জনশক্তি রফতানির ক্ষেত্রে নানা কারণে কিছুটা নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি দেশের বৃহত্তম শ্রমবাজার সৌদি আরবে কর্মী যেতে পারছেন কম। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। বলা হচ্ছে, এক মাসের ব্যবধানে শুধু সৌদি আরবে ৫০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক কম গেছেন।

গত মঙ্গলবার নয়া দিগন্তের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন অর্ধলক্ষাধিক কর্মী। তাদের ভিসা, বিমান টিকিট ও অন্যান্য কাজ সম্পন্ন হলেও যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে শুধু জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ (বিএমইটি) বিভাগের বহির্গমন ছাড়পত্র না পাওয়ায়। বিলম্বের কারণে অনেক কর্মীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অথবা শেষ হওয়ার পথে।

এ বিষয়ে প্রতিবেদনে জনশক্তি রফতানিকারক এবং বিএমইটির কর্মকর্তাদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। জটিলতার মূল কারণ, অভিবাসনপ্রত্যাশী কর্মীর ভিসা, চুক্তি মোতাবেক কাজ, বেতন পাওয়ার নিশ্চয়তা সম্পর্কে সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সত্যায়ন আনতে বলছে বিএমইটি। সৌদি আরবে গিয়ে কর্মীরা যাতে প্রতারণা অথবা বঞ্চনার শিকার না হন তা নিশ্চিত করতে এ নিয়ম। কিন্তু জনশক্তি ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া, এমনকি আন্দোলনে নামার কথাও বলছেন।

বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশের শ্রমবাজার যাতে নষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু তার চেয়েও বড় বিষয়, আমাদের বিবেচনায় কর্মীদের স্বার্থের সুরক্ষা দেয়া। কারণ, এর সাথে শুধু কর্মীর স্বার্থ নয়, দেশ ও জাতির ভাবমর্যাদাও জড়িত। বাংলাদেশের অভিবাসী কর্মীরা অহরহ হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হন। অনেকে ভিসা জটিলতায়, নামসর্বস্ব কোম্পানির নামে ভুয়া চুক্তিতে গিয়ে জেল জুলুমের শিকার হন। দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হন। ফলে জায়গা জমি বিক্রি করে, শেষ সম্বল খুইয়ে এমনকি ধারদেনা করে বিদেশে যান। প্রতারিত হয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। এ বিষয়গুলো দেখার দায়িত্ব অবশ্যই বিএমইটির।

স্বাভাবিকভাবে তারা এ বিষয়ে স্বচ্ছতা আনতে কাজ করবে। সে জন্য বিএমইটি জনশক্তি রফতানিকারকদের বিষয়টি আমলে নিয়ে নতুন নিয়ম চালু করেছে, যাতে চাকরিদাতা কোম্পানিকে দূতাবাসে এসে সত্যায়ন নিতে না হয়। কোম্পানিকে শুধু অনলাইনে একটি নির্দিষ্ট অ্যাপে কর্মীর চাহিদা প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু এ সহজ নিয়মটুকু মানতে চাচ্ছে না কেউ। অবস্থা এমন যে, কোনো নিয়মের ধার না ধেরে তারা যেভাবে এতদিন চলেছেন সেভাবে চলবেন।

আমরা বলতে চাই, জনশক্তি রফতানির বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। যেসব রফতানিকারক নিয়ম মানবেন না তাদের ব্যাপারে কঠোর হওয়ার দরকার আছে। কারণ, নামসর্বস্ব অথবা ভুয়া কোম্পানি সৌদি আরবেও আছে। একটি দু’টি নয়, অসংখ্য। আমাদের হাজার হাজার কর্মী এদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই এভাবে চলতে পারে না। আমরা চাই বিদেশে গিয়ে কোনো কর্মী যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন।

দেশের ভাবমর্যাদা সমুন্নত রেখে সবাইকে নিয়ম-কানুনের মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে যারা ব্যর্থ হবেন, তারা নিজে থেকে সরে না দাঁড়ালে; সবার ভালোর জন্য তাদের সরিয়ে দিতে হবে।