পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার জমানায় প্রকৃত বাস্তবতায় পরিকল্পিতভাবে শিক্ষার বারোটা বাজানো হয়েছে। তৎকালীন সব পাবলিক পরীক্ষার ফল ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখানোর প্রবণতা ছিল ব্যাপক। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ফল ভালো দেখাতে উত্তরপত্র যথাযথ মূল্যায়ন না করে ছাড় দিয়ে দেখা ছিল সরকারের অলিখিত নীতি।

এই দু’টি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা যেত; প্রায় শতভাগ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। সেই সাথে সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ ৫-এর ছিল ছড়াছড়ি। কিন্তু মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে খুব ভালো ফল করেও মেডিক্যাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী পাস মার্ক পেতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে শিক্ষার মানের অবনতির বিষয়টি ফুটে উঠলেও সরকারের তরফ থেকে দাবি করা হতো শিক্ষা গুণে-মানে শনৈঃশনৈঃ উন্নতি করছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ফল ভালো দেখানোর মাধ্যমে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন। দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে ভারতের নাগরিকদের সুবিধা করে দেয়াও ছিল এর সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য। লক্ষণীয় বিষয় হলো- দেশে লাখো উচ্চ শিক্ষিত বেকার থাকলেও দক্ষ জনবলের বড় অভাব রয়েছে। বিশেষ করে আমাদের তৈরী পোশাক শিল্পে মাঝারি থেকে শীর্ষপর্যায়ের জনবলে ভারতীয়দের দাপট চোখে পড়ার মতো। মূলত দিল্লির তাঁবেদার শেখ হাসিনা নিজের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে দেশের শিক্ষাসহ সব খাত ধ্বংস করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থা যে ভালো নেই, তা প্রকাশ পেয়েছে এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল অবনতিতে। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় গত বৃহস্পতিবার। দেখা যাচ্ছে, এবার পাসের হার এবং জিপিএ ৫ দু’টিই কমেছে। এ বছর পাসের হার ৬৮.৪৫ শতাংশ। গতবার এ হার ছিল ৮৩.০৪ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হার কমেছে ১৪ শতাংশের বেশি। একই সাথে এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। গত বছর ছিল এক লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন। চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৯ লাখ ২৮ হাজার ১৮১ জন। এদের মধ্যে পাস করেছে ১৩ লাখ তিন হাজার ৪২৬ শিক্ষার্থী। অকৃতকার্য হয়েছে ছয় লাখ ৬৬০ জন।

এবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় যে ফল খারাপ হয়েছে; এর কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে, যা অস্বীকার করার উপায় নেই। সেগুলো হলো- বর্তমান সরকার কোনো সুবিধা নিতে পরীক্ষার ফল ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখানোর চেষ্টা না করা। বরং তাদের চেষ্টা ছিল প্রকৃত ফল কিভাবে পাওয়া যায়। পেশাদারত্বের সাথে উত্তরপত্রের যথাযথ মূল্যায়ন। এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের গত পাঁচ বছরের শিক্ষাজীবনে করোনা মহামারীসহ নানা কারণে বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠ কম পাওয়া। উল্লেখিত কারণে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল অবনতি হয়েছে।

সঙ্গতকারণে শিক্ষাবিদদের মতো আমরাও মনে করি, এবার মাধ্যমিকে শিক্ষার্থীরা যে ফল পেয়েছে; এটি আমাদের শিক্ষার প্রকৃত চিত্র। এখন প্রয়োজন হলো- মাধ্যমিকের ফল পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের মাধমে দুর্বলতা শনাক্ত করে টেকসই শিক্ষার ভিত গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেয়া।