কিশোরগঞ্জ-২ এ নির্বাচনী অঙ্গীকার

Printed Edition

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) সংসদীয় আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের প্রচারণায় জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। নির্ধারিত সময়ের শুরু থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে বিরামহীনভাবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। পথসভা, গণসংযোগ, মিছিল ও উঠান বৈঠকে এখন একটাই সুর- পরিবর্তন ও উন্নয়নের অঙ্গীকার।

এ আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে একজনের রয়েছে সংসদ সদস্য হিসেবে পূর্ব অভিজ্ঞতা। অন্যরা সবাই নতুন মুখ। প্রচার-প্রচারণা ও জন-আলোচনায় এখন পর্যন্ত তিনজন প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো: জালাল উদ্দিন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মোড়ল (দাঁড়িপাল্লা) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মুফতি আবুল বাশার রেজওয়ান (হাতপাখা)।

অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- গণ অধিকার পরিষদের মো: শফিকুল ইসলাম (ট্রাক), স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আনিসুজ্জামান খোকন (ময়ূর), স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুদ্দীন আহম্মেদ (মোটরসাইকেল), বিএনএফের বিল্লাল হোসেন (টেলিভিশন) ও জাতীয় পার্টির আফজাল হোসেন ভূঁইয়া।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আনিসুজ্জামান খোকনের রয়েছে সংসদ সদস্য হিসেবে অতীত অভিজ্ঞতা। তিনি ১৯৭৯ সালে বিএনপি মনোনীত ময়মনসিংহ-১৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সে সময় তিনি দলের গণশিাবিষয়ক সহসম্পাদক ছিলেন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। অন্য প্রার্থীদের সংসদীয় অভিজ্ঞতা নেই।

দলীয় কোন্দল না থাকায় বিএনপি প্রার্থী মো: জালাল উদ্দিন তুলনামূলকভাবে ঐক্যবদ্ধ দলীয় সমর্থন পাচ্ছেন। কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া- দুই উপজেলাতেই প্রতিদিন দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে তিনি গণসংযোগ ও প্রচার মিছিলে অংশ নিচ্ছেন। দলের কঠিন সময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকার কারণে নেতাকর্মীদের কাছে তার একটি পরিচ্ছন্ন ও ত্যাগী ভাবমূর্তি রয়েছে।

এ দিকে শেষ পর্যায়ে ১১ দলীয় রাজনৈতিক সমঝোতা থেকে বেরিয়ে এককভাবে নির্বাচনে নেমেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির প্রার্থী মাওলানা মুফতি আবুল বাশার রেজওয়ান নতুন মুখ হলেও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি পরিচিত। করোনা মহামারীর সময় ঢাকায় ঝুঁকি নিয়ে লাশ দাফন এবং ফেনীর বন্যায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করে তিনি আলোচনায় আসেন। পরে নিজ এলাকায় ফিরে ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিলে তাকে প্রার্থী করা হয়।

দলটির দীর্ঘ দিনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থাকায় হাতপাখা প্রতীক এ আসনে পরিচিত। কর্মীরা গ্রামে গ্রামে ছোট ছোট দলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। মাওলানা আবুল বাশার রেজওয়ান বলেন, ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়ন ও স্বচ্ছ রাজনীতির জন্য আমরা নির্বাচন করছি। নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে কোনো আপস নেই। সচেতন মানুষ আমাদের সমর্থন দিচ্ছেন।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৩২ হাজার ৫১৬ জন। এখানে ১৭০টি ভোটকেন্দ্র ও ৯৮৮টি ভোটক রয়েছে, যার মধ্যে ৫১টি অস্থায়ী। সব মিলিয়ে পরিবর্তনের প্রত্যাশা, আদর্শিক লড়াই ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের নির্বাচন হয়ে উঠছে বহুমাত্রিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।