আর্থিক সহায়তার জন্য সমাজসেবা কার্যালয় বরাবর আবেদন করেছিলেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতেল ইউনিয়নের চিতেশ্বরী গ্রামের ইসমাইল হোসেন। মেয়ে ইসমত আরা জানান, ফুসফুস ক্যান্সারে ভুগছিলেন তার বাবা। বিদেশে থাকা বড় ভাইয়ের পাঠানো বেতনের সব টাকা চিকিৎসার পেছনে খরচ করেও কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে সাত লাখ টাকা সুদে ঋণ নিয়েছেন তারা। চিকিৎসারত অবস্থায় ২০২২ সালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় সমাজসেবা কার্যালয় বরাবর চিকিৎসাসহায়তার আবেদন করা হয়েছিল। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ বছরের ১৩ মে সমাজসেবা কার্যালয় থেকে চিকিৎসাসহায়তা বাবদ ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দেয়া হয়। একটি সহযোগী দৈনিকের মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতার প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চিকিৎসাসহায়তা চেয়ে আবেদনের ২-৩ বছর পার হওয়ার পর আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন এমন ১০ জনের তথ্য প্রতিবেদক পেয়েছেন। প্রত্যেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের নামে বরাদ্দ হওয়া চেক সম্প্রতি ওয়ারিশদের হাতে তুলে দেয় সমাজসেবা কার্যালয়।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বলেছেন, বছরে উপজেলায় ৪০০-৪৫০টি আবেদন জমা হয়, বরাদ্দ আসে ১০০-১১০ জনের মতো। বাছাইকৃতদের বরাদ্দ দিতে সময় লেগে যায়। উপজেলা কমিটি গঠন, সিভিল সার্জন-নির্ভর না হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে এ কাজে যুক্ত করা গেলে চিকিৎসাসহায়তা দ্রুত ও অধিকতর মুমূর্ষুদের বাছাই করা সহজ হতো। সমাজসেবা অধিদফতরের জেলা উপপরিচালক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় এমনটি হচ্ছে। প্রক্রিয়াগত কারণেও কিছুটা বিলম্ব হয়। আমরা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি, যাতে ভবিষ্যতে চিকিৎসাসহায়তার বিষয়টি সহজীকরণ করা যায়।’

জীবনের কোনো প্রয়োজন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কিংবা কোনো নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা করে না। অসুস্থতায় রোগীর চিকিৎসা তেমনি একটি প্রয়োজন। আমরা এখনো নাগরিকদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পারিনি। যে কারণে কেউ অসুস্থ হলে সুচিকিৎসায় তাকে কখনো কখনো বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হয়। অনেকে সুস্থতার জন্য চিকিৎসা করতে গিয়ে নিঃস্বও হয়ে পড়েন। এই বাস্তবতা গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-নগরে-সবখানে। আর এ বাস্তবতায় উপনীত হয়ে মানুষ সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্যের জন্য দ্বারস্থ হন। সরকারকেও তার নানাবিধ সীমাবদ্ধতার মধ্যে জনগণের এ চাহিদা মোকাবেলা করতে হয়। কিন্তু অসুস্থ মানুষের চিকিৎসায় সরকার যে অর্থ বরাদ্দ দেয় তা যদি যথাসময়ে না দিয়ে রোগী মারা যাওয়ার পর দেন; তাহলে তার থেকে দুঃখের বিষয় আর কী হতে পারে? কারণ, জীবিত মানুষের প্রয়োজন থাকে। মৃত মানুষের নয়। জীবিত মানুষের জন্য বরাদ্দ মারা যাওয়ার পরে দেয়া মানুষের প্রতি প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়।

সঙ্গত কারণে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সরকারের বরাদ্দ করা অর্থ যথাসময়ে প্রকৃত হকদারকে দিতে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে; তার অবসান হওয়া দরকার। স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।