনিধি
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের বিশেষ বরাদ্দের প্রায় ৪০ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র (ফাইল) গায়েব করার অভিযোগ করা হয়েছে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী (সিএ) ইয়াসির আরাফাতের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় তিনটি প্রকল্পে মোট ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়। এর মধ্যে ডরমেটরি ভবনের সংস্কারের নামে ১০ লাখ টাকা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনের সামনের সড়ক উন্নয়নের নামে ২০ লাখ টাকা এবং ইউএনও কার্যালয় সংস্কারের নামে আরো ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রকল্পে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে অধিকাংশ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, ডরমেটরি ভবনের সংস্কার কাজটি উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম শফিকের মালিকানাধীন ‘শফিক এন্টারপ্রাইজ’-এর লাইসেন্সে, ইউএনও বাসভবনের সামনের সড়কের কাজটি মেসার্স খান এন্টারপ্রাইজের নামে এবং ইউএনও অফিস সংস্কারের কাজটি কাউখালীর মেসার্স আল মাহামুদ এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্সে দেখানো হয়। বাস্তবে এসব কাজ দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করলেও প্রভাবশালী মহলের কারণে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী রাইসুল ইসলাম (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বলেন, ‘এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।’
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে রাব্বির সময় উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের মাধ্যমে বিল উত্তোলন করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সাথে কথা বললে তারা দাবি করেন, তারা শুধু লাইসেন্স দিয়েছেন, বাস্তবে কাজ হয়েছে কি না বা বিল উত্তোলন করা হয়েছে কি না, তা তারা জানেন না এবং এখন পর্যন্ত তারা কোনো চেক গ্রহণও করেননি।
অভিযোগে আরো রয়েছে, বিধিবিধান উপেক্ষা করে আরএফকিউ দেখিয়ে সীমিত দরপত্রের মাধ্যমে এসব কাজের অনুমোদন নেয়া হয় এবং নামসর্বস্ব পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে কার্যক্রম সম্পন্ন দেখানো হয়। পরবর্তী সময়ে এসব কাজের নথিপত্র সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে গায়েব করা হয়। সম্প্রতি উপজেলা পরিষদে অডিট টিম এলে প্রয়োজনীয় ফাইল দেখাতে ব্যর্থ হয় কর্তৃপক্ষ।
অডিট টিমের একজন সদস্য নূরে আলম জানান, তদন্তে একাধিক প্রকল্পে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। কাজ না করেই বিল উত্তোলন, প্রকল্পের অস্তিত্ব না থাকা এবং নথিপত্রের অসঙ্গতির বিষয়গুলো উল্লেখ করে তিনি একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে দফতরে জমা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে তৎকালীন ইউএনও ফজলে রাব্বি বলেন, অফিসের ফাইল বাইরে নেয়ার প্রশ্নই আসে না। উপজেলা প্রকৌশলীর স্বাক্ষর ছাড়া কোনো ফাইলে তিনি স্বাক্ষর করেননি বলেও দাবি করেন। তবে কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল উত্তোলনের বিষয়ে তিনি খোঁজ নিয়ে জানানোর কথা বলেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের সিএ ইয়াসির আরাফাতের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে অসুস্থ দাবি করে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাজিয়া শাহনাজ তমা বলেন, ‘আমি সদ্য যোগদান করেছি। এসব কাজ আমার যোগদানের আগের, তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা নেই।’
এ দিকে সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল।