কুতুবদিয়া-মহেশখালীকে সিঙ্গাপুর হিসেবে গড়ে তোলা হবে : ডা: তাহের

Printed Edition
Back------2
চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা করেন ডা: সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের : নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশে দিল্লির তাঁবেদারি সরকার বসতে পারবে না : নাহিদ ইসলাম

কক্সবাজার অফিস

জামায়াতের নায়েবে আমির ডা: সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, কক্সবাজারের মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কুতুবদিয়া এবং মহেশখালী উপজেলা অর্থনৈতিক, ভৌগোলিক এবং নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। ওয়ার স্ট্রথ্যাটেজিতে দু’টি জিনিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটা হচ্ছে সি কানেক্টিভিটি বা সমুদ্র যোগাযোগ আর অর্থনৈতিক েেত্রও সি কানেক্টিভিটি অত্যন্ত জরুরি।এই দুটোই আমাদের কুতুবদিয়া-মহেশখালীতে আছে। একই বৈশিষ্ট্যের ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্র সিঙ্গাপুর পৃথিবীর বুকে অর্থনৈতিক নেতৃত্ব দিচ্ছে। ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করতে সম হলে আমরা মহেশখালী এবং কুতুবদিয়াকে দুটো ভিন্ন ভিন্ন সিঙ্গাপুর হিসেবে গড়ে তুলব।

তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কুতুবদিয়ার বড়ঘোপের সৈকত মাঠে জোট প্রার্থী ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের সমর্থনে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন সেই গুরুত্বের দিক বিবেচনা করে এখানে কয়েকদিন আগে জামায়াতের আমির এসেছেন এবং আজ এনসিপি নেতা নাহিদসহ আমরা এসেছি জোট প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদের জন্য আপনাদের সমর্থন চাইতে। ১১ দলীয় জোটের প থেকে আমরা যাকে নমিনেশন দিয়েছি, তিনি আগের এমপি ছিলেন। কোনো দুর্নীতি করেননি।

তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট যদি সরকার গঠন করে তাহলে আপনাদের ছেলে হামিদুর রহমান আযাদ শুধু এমপি নয়,পূর্ণ মন্ত্রী হবেন।

ডা: তাহের দাঁড়িপাল্লায় ভোটের সাথে হ্যাঁ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে। নির্বাচনে যদি কারচুপি হয়, কোনো ষড়যন্ত্র হয়, তাহলে এই জাতি সেটাকে রুখে দেবে সেই নির্বাচনকে কোনোভাবে মেনে নেবে না।

তিনি সরকার নির্বাচন কমিশনকে অত্যন্ত নিরপে এবং দৃঢ় ভূমিকা পালন করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন জাতিকে উপহার দেয়ার দাবি জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা আজকের এই বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছি, স্বাধীনভাবে কথা বলছি, মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার কথা ভাবছি, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার এবং ভোট প্রদানের কথা ভাবছি। কিন্তু একটি দল ভুলে গেছে তারা আজকে কোন প্রক্রিয়ায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। কাদের রক্তের উপর দিয়ে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে এবং ভোট চাচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের ফলেই এই নির্বাচন সম্ভব হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের ফলেই আমরা নতুন বাংলাদেশ, নতুন কুতুবদিয়া তৈরি করার স্বপ্ন দেখতে পাচ্ছি। তিনি বলেন এই দ্বীপে অনেক কষ্টে আপনাদেরকে জীবনযাপন করতে হয়।

চিকিৎসার সুব্যবস্থা নাই, কর্মসংস্থানের সুব্যবস্থা নাই, শিার সুব্যবস্থা নাই। গত ১৬ বছর ধরে তৈরি হয়েছিল লুটপাট, টাকা পাচার এবং মানুষের উপর জুলুম। সেই সবকিছুকে মাড়িয়ে আপনারা রাজপথে এসে জীবন দিয়ে, নতুন বাংলাদেশ তৈরি করেছেন এই কুতুবদিয়া মহেশখালীর জনগণ।

আমরা সেই ইতিহাস ভুলি নাই। আমরা আশা করি আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি আপনারা আর আমরা মিলে আরেক নতুন ইতিহাস তৈরি করব ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন- কুতুবদিয়া, মহেশখালী, এই জায়গার লবণচাষিরা ন্যায্যমূল্য পায় না। পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ উৎপাদন সত্ত্বেও লবণ বিদেশ থেকে আমদানি করার ষড়যন্ত্র আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, লবণ কেন বাইরে থেকে আমদানি করব? লবণ আমরা আমদানি করব না, লবণ এবার আমরা রফতানি করব এবং আমার কুতুবদিয়ার লবণচাষিরা ন্যায্যমূল্য পাবে, অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। এটা সম্ভব একমাত্র হামিদুর রহমান আযাদের হাত ধরে। আযাদ ভাই যদি নির্বাচিত হন, এই কুতুবদিয়ার লবণচাষিরা, পানচাষিরা, মৎস্যজীবীরা তারা ন্যায্যমূল্য পাবে, তারা ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারবে। নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি বাংলাদেশকে আধিপত্যবাদ থেকে দখলমুক্ত করার জন্য, ফ্যাসিবাদ থেকে দুর্নীতিবাজ লুটেরাদের থেকে দখলমুক্ত করার জন্য। আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছি, বাংলাদেশের সরকার গঠন করবে, বাংলাদেশে কে নির্বাচিত হবে, কে সরকারে যাবে তা নির্ধারণ করবে বাংলার জনগণ। দিল্লি থেকে কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেয়া হবে না। বাংলাদেশে আর কখনোই দিল্লির তাঁবেদারি সরকার বসতে পারবে না। তবে বাংলাদেশের সেই আজাদির লড়াই, সেই সার্বভৌমত্বের লড়াইয়ের জন্যই কিন্তু এই ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। আপনারা প্রস্তুত হন।’

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, কুতুবদিয়া মহেশখালীর উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছি। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেছি এবার নির্বাচিত হলে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ফেরিঘাট চালুসহ আধুনিক অর্থনৈতিক এলাকা গড়ে তুলব। কুতুবদিয়া জামায়াতের আমির আ স ম শাহরিয়ার চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন- খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ নেজামে ইসলামী পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহারসহ স্থানীয় নেতারা।

‘একটি দল নতুন করে জালিম হয়ে উঠছে’

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি ডা: সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, জাতীয় সংসদের আগের ১২টি নির্বাচনের বৈশিষ্ট্য ছিল মতার পালাবদল। অতীতের সরকারগুলো মতায় বসে দুর্নীতি করেছে। দুর্নীতি এখন বাংলাদেশের এক নাম্বার সমস্যা। এই নির্বাচন হচ্ছে দুর্নীতি প্রতিরোধ, জুলুমতন্ত্র ও চাঁদাবাজদের থেকে বাঁচার নির্বাচন। অথচ একটি দল নতুন করে জালিম হয়ে উঠছে।

তিনি আরো বলেন, আগামী নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কবর রচনা হবে। নতুন বাংলাদেশে সবাই স্বাধীনভাবে চলাফেরা করবে। তাই, উন্নয়নের জন্য সবাই দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিন। ডা: তাহের গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা জাফর আহমেদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি শাখাওয়াত হোসেন শামীমের পরিচালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন- জামায়াতের কুমিল্লা দণি জেলা আমির অ্যাডভোকেট মু. শাহজাহান, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আমির মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, পৌরসভার আমির মাওলানা মু. ইব্রাহিম, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা নুরুজ্জামান খোকন, ইকবাল হোসেন মজুমদার, এমদাদুল হক শাহী, রুহুল আমিন ও আবুল খায়ের, এনসিপির গণভোটের প্রচারণার অ্যাম্বাসেডর আবু সুফিয়ান, খেলাফত মজলিসের উপজেলা আমির মাওলানা শাহজালাল, এনসিপির চৌদ্দগ্রাম উপজেলার যুগ্ম সমন্বয়ক মামুন মজুমদার, ছাত্রশিবিরের কুমিল্লা দণি জেলার সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম মোল্লা, মুন্সিরহাট ইউনিংন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, শহীদ জামশেদুর রহমানের চাচা আইয়ুব মিয়াজী, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ডা: মিহির নাথ লিটন প্রমুখ। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- হাফেজ বদিউল আলম, ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন, বাহাদুর হোসাইন, জামায়াত নেতা মো: ইসরাফিল প্রমুখ।