২০ ফেব্রুয়ারি শুরু বইমেলা নিয়ে ষড়যন্ত্র
Printed Edition
আবুল কালাম
একুশে গ্রন্থমেলা নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। নির্বাচনের কারণে ১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ২০ ফেব্রুয়ারি মেলা অনুষ্ঠানে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটি গ্রুপ অপতৎপরতা চালাচ্ছে। জানা গেছে, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলে একটি গণমাধ্যম সাংস্কৃতিক উপদেষ্টার ওপর অসন্তুষ্ট রয়েছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাকে ব্যর্থতার তকমা দিয়ে বেকায়দায় ফেলতে অভিযুক্ত গণমাধ্যমসংশ্লিষ্টদের উসকানিতে প্রকাশকদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। ফলে শুরুতে মেলা অনুষ্ঠানে সরকারি সিদ্ধান্তে সব প্রকাশক সম্মত থাকলেও গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালকের নিয়োগ বাতিলের পর কিছু অজুহাত সামনে এনে প্রকাশকদের একটি অংশ নির্ধারিত সময়ে মেলা শুরুর বিরোধিতা করছে। এতে আয়োজক প্রতিষ্ঠান কিছুটা বেকায়দায় পড়লেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়েই মেলা হবে বলে বাংলা একাডেমি জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রেওয়াজ অনুযায়ী বইমেলা ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই হয়ে আসছিল। তবে বিগত সরকারের সময় থেকে করোনাসহ রাষ্ট্রীয় নানান বিধিনিষেধে মেলা অনুষ্ঠানে একাধিকবার ব্যত্যয় ঘটে। তখন কোনো প্রকাশক এর বিরুদ্ধে সরব ছিলেন না। সরকার বদলের পর গত বছর যথাসময়ে মেলা হয়েছে। এবারো তেমন সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু নির্বাচন ঘিরে সরকার মেলা পিছিয়ে দেয়ার অনুরোধ করে। এরপর সব প্রকাশকদের সাথে আলোচনা করে সবার সম্মতিতে মেলা পিছিয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি শুরুর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। তবে এর মধ্যে প্রকাশকরা মেলার স্টল ভাড়া কমানোর দাবি করলে কর্তৃপক্ষ তা মেনে নিয়ে মেলার প্রস্তুতি শুরু করে। কিন্তু হঠাৎ করে প্রকাশকদের একটি অংশ নানান অজুহাতে মেলা পেছানোর দাবি তোলে।
তাদের ভাষ্য, মূলত জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের ঘটনা প্রকাশকদের মধ্যে বিভক্তির কারণ। এর পেছনেই ইন্ধনদাতা একটি গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষ। আফসানা বেগমের নিয়োগ বাতিলে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম ইন্ধনে প্রকাশকদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টির মাধ্যমে আফসানার নিয়োগ বাতিলের প্রতিশোধ নিতে মেলা বন্ধের ষড়যন্ত্র হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে সাংস্কৃতিক উপদেষ্টাকে ব্যর্থ প্রমাণে প্রকাশকদের উসকে দেয়া হয়েছে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, মেলা নিয়ে ষড়যন্ত্রের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সংস্কৃতি উপদেষ্টা তারিখ আর না পেছানোর সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। কারণ সার্বিক বিবেচনায় তিনি প্রায় নিশ্চিত যে, এখন মেলা না হলে এবার আর সম্ভব হবে না। যার ব্যর্থতার দায় তাকে নিতে হবে। সেই উপলব্ধি থেকে তিনি মেলা পেছানোতে সম্মত ছিলেন না।
মেলা নিয়ে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘এ বিষয়টি আমরা বলতে পারব না। এটি আপনারা খুঁজে বের করবেন’। তবে নির্বাচনের পর ফেব্রুয়ারির ২০ তারিখেই মেলা শুরু হবে বলে তিনি জানান। প্রকাশকদের দাবির পরিপ্রেেিত গত বছরের তুলনায় স্টলভাড়া ২৫% কমানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে গতকাল আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব সেলিম রেজা লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত বছর যেসব প্রকাশনা সংস্থা মেলায় অংশগ্রহণ করেছিল, তাদের মধ্য থেকে ৫২৭টি এবং নতুন ৫৩টি প্রতিষ্ঠান এবার বইমেলায় অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করে স্টলের জন্য আবেদন করেছে। ইতোমধ্যে পুরনো ৫২৭টি এবং নতুন ২৪টি প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি শতাধিক প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশগ্রহণের জন্য স্টল বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। প্রকাশকদের একটি অংশ থেকে বইমেলা ঈদের পর আয়োজনের দাবি জানানো হলেও মেলার তারিখে কোনো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সেলিম রেজা জানান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বইমেলা আয়োজনের কাজ যখন প্রায় ৬০ ভাগ সম্পন্ন, তখন কিছু সম্মানিত প্রকাশক ঈদের পর বইমেলা আয়োজন করার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছেন। আমরা প্রকাশকদের বক্তব্য শুনেছি। তাদেরকে বলা হয়েছে, কেন ঈদের পর বইমেলা আয়োজন করা দুরূহ। ‘তখন এপ্রিল মাস এসে যাবে। এপ্রিল মাসে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ থাকে। ধুলোবালির উপদ্রব বাড়ে। কালবৈশাখীসহ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা থাকে প্রবল। এই সময় মাসব্যাপী বইমেলার আয়োজন করা বাস্তবসম্মত নয়।’
সংবাদ সম্মেলন থেকে মেলার সময় নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশকারী প্রকাশকদের অনুরোধ করা হয়, তারা যেন কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও বইমেলায় অংশ নিতে এগিয়ে আসেন।