মেট্রোরেলে যাতায়াতে নগরবাসীর জীবনে ভোগান্তি কমালেও এই স্থাপনার নিচের অংশজুড়ে এখন বাসা বেঁধেছে ভবঘুরে, মাদকসেবী অপরাধী চক্র ও ভাসমান মানুষ। ফলে মেট্রোরেলে নিচের অংশে চলাচল করা পথচারীদের মধ্যে নিরাপত্তা সঙ্কটে আতঙ্ক কাজ করছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেট্রোরেলের নিচে নেশাগ্রস্তদের দ্বারা প্রতিনিয়তই ঘটছে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। ঘটছে ধর্ষণের মতো ঘটনাও। মেট্রোরেল লাইনের নিচের ফাঁকা জায়গা গাছ লাগানোর জন্য নির্ধারিত ছিল। প্রথম দিকে কিছু গাছপালা লাগানো হয়েছিল; কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে সেগুলো নষ্ট করে ফেলেছে নেশাগ্রস্তরা। মেট্রোরেল স্থাপনার বিভিন্ন অংশে পলিথিন ও কাপড় দিয়ে ঘর তৈরি করে সেখানে তারা গাদাগাদি করে থাকছে। দিনের বেলায় তারা এসব ঘরে ঘুমায়, আর রাতে চলে মাদক সেবনের আড্ডা। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চুরি, মাদক কারবারসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড চালায় এখানে আশ্রয় নেয়া নেশাগ্রস্তরা।
উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের একটি বড় অংশজুড়ে মাদকসেবী এসব অপরাধীর অবস্থান নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাড়তি নিরাপত্তা সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। রাজধানীতে বেশ কিছু দিন থেকেই ছিনতাই ও চুরির ঘটনা লক্ষ করা যাচ্ছে। সরকার মেট্রোরেলের নিরাপত্তা রক্ষায় এমআরটি পুলিশ নামে পুলিশের বিশেষ ইউনিট গঠন করেছে; কিন্তু এমআরটি পুলিশ মেট্রোরেলের নিচে বাস করা ভবঘুরে, মাদকসেবী অপরাধী ও ভাসমান মানুষের বিষয়ে কাজ করে না।
সম্পদের অসম বণ্টন, মুষ্টিমেয় মানুষের সম্পদের কুক্ষিগতকরণ ও প্রতিনিয়ত আয়বৈষম্যের কারণে সমাজের একশ্রেণীর মানুষ দিনের পর দিন অবহেলিত ও প্রান্তিক স্তরে থেকে যাচ্ছে। অন্য দিকে অপর একশ্রেণীর মানুষের কাছে সম্পদ পুঞ্জীভূত হচ্ছে। তাই সমাজে ধনী ও দরিদ্রের ভেদাভেদ দিন দিন প্রকট হচ্ছে। ছিন্নমূল মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। প্রান্তিক পর্যায়ের সুবিধাবঞ্চিত এসব মানুষই হচ্ছে ভবঘুরে, মাদকসেবী অপরাধী ও ভাসমান। এই সমস্যা বিশ্বব্যাপী।
অর্থনীতির পণ্ডিতরা বলেন, পুঁজি মানুষকে চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে। পুঁজির জোরেই পুঁজিপতিরা সমাজে তাদের উঁচু অবস্থানে অনড় রাখতে পারছেন। আর রাষ্ট্রও পুঁজিপতিদেরই বেশি সমাদর করে। সমাজের ধনিক শ্রেণীর মানুষের জন্য রাষ্ট্র যতটা সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে প্রান্তিক স্তরের মানুষের জন্য তা করে না। সমাজের ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমিয়ে আনতে রাষ্ট্রকেই উদ্যোগী হতে হবে। অন্যথায় দরিদ্র ও প্রান্তিক স্তরের মানুষকে কেন্দ্র করে ভবঘুরে, মাদকসেবী অপরাধীরা অশান্তি ও নিরাপত্তহীনতা বাড়াবে।
ঢাকার মেট্রোরেলের ভবঘুরে ও মাদকসেবী অপরাধীদের থেকে পথচারীদের সুরক্ষা দেয়া নগর প্রশাসনের দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সহায়তায় নগর প্রশাসনকে এটি করতে হবে। মাদকসেবীদের আস্তানাগুলো ভেঙে দিতে হবে। মেট্রোরেলের যেসব জায়গায় পথচারীদের নিরাপত্তা সঙ্কট বেশি সেসব জায়গায় রাতে পুলিশি টহল জোরদার করা দরকার। নগরবাসীর স্বস্তির জন্য রাজধানীর ভবঘুরে ও মাদকসেবী অপরাধীদের দমন করতে হবে। চিন্তা করতে হবে তেমনি এ সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান নিয়েও। রাষ্ট্র ও সমাজের নেতৃত্বস্থানীয় বোদ্ধা মহলকে এগিয়ে আসতে হবে এ কাজে।